বাসস
  ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৬:২৬

রাষ্ট্রের স্বার্থে নিজেকে নিবেদিত করুন, সততাই হোক পথচলার মূলমন্ত্র : সড়ক ও সেতু মন্ত্রী

সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। ফাইল ছবি

ঢাকা, ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : রাষ্ট্রের স্বার্থে নিজেকে নিবেদিত রেখে সততা ও নৈতিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।

আজ সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সম্মেলন কক্ষে ৪৪তম বিসিএস (সড়ক ও জনপথ) ক্যাডারে নবযোগদানকৃত ৩২ জন কর্মকর্তার সাত দিনব্যাপী ইনডাকশন প্রশিক্ষণ কোর্সের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।

এ সময় মন্ত্রী বলেন, প্রশিক্ষণ শেষে নবীন কর্মকর্তারা পুরোদমে দায়িত্ব পালনে যুক্ত হবেন। রাষ্ট্র তাদের প্রকৌশলী হিসেবে গড়ে তুলেছে রাষ্ট্রের প্রয়োজনে, আর এই উপলব্ধি সব সময় ধারণ করতে হবে। 

তিনি আরও বলেন, নিজেদেরকে রাষ্ট্রের স্বার্থে নিবেদিত রাখা সহজ নয়, এতে নানা প্রতিবন্ধকতা থাকবে। তবে তরুণ কর্মকর্তারা চাইলে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সক্ষম।

রাষ্ট্রের অর্থ জনগণের অর্থ-এ কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রী বলেন, অনৈতিক চর্চা পরিহার করে সামগ্রিক স্বার্থকে প্রাধান্য দিতে হবে। নির্মাণ কাজে অপচয় রোধ ও ব্যয়ের যৌক্তিকতা নিশ্চিত করা এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নে স্বচ্ছতা বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। 

বর্তমান সরকার অবকাঠামো উন্নয়ন ও অপচয় রোধে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে নবীন কর্মকর্তাদের আন্তরিকতা ও সততাই হবে মূল শক্তি।

নতুন উদ্যোগ ও উদ্ভাবনী চিন্তার বিকাশ ঘটিয়ে রাষ্ট্র ও সরকারের প্রত্যাশা পূরণের আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, সততা ও নৈতিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনই একজন প্রকৃত কর্মকর্তার পরিচয়।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ বলেন, আগামীর বাংলাদেশ সবাইকে মিলেই গড়ে তুলতে হবে। নবীন কর্মকর্তারাই ভবিষ্যতের কান্ডারি। 

এ সময় সড়ক নিরাপত্তার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, একটি সড়ক বন্ধ থাকলে, লাখো মানুষের দুর্ভোগ হয়। তাই সড়ক চলাচল নির্বিঘ্ন রাখা, নির্মাণ ব্যয় যুক্তিসঙ্গত রাখা ও নিরাপদ অবকাঠামো নিশ্চিত করা সময়ের দাবি।

তিনি নবীন ও প্রবীণদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে একটি নিরাপদ ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

অপর বিশেষ অতিথি প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান নবীন কর্মকর্তাদের শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, তারা মেধা ও কর্মদক্ষতা দিয়ে দেশকে সেবা করবেন— এটাই সবার প্রত্যাশা। 

স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে অর্জিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে পেশাগত সুনাম অর্জনের আহ্বান জানান তিনি।

সভাপতির বক্তব্যে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক সিভিল সার্ভিস রুলস মেনে জনস্বার্থে কাজ করার আহ্বান জানান।

উল্লেখ্য, সাত দিনব্যাপী ইনডাকশন প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে নবীন কর্মকর্তাদের প্রশাসনিক কাঠামো, প্রকল্প ব্যবস্থাপনা, সড়ক নিরাপত্তা, আর্থিক শৃঙ্খলা ও নৈতিকতা বিষয়ে দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়। 

সমাপনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন— সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী সৈয়দ মঈনুল হাসান ও ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানী লিমিটেড-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফারুক আহমেদসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।