শিরোনাম

রংপুর, ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : রংপুর কৃষি অঞ্চলের আট জেলায় লক্ষ্যমাত্রার ৬৫.০৪ শতাংশ জমিতে ইতোমধ্যে বোরো ধানের চারা রোপণ শেষ করেছেন কৃষকরা।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রবি মৌসুমে কৃষকরা বোরো ধানের চারা রোপণে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন এবং কচি চারাগুলো ভালোভাবে বেড়ে উঠছে।
ধান উৎপাদন বাড়ানো এবং জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করতে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট কৃষি প্রতিষ্ঠানগুলো কৃষকদের আধুনিক প্রযুক্তি সহায়তা দিচ্ছে।
রংপুর অঞ্চলের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, সরকারের প্রয়োজনীয় সহায়তা পেয়ে কৃষকরা নিবিড় বোরো আবাদ কর্মসূচি সফল করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন।
চলতি মৌসুমে রংপুর অঞ্চলে ৫ লাখ ৯ হাজার ৯৪ হেক্টর জমি থেকে ২৩ লাখ ৮ হাজার ৭১৫ টন বোরো চাল (৩৪ লাখ ৬৩ হাজার ৬৭২ টন ধান) উৎপাদনের রেকর্ড লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার।
এর মধ্যে কৃষকরা ২ লাখ ৩০ হাজার ৩১৬ হেক্টর জমি থেকে ১১ লাখ ১৩ হাজার ৯০৯ টন হাইব্রিড বোরো, ২ লাখ ৭৭ হাজার ৭৫৩ হেক্টর থেকে ১১ লাখ ৭৫ হাজার ৮৬৭ টন উচ্চফলনশীল জাতের ধান এবং ১ হাজার ২৫ হেক্টর জমি থেকে ১ হাজার ৯৩৯ টন স্থানীয় জাতের বোরো উৎপাদন করবেন।
এদিকে, গত রোববার পর্যন্ত নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ৩ লাখ ৩১ হাজার ১১৮ হেক্টর জমিতে বোরোর চারা রোপণ শেষ হয়েছে। যা মোট লক্ষ্যের ৬৫.০৪ শতাংশ।
বোরো চাষ নির্বিঘ্ন করতে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান, নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি লিমিটেড এবং গ্রামীণ বিদ্যুতায়ন বোর্ড কৃষকদের সার ও বিদ্যুতের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করছে।
সিরাজুল ইসলাম বলেন, চলতি মৌসুমে রংপুর, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম, নীলফামারী ও লালমনিরহাট জেলায় নির্ধারিত বোরো আবাদ লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রেরণায় কৃষকরা সেচের পানি সাশ্রয় এবং কম খরচে উৎপাদন বাড়াতে অলটারনেট ওয়েটিং অ্যান্ড ড্রাইং (এডব্লিউডি) পদ্ধতিসহ সংরক্ষণশীল কৃষি প্রযুক্তি গ্রহণ করছেন।
তিনি আরও জানান, এ পর্যন্ত ৩৩ হাজার ১১২ হেক্টরের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ২ লাখ ৫৯ হাজার ২৯৭ হেক্টর জমিতে জৈব সার এবং ১ লাখ ৯৮ হাজার ৬৭১ হেক্টরের লক্ষ্যের বিপরীতে ২ লাখ ৬৬ হাজার হেক্টর জমিতে সুষম সার প্রয়োগ করা হয়েছে। এ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে, নিম্নাঞ্চল, চর ও নদী তীরবর্তী এলাকায় বোরো চারা রোপণ শেষ হয়েছে। কৃষকরা আরও বেশি নিম্নাঞ্চল, চর, বিল ও নদী তীরবর্তী জমি বোরো চাষের আওতায় এনেছেন এবং বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার আগেই ফসল ঘরে তুলতে ধান গাছ পরিচর্যা করছেন।
স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত (খাদ্য নিরাপত্তা) কৃষিবিজ্ঞানী ড. মো. আবদুল মজিদ কৃষকদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ায়র জন্য সরকারের প্রশংসা করেন।
তিনি বলেন, কম খরচে সর্বোচ্চ ফলন পেতে এবং ভূগর্ভস্থ পানি সংরক্ষণে কৃষকদের সংরক্ষণশীল কৃষি প্রযুক্তি, বিশেষ করে এডব্লিউডি পদ্ধতি এবং সুষম ও জৈব সার ব্যবহার করা উচিত।
রংপুর অঞ্চলেল বিভিন্ন গ্রামের কৃষক লোকমান হোসেন, নুরুন নবী, আইয়ুব আলী, নুরুল আলম, আরিফুল হক ও সেকেন্দার আলী বাসসকে জানান, তারা ইতোমধ্যে নিজেদের জমিতে বোরোর চারা রোপণ শেষ করেছেন।