শিরোনাম

বিপুল ইসলাম
লালমনিরহাট, ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে লালমনিরহাট জেলা শহরের বিভিন্ন সড়ক, ফুটপাত ও গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে গড়ে উঠেছে ইফতার সামগ্রীর অস্থায়ী বাজার।
বিকেল বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শহরের নিয়মিত ব্যস্ততার সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে রমজানের বিশেষ আমেজ। ক্রেতাদের উপস্থিতি বাড়ায় জমে উঠছে বেচাকেনা।
আজ মঙ্গলবার দুপুর থেকে শহরের মিশন মোড়, গোসালা বাজার, সেনামৈত্রী হকার্স মার্কেট, জেলা পরিষদ মার্কেট, কলেজ বাজার, বানভাসা মোড়, হাড়িভাঙ্গা, বিডিআর গেট, নয়ারহাট, বাটামোড়, জজ কোর্ট এলাকা, চাঁদনী বাজার ও বাসস্টেশন রেলগেট এলাকায় ঘুরে এমন চিত্র দেখা যায়। বিকেল তিনটার পর থেকেই এসব স্থানে ক্রেতাদের ভিড় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়।
বিক্রেতারা জানান, রমজান মাস তাদের জন্য বাড়তি আয়ের সুযোগ তৈরি করে। অনেকেই বছরজুড়ে এ সময় ঘিরে প্রস্তুতি নেন। কেউ বাড়িতে তৈরি ভাজাপোড়া এনে বিক্রি করছেন, আবার কেউ স্টলেই গরম গরম ইফতার সামগ্রী প্রস্তুত করছেন।
মিশন মোড়ের এক বিক্রেতা বাসসকে বলেন, বিকেল তিনটার পর থেকেই ক্রেতাদের চাপ বাড়তে থাকে, ইফতারের আগ পর্যন্ত বিরাম থাকে না।
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ছোলা ও বুন্দিয়া প্রতি কেজি ২০০ টাকা, ছানা পোলাও ৩৫০ টাকা, জুড়ি ২০০ টাকা, চিড়া ভাজা ১২০ টাকা, ধনিয়া চপ ৫ থেকে ১০ টাকা পিস, ভেজিটেবল চপ ২০ টাকা, তেহারি ১২০ টাকা প্লেট, চিকেন চাপ ও কোয়ার্টার গ্রিল ১৩০ টাকা, শাহী জিলাপি ২০০ টাকা কেজি, রেশমি জিলাপি ৩০০ টাকা এবং শাহী হালিম ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
এছাড়া পেঁয়াজু, বেগুনি ও আলুর চপ ৫ থেকে ১০ টাকা, ডিমের চপ ১০ থেকে ২০ টাকা, জালি কাবাব ৩০ টাকা, বটি কাবাব ৬০ টাকা, চিকেন ললিপপ ৩০ টাকা ও চিকেন সাসলিক ৮০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। তবে এলাকাভেদে দামে কিছুটা তারতম্য রয়েছে।
শহরের অন্যতম জনপ্রিয় প্রতিষ্ঠান সাগাইবাড়ি রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড সুইটসে প্রতিদিনই ইফতার কেনার জন্য উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
প্রতিষ্ঠানটির ম্যানেজার মোহাম্মদ মামুন বাসসকে জানান, রমজান উপলক্ষে উন্নতমানের ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশে ইফতার সামগ্রী প্রস্তুত ও বিক্রি করা হচ্ছে। বিক্রয়কর্মী রফিকুল ইসলাম বলেন, সাধ্যের মধ্যে দাম ও মানসম্মত খাবার নিশ্চিত করায় এখানে ক্রেতাদের সমাগম তুলনামূলক বেশি। রেস্টুরেন্টে বসে ইফতার করার জন্য প্রতি প্লেট ৬০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
মিশন মোড় এলাকার কলেজ শিক্ষক আমিনুর রহমান বাসসকে বলেন, ছোট পরিবার হওয়ায় বাইরে থেকেই ইফতার কিনি। বাসায় তৈরি করতে গেলে সময় ও খরচ বেশি হয়।
রিকশাচালক সলিমুল্লাহ জানান, কর্মব্যস্ততার কারণে প্রতিদিন ঘরে ইফতার প্রস্তুত করা সম্ভব হয় না। তবে দামের বিষয়ে ক্রেতাদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে। কেউ কেউ বলছেন, দাম কিছুটা বেশি হলেও সহজলভ্যতাই বড় সুবিধা।
এদিকে খোলা পরিবেশে খাবার প্রস্তুত ও বিক্রির কারণে পরিচ্ছন্নতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সচেতন মহল। কিছু স্টলে খাবার ঢেকে না রাখা, গ্লাভস ব্যবহার ও বিশুদ্ধ পানির ব্যবহারে ঘাটতি লক্ষ্য করা গেছে।
স্বাস্থ্যসচেতন ক্রেতারা স্বাদ ও সুবিধার পাশাপাশি খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।
সংশ্লিষ্টরা জানান, ফুটপাতের শৃঙ্খলা রক্ষা, যানজট নিয়ন্ত্রণ ও খাদ্যের মান নিশ্চিত করতে তদারকি কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। প্রয়োজনে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করা হবে।
রমজানের আবহে ইফতার বাজার একদিকে যেমন অনেকের জীবিকায় গতি এনেছে, অন্যদিকে বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত শহরে সৃষ্টি করছে উৎসবমুখর পরিবেশ।