শিরোনাম

\ আল-আমিন শাহরিয়ার \
ভোলা, ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (বাসস): দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোলা-১ আসন হতে ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান পার্থ'র নিরঙ্কুশ ভোটে বিজয়ের পর এবার শপথ নেয়ার পালা। বিজয় লাভের পর শপথ নিতে গতকাল শুক্রবারই তিনি লঞ্চযোগে ঢাকায় পাড়ি জমিয়েছেন। সব ঠিকঠাক থাকলে আগামী রবি কিম্বা সোমবারই জাতীয় সংসদে সাংসদ হিসেবে শপথ নেবেন ভোট বিজয়ী তরুণ এ নেতা।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) ভোলার মানুষ তাকে বিপুল পরিমান ভোট দিয়ে ভালোবাসার বিজয় উপহার দিয়েছেন। গত ২৫ জানুয়ারি থেকে একটানা ১৫ দিন ভোলার নিজ আসনে এসে জনসংযোগের মাধ্যমে ভোটের প্রচারণা চালিয়ে লাখো নারী-পুরুষের মনের গহীনে অবস্থান করে নেন ভোলার উন্নয়নের রুপকার কিংবদন্তী প্রয়াত নাজিউর পুত্র আন্দালিভ রহমান পার্থ। অকুতোভয় বাবার হাত ধরেই বেড়ে উঠা পার্থর মাঝে ভোলার মানুষ যেনো তাদের প্রিয় হৃদয় স্পন্দন সেই নাজিউরকেই খুঁজে পেয়েছেন। তাইতো উন্নয়ন আর উন্নতির এক নতুন সারথিকে বেঁছে নিয়ে ভোলাবাসী ফের বিজয়ের মুকুট পড়ালেন আন্দালিভের মাথায়।
বিপুল ভোটে ভোলার মানুষ নির্ধারণ করলেন তাদের আগামীর অভিভাবককে। এত অল্প সময়ের ব্যবধানে ভোলার সচেতন জনতা তাদের নেতা নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নিতে কালবিলম্ব করেননি। তারা বুঝে ফেলেছেন, সেই পুরনো ভোলাকে নতুন মোড়কে সাজাতে পার্থ'র বিকল্প নেই। তাই সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে ভোলাবাসী যেনো মোটেও কুন্ঠাবোধ করেননি। তারা পার্থর হাতেই যেনো তুলে দিলেন আগামী ভোলার উন্নয়ন রুপকল্পের চাবি।
বিজয়ের নিশান পেয়ে পার্থও তার ভালোবাসার মানুষগুলোর কাছে নিজের কৃতজ্ঞতাকে উজার করে ঢেলেছেন। আবেগঘন অনুভূতির বার্তা ছড়িয়ে দিলেন পলিমাটি সমৃদ্ধ ভোলা দ্বীপের উর্ব্বর জনপদে।
ভোট বিজয়ের পরবর্তীতে বাসসকে দেয়া নিজস্ব অনুভূতি ব্যক্ত করে পার্থ বলেলন-ভোলার উন্নয়নের রুপকার, সাবেক এমপি ও মন্ত্রী আমার শ্রদ্ধেয় বাবা নাজিউর রহমান মঞ্জুর মৃত্যুর পর ভোলা সদরের মানুষ অত্যন্ত স্নেহ-ভালোবাসা দিয়ে আমাকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত করেছিলেন। বিরোধীদলীয় এমপি থাকায় তখন এলাকার উন্নয়ন করতে দেয়নি শোষক, জুলুমবাজ ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকার। সেই মানুষগুলো আমার মরহুম বাবার প্রতি শ্রদ্ধা এবং গভীর ভালোবাসা দেখিয়ে বুকভরা আশা নিয়ে আমাকে ১২ ফেব্রুয়ারি পুণরায় বিপুলভোটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত করেছেন। তাই আমি দ্যার্থহীন কন্ঠে বলবো, এ বিজয় ভোলার মানুষের বিজয়। এ বিজয়ের একমাত্র দাবিদার আমার প্রাণের ভোলাবাসী।
পার্থ বলেন, যদি রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পাই তাহলে জীবনের শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে হলেও আমার হৃদয়ের ভোলাবাসীর পাশে তাদের সেবক হয়ে কাজ করে যাবো।
তিনি বলেন, অবহেলিত ভোলার মানুষের মৌলিক অধিকারসহ অবকাঠামোগত একগুচ্ছ উন্নয়ন কর্মকাণ্ড করবোই ইনশাআল্লাহ। এগুলোর মধ্যে ভোলায় আন্তর্জাতিক মানের আধুনিক মেডিকেল কলেজ, ভোলা-বরিশাল স্বপ্নের সেতু, ভোলার নদী ভাঙনরোধে টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ, মেরিন ড্রাইভ নির্মাণ, ভোলায় প্রাপ্ত প্রাকৃতিক গ্যাসের সুষম ব্যবহার, জরাজীর্ণ রাস্তাঘাট, পুল-কালভার্ট নির্মাণসহ এ জেলাকে দক্ষিণাঞ্চলের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল হিসেবে গড়ে তোলাই হবে আমার প্রধান কাজ।
তিনি বলেন, এখানকার মানুষগুলোই হচ্ছে-আমার প্রাণ, আমার পরিবার। আমার আগামীর পথচলা, হাসি, কান্না, সুখ-দুঃখের আনন্দ-বেদনার সবটুকুই তাদের সাথে ভাগাভাগি করে নেবো।
পার্থ বলেন-প্রিয় বাংলার নতুন রাষ্ট্র নায়ক তারেক রহমানের দেয়া প্রতিশ্রুতিপূর্ণ ভোলার গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন বাস্তবায়ন না করা পর্যন্ত আমি হাল ছাড়ছিনা। প্রাণের ভোলাবাসীকে সাথে নিয়ে একটি অনিন্দ্য সুন্দর ও সমৃদ্ধ জনপদ গড়ে এখানকার দৃশ্যপট পাল্টে দেবো ইনশাআল্লাহ।