শিরোনাম

ওমর ফারুক
রাজশাহী, ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (বাসস): নিজ শহর শিক্ষানগরী রাজশাহীতে এসে কোনো ধরনের প্রটোকল ছাড়াই রিকশা করে ঘুরে বেড়িয়েছেন ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু। সরকারি প্রটোকল, গাড়িবহর ও নিরাপত্তা বেষ্টনি পেছনে রেখে তিনি রিকশায় চড়ে শহরের বিভিন্ন সড়ক ঘুরে দেখেন, কথা বলেন সাধারণ মানুষের সঙ্গে। হঠাৎ এমন আয়োজনে নগরবাসীর মধ্যে সৃষ্টি হয় কৌতূহল ও উচ্ছ্বাস।
মন্ত্রী রাজশাহী সফরে থাকাকালে সভা, রাজনৈতিক প্রোগ্রামসহ বিভিন্ন কর্মসূচিতে শহরের প্রধান সড়ক, বাজার এলাকা ও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় পরিদর্শন করেন। রিকশায় বসেই তিনি পথচারী, দোকানদার ও রিকশাচালকদের সঙ্গে কথা বলেন। তাদের কাছ থেকে শোনেন ভূমি সংক্রান্ত সেবা, খাজনা পরিশোধ, নামজারি ও ভূমি অফিসের কার্যক্রম নিয়ে নানা অভিজ্ঞতা ও অভিযোগ।
মিজানুর রহমান মিনু বলেন, সরকারি দপ্তরের সেবা যেন মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে যায়, সেটিই আমাদের লক্ষ্য। মাঠপর্যায়ে এসে বাস্তব অবস্থা না দেখলে প্রকৃত চিত্র বোঝা যায় না।
এদিকে মন্ত্রীকে রিকশায় দেখে অনেকেই মোবাইলে ছবি ও ভিডিও ধারণ করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই তার এ উদ্যোগকে ইতিবাচক ও সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছানোর আন্তরিক প্রয়াস হিসেবে দেখছেন।
রফিক নামে এক ব্যক্তি বলেন, মন্ত্রী মহোদয়কে এত কাছ থেকে দেখবো ভাবিনি। তিনি আমাদের সমস্যার কথা মন দিয়ে শুনেছেন।
রিকশাচালকও উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে জানান, মন্ত্রী সাহেব নিজে রিকশায় চড়েছেন, এটা আমাদের জন্য গর্বের।
স্থানীয়দের মতে, মন্ত্রীর এই ব্যতিক্রমী পদক্ষেপ জনসংযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি একটি ইতিবাচক বার্তা দিয়েছে—সরকারি দায়িত্বে থেকেও সাধারণ জীবনযাপন ও মানুষের কাছে থাকার মানসিকতা প্রদর্শন করা সম্ভব। আসন্ন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটেও এমন উদ্যোগ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন অনেকে।
সরকারি উচ্চপদস্থ ব্যক্তির এমন সরল উপস্থিতি স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনুর এই রিকশাভ্রমণ কেবল একটি প্রতীকী ঘটনা নয়; বরং সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপনের এক প্রয়াস হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। নগরবাসী এখন দেখছে, এই সফরের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কী ধরনের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু বলেন, আগে থেকেই আমি সংসদ সদস্য ও মেয়র ছিলাম। বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে দায়িত্ব পালন করেছি। আমি আগে থেকেই রিকশায় চলাচল করি। এটিতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি।
তিনি বলেন, আমি সবার কাছে মিনু ভাই হয়েই থাকতে চাই। সবাই যেন আমাকে পাশে পায়, এজন্যই এভাবে চলাচল করি। আশা করছি, সবাই মিলে আমরা সুন্দর রাজশাহী এবং বাংলাদেশ গড়বো।