বাসস
  ৩০ জানুয়ারি ২০২৬, ০০:০০

এসএসসি পরীক্ষক নিয়োগে ভুল তথ্য দিলে কঠোর ব্যবস্থা : ঢাকা শিক্ষা বোর্ড

ঢাকা, ২৯ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষার প্রধান পরীক্ষক ও পরীক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে ‘ভুল’ বা ‘অসত্য’ তথ্য প্রদানকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড। 
 
বোর্ড জানিয়েছে, বিশেষ করে ‘মাস্টার ট্রেইনার’ না হয়েও ভুয়া তথ্য প্রদানকারী শিক্ষকদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

আজ বৃহস্পতিবার ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর এস এম কামাল উদ্দিন হায়দার স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ  তথ্য জানানো হয়েছে। 

বিজ্ঞপ্তিতে দেওয়া নির্দেশনায় বলা হয়েছে, বিগত সময়গুলোতে বোর্ড লক্ষ্য করেছে যে, অনেক শিক্ষক মাস্টার ট্রেইনার না হওয়া সত্ত্বেও অনলাইনে শিক্ষক তথ্য ফরমে (ইটিআইএফ) মাস্টার ট্রেইনার কলাম পূরণ করেছেন। যারা প্রকৃতপক্ষে বোর্ডের সৃজনশীল প্রশ্নপত্র প্রণয়ন ও পরিশোধন প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করেননি। তাদের অনতিবিলম্বে এই তথ্য সংশোধন করতে বলা হয়েছে। অন্যথায় একে ‘প্রতারণা’ হিসেবে গণ্য করে অভিযুক্ত শিক্ষক এবং তথ্যের অনুমোদনকারী প্রতিষ্ঠান প্রধানের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বোর্ডের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, শিক্ষকদের শিক্ষকতার প্রকৃত অভিজ্ঞতার সঠিক পয়েন্ট নিশ্চিত করতে ‘ফার্স্ট জয়েনিং’-এর ক্ষেত্রে বর্তমান প্রতিষ্ঠানের পরিবর্তে চাকরিতে প্রথম যোগদানের তারিখ ব্যবহারের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

শিক্ষাগত যোগ্যতার তথ্য প্রসঙ্গে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড বলছে, প্রধান পরীক্ষক ও পরীক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে এসএসসি থেকে শুরু করে উচ্চতর ডিগ্রির ফলাফলের সুনির্দিষ্ট পয়েন্ট রয়েছে। তাই বিভাগ বা শ্রেণি সংক্রান্ত কলামগুলো ফাঁকা না রেখে সঠিক তথ্য দিয়ে পূরণের নির্দেশ দিয়েছে শিক্ষা বোর্ড। 

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, শিক্ষকদের অবশ্যই সোনালী ব্যাংকের ১৩ ডিজিটের নির্ভুল হিসাব নম্বর প্রদান করতে হবে। এছাড়া খণ্ডকালীন, অনিয়মিত, গুরুতর অসুস্থ বা অবসরে যাওয়া শিক্ষকদের নাম তালিকা থেকে বাদ দিতে প্রতিষ্ঠান প্রধানদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

উত্তরপত্র সংগ্রহে বাধ্যবাধকতা প্রসঙ্গে ঢাকা বোর্ড বলছে, নিয়োগপত্র পাওয়ার পর নির্ধারিত তারিখে উত্তরপত্র সংগ্রহ না করলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। উত্তরপত্র মূল্যায়নে কোনো প্রকার জটিলতা তৈরি করে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন বিঘ্নিত করা যাবে না।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, আগামী ৫ এপ্রিলের মধ্যে ইটিআইএফ সংক্রান্ত সকল তথ্য হালনাগাদ ও সংশোধন নিশ্চিত করতে হবে। এই সময়ের পর প্রেরিত কোনো তথ্য ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার জন্য বিবেচিত হবে না।

সংশ্লিষ্ট সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের নিজ দায়িত্বে শিক্ষকদের সকল সনদ ও নিয়োগপত্র সংরক্ষণ করার নির্দেশ দিয়েছে বোর্ড। প্রয়োজনে বোর্ড যেকোনো সময় এসব নথি তলব করতে পারবে বলে জানানো হয়েছে।