শিরোনাম

বিপুল আশরাফ
চুয়াডাঙ্গা, ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (বাসস): পবিত্র রমজানের প্রথম দিনেই চুয়াডাঙ্গার বাজারে ক্রেতা-বিক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। কাঁচাবাজার ও নিত্যপণ্যের দাম কিছুটা বেড়েছে। সবচেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে কাগজি লেবু ও শসা। কয়েকটি পণ্যের মূল্য বৃদ্ধিতে ক্রেতাদের অধিক চাহিদা এবং বাজারে পণ্যের যোগান কম থাকাকেই দায়ী করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আজ বৃহস্পতিবার সকালে শহরের বড় বাজার ও নিচের বাজার ঘুরে দেখা যায়, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে মানুষের ঢল নেমেছে। বিশেষ করে মুদি ও সবজির দোকানে ছিল অতিরিক্ত ভিড়। ক্রেতারা ইফতার ও সেহরির সামগ্রী সংগ্রহে ব্যস্ত সময় পার করছেন। পবিত্র মাহে রমজানের সারা মাসের বাজার এক দিনেই করতে এসেছেন অনেক ক্রেতারা। যার ফলে বাজারে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের চাহিদা বৃদ্ধি এবং যোগান কমায় দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি পাচ্ছে।
খেজুরের দাম মানভেদে প্রতি কেজি ২শ’ থেকে ১২’ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ছোলা ৮৫ টাকা, বেসন ৯৫ টাকা, মুড়ি ৯০ টাকা, সয়াবিন তেল ১৯৬ টাকা, চিনি ১শ’ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। যা গত বছরের তুলনায় খুব একটা বেশি বাড়েনি বলে জানাচ্ছেন ক্রেতারা। এদিকে আপেল, কমলা ও আঙ্গুরসহ অন্যান্য ফলের দাম মোটামুটি স্থিতিশীল আছে বলে অনেক ক্রেতার অভিমত। কলা প্রকারভেদে ১৫ থেকে ২০ টাকা হালি বিক্রি হচ্ছে।
কয়েক দিনের ব্যবধানে কিছু সবজির দাম বেড়েছে । কয়েক সপ্তাহ আগেও শসা ছিল ৫০ টাকা, বর্তমানে তা বেড়ে হয়েছে ১২০ টাকা। বেগুন ৫০ টাকা থেকে বেড়ে ৬০-৭০ টাকা, টমেটো ৪০ টাকা থেকে ৬০ টাকা, লেবু ৩০ টাকা থেকে বেড়ে ৬০-১০০ টাকা হালি, পেঁয়াজ ৩৫ টাকা থেকে ৫০ টাকা, রসুন ১শ’ টাকা থেকে ১৪০ টাকা এবং কাঁচা মরিচ ৮০ টাকা থেকে বেড়ে ১৮০ টাকা, আলু ২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
বিক্রেতারা জানান, রমজানকে ঘিরে পণ্যের চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় এবং সরবরাহ কিছুটা কম থাকায় দাম বেড়েছে। তাদের দাবি, পাইকারি বাজারেই পণ্যের দাম বেশি থাকায় খুচরা বাজারে এর প্রভাব পড়ছে। এছাড়া পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি এবং আমদানি নির্ভর পণ্যের দামের ঊর্ধ্বগতিও বাজার অস্থিরতার কারণ বলে জানান তারা। অন্যদিকে, ক্রেতারা বলছেন, হঠাৎ করেই সবজির দাম বেড়ে যাওয়ায় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের পক্ষে রমজানের বাজার সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। একাধিক ক্রেতার অভিযোগ, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী অতিরিক্ত লাভের আশায় দাম বাড়িয়ে দিচ্ছেন।
খুচরা সবজি ব্যবসায়ী মোহাম্মদ শিপন বলেন, রমজানের আগে সবজির দাম তুলনামূলক কম থাকায় বিক্রি ভালো ছিল। কিন্তু রোজা উপলক্ষে বাজারে সবজির দাম বেড়ে যাওয়ায় আমাদের বিক্রি কমে গেছে। আগে কাঁচা মরিচ প্রতি কেজি ৬০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি করা হলেও বর্তমানে তা ১৮০ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে। পাইকারি বাজার থেকেই বেশি দামে পণ্য কিনতে হওয়ায় বাধ্য হয়ে খুচরা বাজারেও বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।
পাইকারি সবজি ব্যবসায়ী মোহাম্মদ শামীম রেজা বলেন, রমজানকে কেন্দ্র করে বাজারে সবজির চাহিদা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অনেক বেড়ে গেছে। বিশেষ করে কাঁচা মরিচ, শসা, টমেটো, বেগুন ও লেবুর চাহিদা বেশি থাকায় পাইকারি বাজারেই দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। আমাদের সবজি মোকাম থেকে বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। আমরা বেশি দামে কিনলে স্বাভাবিকভাবেই খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছেও বেশি দামে বিক্রি করতে হয়।
মুদি দোকানী মোসলেম হোসেন বলেন, রমজান উপলক্ষে মুদি দোকানের পণ্যের দাম খুব একটা বাড়েনি। গতবছর রমজান মাসের তুলনায় এ বছর পণ্যের দাম বরং কিছুটা কম। গত বছর ছোলা ১১০ টাকা কেজি বিক্রি হলেও এ বছর বিক্রি হচ্ছে ৮৫ টাকা কেজি। গত বছর চিনি ১৩০ টাকা কেজি বিক্রি হয়েছে এ বছর ১শ’ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ক্রেতা আবুল কালাম আজাদ বলেন, রমজান উপলক্ষে সবজির দাম বেশি। প্রতি বছর রমজান আসলেই বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়ে যায়।
এ বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা বাজার মনিটরিং কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম বলেন, রমজানকে কেন্দ্র করে বাজার মনিটরিং জোরদার করা হয়েছে। সারা দেশের ন্যায় চুয়াডাঙ্গাতেও কিছু সবজির দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে স্থিতিশীল আছে মুদি দোকানের নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য। ক্রেতারা এক দিনেই সারা মাসের বাজার করায় বাজারে পণ্যের চাহিদা বেড়েছে। তবে কিছুদিন গেলে সবজির দাম একটু কমবে বলে ধারণা করছি। জনসাধারণের সুবিধার্থে নিয়মিত বাজার মনিটরিং অব্যাহত থাকবে।