BSS-BNhrch_cat_news-24-5
বাসস
  ২৭ জানুয়ারি ২০২২, ১৯:০১

অসংক্রামক ব্যাধিতে মৃত্যু হ্রাসের মাধ্যমে এসডিজি অর্জনে কাজ করছে দক্ষিণ সিটি : মেয়র তাপস

ঢাকা, ২৭ জানুয়ারি, ২০২২ (বাসস) : ঢাকা দক্ষিণ সিটি মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস বলেছেন, অসংক্রামক ব্যাধিজনিত অপরিপক্ক মৃত্যু হ্রাস করার মাধ্যমে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে কাজ করছে সিটি করপোরেশন।
আজ রাজধানীর হোটেল প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁওয়ে প্রথম জাতীয় অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনের প্রথম পর্বে যোগ দিয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। খবর সংবাদ বিজ্ঞপ্তির।
মেয়র বলেন, ‘আমাদের পর্যাপ্ত হাঁটার জায়গা নেই, পর্যাপ্ত পার্ক নেই, উদ্যান নেই, খেলার জায়গা নেই। এগুলো আমাদেরকে এখন করতে হবে। সেজন্য আমরা  ৩০ বছর মেয়াদি মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন করেছি। যাতে ২০৫০ নাগাদ এই অবকাঠামোগুলো আমরা বৃদ্ধি করতে পারি। কারণ, অসংক্রামক ব্যাধি প্রতিরোধ করতে হলে আমাদেরকে এই সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করতে হবে। এজন্য সকলকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। সরকারকে সহযোগিতা করতে হবে। যাতে ক্যান্সার, ডায়াবেটিস এবং উচ্চ রক্তচাপজনিত ব্রেইন স্ট্রোক ইত্যাদি অসংক্রামক ব্যাধি নির্মূল করা যায়, কমিয়ে আনা যায়। এর ফলে, অপরিপক্ক যে মৃত্যু হচ্ছে তা আমরা কমিয়ে আনতে পারব এবং এর মাধ্যমে আমরা টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারব।’
তিনি বলেন,  ‘বায়ু দূষণ শ্বাস-প্রশ্বাসজনিত স্বাস্থ্য জটিলতার অন্যতম কারণ। এ বিষয়ে আমরা সজাগ আছি। কিন্তু দুভার্গ্যবশত ঢাকা বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহর। এই সমস্যা হতে উত্তরণে আমরা কাজ করছি। নগরবাসীর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় আরও পার্ক প্রতিষ্ঠা, প্রশস্ত ফুটপাত তৈরি, হাঁটার জায়গা সৃষ্টি করতে ইতোমধ্যে আমরা উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। নগরবাসীর জীবনমান উন্নয়নে আমরা সমন্বিত মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন করছি।’
সংক্রামক ব্যাধির চাইতে অসংক্রামক ব্যাধিতে মানুষের মৃত্যুর সংখ্যা অনেক বেশি উল্লেখ করেন মেয়র ব্যারিস্টার শেখ তাপস বলেন, ‘আমাদের দেশে দুই-তৃতীয়াংশ জনগোষ্ঠী অসংক্রামক ব্যাধির কারণে মারা যাচ্ছে। যেটাকে আমাদের জীবনের যে সীমা ৭২ বছর, ৭০ বছরের আগেই এ সকল অসংক্রামক ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে অপরিপক্ক অবস্থায় মারা যাচ্ছে।’
যথাযথ জনবল ও ডাক্তার পদায়নের অভাবে কর্পোরেশন পরিচালিত হাসপাতালগুলো হতে  প্রয়োজনীয় সেবা দেয়া যাচ্ছে না উল্লেখ করে শেখ তাপস বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে যাদিও সরকার ব্যাপক কার্যক্রম নিয়েছে, ব্যাপক বিনিয়োগ করা হচ্ছে, তারপরও সকলকে এগিয়ে আসতে হবে। সেখানে সিটি কর্পোরেশনসহ স্থানীয় সরকারের একটি বড় ভূমিকা রয়েছে। আমাদের দু’টো হাসপাতাল আছে- মহানগর জেনারেল হাসপাতাল ও মহানগর শিশু হাসপাতাল। সেখানকার অবকাঠামোগত উন্নয়নে আমরা কাজ করছি। সেখানে সরকার হতেই প্রয়োজনীয় জনবল, ডাক্তারের (মেডিকেল কনসালটেন্ট) নিয়োগ ও পদায়ন করা হয়ে থাকে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমাদের হাসপাতালগুলোর জন্য পর্যাপ্ত জনবল ও ডাক্তার পদায়ন করা হয় না। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক যে, পর্যাপ্ত লোকবল ও ডাক্তারের অভাবে আমরা আমাদের মহানগর জেনারেল হাসপাতালের সার্জারি শাখাকে এখনো কার্যক্ষম (ফাংশনাল) করতে পারিনি।’ 
অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিটের মহাপরিচালক ডা. মোহাম্মদ শাহাদাত হোসাইন মাহমুদ, সাবেক মুখ্য সচিব আবুল কালাম আজাদ, ইন্টান্যাশনাল সোসাইটি ফর আরবান হেলথ (আইএসইউএইচ)’র প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক জো আইভি বাফর্ড, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এনসিডি টিম লিডার (ব্যাংলাদেশ) সাধনা ভাগওয়াত, ওয়ার্ড ওরবেস্টি ফেডারেশনের প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক জন উইলডিং, অরবিস ইন্টারন্যাশনালের কান্ট্রি ডিরেক্ট্রর ডা. মুনির আহমেদ, ইউনিভার্সেল মেডিকেল রিসার্স সেন্টারের রিসার্স প্রধান অধ্যাপক ডা. রেদওনুর রহমান, বিএসএমএমইউর পাবলিক হেলথ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. ফারিহা হোসেন বক্তব্য রাখেন।
ক্লিনিক্যাল রিসার্চ প্ল্যাটফর্ম, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নন-কমিউনিকেবল ডিজিজ কন্ট্রোল সেল (এনসিডিসি), বাংলাদেশ নন-কমিউনিকেবল ডিজিজ ফোরাম (বিডিএনসিডিএফ), বাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টার্স ফোরামসহ ৩০টি দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠান এ সম্মেলনের আয়োজন করে। তিন দিন-ব্যাপী এই সম্মেলন আগামী ২৮ জানুয়ারি শেষ হবে।
 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বেটা ভার্সন