শিরোনাম

আবদুস সালাম আজাদ জুয়েল
চাঁদপুর, ১০ জানুয়ারি ২০২৬ (বাসস) : চাঁদপুরের মেঘনা নদীতে নিষিদ্ধ জাল দিয়ে নির্বিচারে ধরা হচ্ছে বিভিন্ন ছোট প্রজাতির মাছ। এক শ্রেণির অসাধু জেলে প্রতিবছর শীত মৌসুমে অবৈধ জাল দিয়ে এসব মাছ নিধন করে আসছে। এসব অসাধু জেলেরা প্রতিদিন কয়েক টন ছোট মাছসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ধরে হাট বাজার ও পাড়া মহল্লায় বিক্রি করে থাকেন। মৎস্য বিভাগ বলছে-রেনু পোনাসহ ছোট মাছ ধ্বংসকারী বেহুন্দি ও অন্যান্য ক্ষতিকর জাল অপসারণে বিশেষ কম্বিং অপারেশন অব্যাহত আছে।
মেঘনা উপকূলীয় এলাকার জেলেদের সাথে আলাপ করে জানা গেছে, নদীতে অধিকাংশ মাছই শীত মৌসুমের আগে ডিম ছাড়ে। শীত মৌসুমে ইলিশ, চিংড়ি, পাঙ্গাস, বেলে, আইড়, রিটা, পাবদা, পোয়া, চেউয়া, টেংরাসহ প্রায় ৩৫ প্রজাতির মাছের পোনায় ভরপুর থাকে নদীগুলো। কিন্তু কিছু অসাধু জেলে বিভিন্ন ধরনের নিষিদ্ধ জাল ব্যবহার করে নির্বিচারে নিধন করছে এসব মাছের পোনা।
আজ শনিবার দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত সরেজমিন দেখা গেছে, সদর উপজেলার লালপুর, রাজরাজেশ্বর, চিরারচর, পুরান বাজার রনাগোয়াল, বহরিয়া, হরিণা, আখনের হাট ও হাইমচর কাটাখালি এলাকায় অসাধু জেলেরা রাতের বেলায় এসব ছোট মাছ ধরে এনে নদী পাড়ে রেখেছে। দিনের বেলায় এসব জাল ও নৌকা পাড়ে এনে রাখা হয়। ভোর থেকে নদী পাড়ে পাইকারি বেচাকেনা হয় এসব মাছ। এরপর বাজার ও শহরের অলিতে গলিতে ২০০ থেকে ২৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয় এসব ছোট মাছ।
সদরের হরিণা ফেরিঘাট এলাকার প্রবীন একাধিক জেলে জানান, জোয়ার-ভাটার সময় বুঝে মধ্যরাতে পাতাজাল, বেহুন্দিজাল, মশারী জালসহ বিভিন্ন নিষিদ্ধ জাল নিয়ে জেলেরা নেমে পড়ে নদীতে। এসব জালে শুধু মাছের পোনাই নয়, উঠে আসছে কাঁকড়াসহ উপকারী বিভিন্ন জলজ প্রাণী। নিধন করা পোনা পুরানবাজারসহ বিভিন্ন চরাঞ্চলে নদীর পাড়েই দাদনদারদের কাছে বিক্রি করে দেয় জেলেরা। ডিসেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত শত শত নৌকায় করে হাজারো জেলে বিভিন্ন প্রজাতির পোনা নিধন করার ফলে ধ্বংস হচ্ছে ছোট মাছসহ বিভিন্ন প্রজাতির জীববৈচিত্র্য।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পুরাণবাজার রনাগোয়াল এলাকায় ছোট সাইজের বেলে গুড়া বা সাগরের পোনার নামে ধ্বংস করা হচ্ছে বিভিন্ন মাছের পোনা। বিশেষ করে শীত মৌসুমে নদীতে প্রচুর পরিমাণে মাছের পোনা পাওয়া যায়। রনাগোয়াল নুরু বকাউলের বাড়ির পিছনে প্রতিদিন ৩০ থেকে ৩৫ নৌকা দিয়ে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ মন মাছ বেচাকেনা হয়।
চাঁদপুর জেলা মৎস্য বণিক সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. সবেবরাত সরকার বলেন, নির্বিচারে পোনা নিধনের ফলে প্রতিনিয়তই কমছে মাছের উৎপাদন। এভাবে চলতে থাকলে ভবিষ্যতে নদীগুলো মাছশূন্য হয়ে পড়তে পারে।
সদর উপজেলা জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা মির্জা ওমর ফারুক বলেন, আমাদের নিয়মিত কম্বিং অভিযান চলমান রয়েছে। বিষয়টি অবগত হয়েছি। গত সপ্তাহে একাধিক অভিযানে নিষিদ্ধ কারেন্টজাল, বেহুন্দি, চরঘেরা ও মশারী জাল জব্দ করে আগুনে পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি দুই মাস এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।