বাসস
  ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৬:২৪

কুমিল্লায় ভেজাল শিশুখাদ্য তৈরিসহ নানা অনিয়মে ১টি প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা

কুমিল্লা (দক্ষিণ), ২৪ ফেব্রুয়ারি (বাসস): জেলায় ভেজাল শিশুখাদ্য তৈরিসহ নানা অনিয়মে খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ‘কাশফুল ফুড প্রডাক্টকে’ দুই লাখ টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।

অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে সেমাই উৎপাদন, নিষিদ্ধ রঙে শিশুখাদ্য তৈরি, সফট ড্রিংক পাউডারে অতিরিক্ত এসপারটাম মিশ্রণ এবং বৈধ সনদ ছাড়াই ‘হালাল’ দাবি করে পণ্য বাজারজাতের অভিযোগে ওই প্রতিষ্ঠানকে এ জরিমানা করা হয়।

পবিত্র রমজান মাসকে সামনে রেখে বাজার তদারকি জোরদার করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। এর অংশ হিসেবে গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার বিবির বাজার এলাকায় অবস্থিত ‘কাশফুল ফুড প্রডাক্ট’ নামে একটি সেমাই ও খাদ্য উৎপাদনকারী কারখানায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অভিযানে কারখানার বিভিন্ন অনিয়মের প্রমাণ পাওয়ায় প্রতিষ্ঠানটিকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম পুনরাবৃত্তি হলে আরও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে কঠোর সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।

অভিযান পরিচালনাকারীরা জানান, কারখানার ভেতরে অস্বাস্থ্যকর ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে সেমাই উৎপাদন ও সংরক্ষণ করা হচ্ছিল। উৎপাদন কক্ষে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ না করে খাদ্য সামগ্রী প্রস্তুত করা হচ্ছিল, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। এছাড়া শিশুখাদ্য তৈরিতে নিষিদ্ধ রঙ ব্যবহার করার বিষয়টিও ধরা পড়ে। 

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেন, এ ধরনের রঙ শিশুদের শারীরিক বিকাশ ও স্বাস্থ্যের ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। একই সঙ্গে সফট ড্রিংক পাউডার (ট্যাং) প্রস্তুতের সময় মাত্রাতিরিক্ত এসপারটাম মেশানোর প্রমাণ পাওয়া যায়, যা নিয়মবহির্ভূত এবং ভোক্তাদের জন্য ক্ষতিকর।

আরও অভিযোগ রয়েছে, প্রতিষ্ঠানটির কোনো বৈধ হালাল সনদ না থাকলেও পণ্যের মোড়কে ‘হালাল’ উল্লেখ করে বাজারজাত করা হচ্ছিল। যা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন-২০০৯ অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ।

এ অভিযানে নেতৃত্ব দেন, কুমিল্লা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. কাউছার মিয়া।

তিনি জানান, রমজানকে কেন্দ্র করে খাদ্যপণ্যের চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় কিছু অসাধু ব্যবসায়ী অতিরিক্ত মুনাফার আশায় অনিয়মে জড়িয়ে পড়েন। জনস্বার্থে এ ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।

অভিযানে উপস্থিত ছিলেন, নিরাপদ খাদ্য অফিসার মো. জুয়েল মিয়া, র‌্যাব-১১ কুমিল্লার প্রতিনিধি মো. কাজী মাসুদ আলম এবং কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) কুমিল্লা শাখার প্রতিনিধিরা।