শিরোনাম

//ভুবন রায় নিখিল//
নীলফামারী, ৩১ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : জেলায় দিনে দিনে বাড়ছে সরিষার আবাদ। অনুকুল আবহাওয়ায় ভালো ফলনে লাভবান হচ্ছে কৃষক।
কৃষি সম্প্রসারণ দপ্তর সূত্র জানায়, চলতি বছর জেলায় আট হাজার ৩৭০ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছে। যা বিগত পাঁচ বছরের তুলনায় অনেক বেশি। ভোজ্য তেলের আমদানী নির্ভরতা কমাতে প্রণোদনার মাধ্যমে কৃষকদের আগ্রহী করা হচ্ছে।
সূত্র জানায়, জেলায় ২০২১ সালে সরিষার আবাদ হয়েছিল সাড়ে পাঁচ হাজার হেক্টর জমিতে। ২০২২ সালে পাঁচ হাজার ৫৫৫ হেক্টর, ২০২৩ সালে ৬ হাজার ৭৭৭ হেক্টর, ২৪ সালে ৮হাজার ৬৭২ হেক্টর, ২০২৫ সালে ৮ হাজার ২৫৭ হেক্টর এবং ২০২৬ সালে ৮হাজার ৩৭০ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছে। ভোজ্য তেলের আমদানী নির্ভরতা কমাতে প্রতিবছর সরিষা চাষের পরিধি বাড়ছে। ভোজ্য তেলের আমদানী নির্ভরতা কমিয়ে সরিষার বিশুদ্ধ তেল ব্যবহারে আগ্রহী করতে কৃষকেদের প্রনোদনার মাধ্যমে সরিষা চাষে আগ্রহী করছে । রোগ বালাই কম, ভালো বাজার মূল্যের কারণে লাভজনক হওয়ায় সরিষা আবাদে ঝুঁকছে কৃষক।
জেলা সদরের ইটাখোলা ইউনিয়নের কবিরাজ পাড়া গ্রামের কৃষক উপেন চন্দ্র রায় বলেন,‘সয়াবিন তেলের দাম বাড়ার কারণে দুই বছর ধরে সরিষার আবাদ শুরু করেছি।
গত বছর দুই বিঘা আবাদ করে আড়াই মণ সরিষা বিক্রির পর সারা বছর রান্নায় সরিষার তেল ব্যবহার করেছি। এবারও নিজের তেলের চাহিদা মেটানোর জন্য সরিষা আবাদ করেছি’।
একই ইউনিয়নের সিংদই মেম্বার পাড়া গ্রামের জুয়েল ইসলামের স্ত্রী মোসলেমা বেগম (৩৫) বলেন, ‘গত বছর দুই বিঘা জমিতে সরিষা চাষ করেছি। এবছর আবাদ করেছি আড়াই বিঘা জমিতে। দুই বছর ধরে আমরা সরিষা আবাদ করে নিজে খাচ্ছি আবার বিক্রি করে সংসারের অন্যান্য চাহিদা মেটাচ্ছি।
একইভাবে ওই ইউনিয়নের বসুনিয়াপাড়া গ্রামের কৃষক জাহাঙ্গীর আলম গত বছর দুই বিঘার কম জমিতে সরিষার আবাদ করলেও এবার আবাদ করেছেন তিন বিঘা জমিতে। তিনি বলেন, ‘এবার তিন বিঘায় অন্তত ১০মণ সরিষা পাবো। বাজারে তেলের দাম বাড়ার কারণে এলাকায় প্রায় কৃষক অল্প পরিমানে হলেও সরিষার চাষ করছেন। তাতে করে প্রতি বছরই সরিষার আবাদ বাড়ছে’।
জেলা শহরের বড় বাজারের সরিষার তেল ভাঙানো মিলের মালিক মো. এরশাদ আলম (৬০) বলেন, এখন কৃষক পর্যায়ের অনেকে তেল করার জন্য সরিষা নিয়ে আসেন।
প্রতিমণ সরিষা থেকে গড়ে ১৫ কেজি তেল এবং ২৫ কেজি খৈল হয়। প্রতি কেজি সরিষার তেলের বাজার মূল্য ২৬০ টাকা, প্রতি কেজি খৈলের বাজার মূল্য ৪৫ টাকা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মৌসুমে প্রতিমণ সরিষা বিক্রি হয় ৩ হাজার থেকে ৩ হাজার ২০০ টাকায়। বর্তমান বাজারে প্রতিমণ সরিষা ৩ হাজার ৮০০ টাকা থেকে ৪ হাজার টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোহসীন রেজা জানান, জেলায় বারী-১৪, ১৭,১৮,২০ এবং বিনা ৯ ও ১১ জাতের সরিষা চাষ হচ্ছে।
আমদানী নির্ভরতা কমাতে ও বিশুদ্ধ তেল খাওয়নোতে সরিষার আবাদ বাড়ানো হচ্ছে। কৃষকদের উৎসাহিত করণে সরিষা চাষে প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে। এবছর জেলায় ৭ হাজার কৃষককে সরিষা চাষে প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে।’
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. মঞ্জুর রহমান বলেন, ‘এবছর সরিষা চাষের আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় ভালো ফলন পাওয়া যাবে। কৃষকরা লাভবান হওয়ায় দিন দিন সরিষার আবাদ বাড়ছে। এতে করে যেমন ভোজ্য তেলের আমদানী নির্ভরতা কমছে, তেমনি স্বাস্থ্য সম্মত নির্ভেজাল তেল খাওয়ানো সম্ভব হচ্ছে।