বাসস
  ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৩:৫৩

মেহেরপুরে আমের মুকুলের সুমিষ্ট সুবাসে বসন্তের আগমনি

মধু মাসের আগমনি জানান দিচ্ছে আমের মুকুল। ছবি : বাসস

।। দিলরুবা খাতুন।।

মেহেরপুর, ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : আমের বাগান মুকুলে মুকুলে ভরে গেছে। মুকুলের মৌ মৌ ঘ্রাণ আর মৌমাছিদের গুঞ্জনে কনের বেশেই আজ যেন সেজেছে বাগান। রবির আলোয়, আম্র মুকুলের শোভায় বসন্তের আগমনি  গেয়ে উঠছে মৌমাছিরা।    

মাঘ মাসের প্রথম থেকেই আম গাছের মুকুল পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করেছেন আম চাষিরা। তবে বনেদি জাতের আম গাছগুলোতে এখনও মুকুল আসেনি। সাধারাণত ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি মুকুল আসে। বাতাসে মুকুলের মৌ মৌ গন্ধে ভরে উঠেছে আম বাগানগুলো। মধু মাসের আগমনি জানান দিচ্ছে আমের মুকুল। 

এদিকে মধু সংগ্রহে মৌমাছিরা ছোটাছুটি করছে। একইসঙ্গে বেড়েছে আম চাষিদের ব্যস্ততাও। মুকুল ধরে রাখতে বাগানের মালিকেরা আম গাছে ওষুধ ছিটানোসহ বিভিন্ন ধরনের যত্ন করছে। 

কৃষি কর্মকর্তারা জানান, শীতের তীব্রতা কারণে এবছর একটু দেরিতে মুকুল ধরেছে। শীতের তীব্রতা কমে যাওয়ার সাথে সাথে গাছে গাছে মুকুল আসতে শুরু করেছে। এ বছর ফাল্গুন মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত প্রতিটি গাছেই পুরোপুরিভাবে মুকুল ফুটে যাবে।
কৃষি বিভাগ জানায়, স্বাদের দিক থেকে মেহেরপুরের আম জগতের সেরা। মেহেরপুরের আম সুস্বাদু হওয়ায় এ জেলার আমের চাহিদা দেশের সব জেলা ছাড়িয়ে ইউরোপ মহাদেশেও ছড়িয়ে পড়েছে। মেহেরপুরের হিমসাগর আম  ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) স্বীকৃতি পেয়েছে। জিআই পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ায় এ জেলার আমের চাহিদা বেড়েছে। চাহিদার সাথে তাল মেলাতে আম চাষিরাও আম উৎপাদনে মনোযোগী হয়েছেন। বাড়ছে আম বাগানের সংখ্যাও।

সূত্র জানায়, মেহেরপুর জেলায় বাণিজ্যিক ভিত্তিতে সব জাতের আমেরই চাষ হয়ে থাকে। লাভজনক হওয়ায় প্রতিবছর কৃষিজমিতে তৈরি করা হচ্ছে আমের বাগান। এখানকার মাটির গুণেই হিমসাগর, ল্যাংড়া, বোম্বাই, তিলি বোম্বাই ইত্যাদি জাতের আম খুবই সুস্বাদু। বিশেষ করে নিয়মিত জাত ল্যাংড়া, গোপালভোগ, ক্ষীরসাপাতি, আশ্বিনা জাতের বাগান বেশি থাকলেও গবেষণাকৃত বারি-৩, বারি-৪ জাতের বাগান তৈরির ক্ষেত্রেও আগ্রহী হয়ে উঠছে অনেকে। নতুন নতুন বাগানগুলো বনেদি ও হাইব্রিড জাতের আম চাষের জন্য তৈরি করা হচ্ছে।। বারোমাস ধরে এমন বাগানও তৈরি করছে চাষিরা।

মেহেরপুর জেলা শহরের আম চাষি বজলুর রহমান জানান, এবার মাঘ মাসেই আঁটি আম গাছে মুকুল আসতে শুরু করেছে। ফাল্পুনে মুকুল আসবে বনেদি জাতের গাছে। আগাম আসা মুকুল কুয়াশায় নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। কুয়াশায় যাতে মুকুল নষ্ট না হয় সেজন্য শুরু থেকেই গাছ ও মুকুলের পরিচর্যা করছেন তিনি।

মেহেরপুর সদর উপজেলার পিরোজপুর গ্রামের আম চাষি আব্দুর রশিদ বাসসকে বলেন, শীতের তীব্রতা কমে যাওয়ায় অধিকাংশ আম গাছে মুকুল আসতে শুরু করেছে।

মেহেরপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সনজীব মৃধা বাসসকে বলেন, মূলত তিনটি পর্যায়ে আমের মুকুল আসে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে চলতি মাসেই সব গাছ মুকুলে ভরে যাবে। নতুন জাতের লেট ভ্যারাইটি আমও চাষ হচ্ছে। লেট ভ্যরাইটি আম জুলাই-আগস্টে পাকে। তাছাড়া বারো মাস ধরে এমন আমবাগানও তৈরি হচ্ছে। ফলে আগামীতে দেশে বারোমাসই আম পাওয়া যাবে। জেলায় দুই হাজার ৩৬১ হেক্টর জমিতে আমবাগান রয়েছে। গত মৌসুমে জেলায় ৩৮ হাজার ১৭৭ মেট্রিক টন আম উৎপাদন হয়েছিল।