শিরোনাম

সুনামগঞ্জ, ৩ জানুয়ারি ২০২৬ (বাসস): সুনামগঞ্জের পাঁচটি সংসদীয় আসনের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে ২৬ জনের মনোনয়নপত্র। বাতিল করা হয়েছে ১৩ জনের মনোনয়নপত্র। সুনামগঞ্জের পাঁচটি আসনে ৩৯জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন।
আজ শনিবার নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়ার কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই অনুষ্ঠিত হয়।
তবে যেসব প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে, তাঁদের আপীল করার সুযোগ আছে বলে রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া জানিয়েছেন। বাতিল হওয়া প্রার্থীদের মধ্যে সাতজন দলীয় এবং ছয়জন স্বতন্ত্র হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন।
সুনামগঞ্জ-১ আসনে (ধর্মপাশা, তাহিরপুর, জামালগঞ্জ, মধ্যনগর) মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন ছয়জন। এর মধ্যে যাচাই-বাছাইয়ে মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে দুইজনের। এরাঁ হলেন, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির প্রার্থী মাওলানা মুজাম্মিল হক তালুকদার ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী হাজী মুখলেছুর রহমান। এই প্রার্থীরা মনোনয়নপত্রের সঙ্গে আয়কর বিবরণীর প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেননি।
এই আসনে মনোনয়নপত্র বৈধ হওয়া প্রার্থীরা হলেন, বিএনপির আনিসুল হক ও কামরুজ্জামান কামরুল, জামায়াতে ইসলামীর তোফায়েল আহমদ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. রফিকুল ইসলাম।
সুনামগঞ্জ-২ আসনে (দিরাই-শাল্লা) মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন সাতজন। এর মধ্যে মনোনয়নপত্রের স্বাক্ষরে গড়মিল থাকায় বাতিল হয়েছে স্বতন্ত্র প্রার্থী ঋতেশ রঞ্জন দেবের।
এই আসনে মনোনয়নপত্র বৈধ হওয়ার প্রার্থীরা হলেন, বিএনপির মো. নছির চৌধুরী ও তাহির রায়হান চৌধুরী, জামায়াতে ইসলামীর মোহাম্মদ শিশির মনির, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টর নিরঞ্জন দাস, খেলাফত মজলিসের মো. সাখাওয়াত হোসেন, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের শোয়াইব আহমদ।
সুনামগঞ্জ-৩ আসনে (জগন্নাথপুর-শান্তিগঞ্জ) মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন ৯ জন। এর মধ্যে মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে চারজনের। এঁরা হলেন, আয়কর বকেয়া থাকায় আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি) সৈয়দ তালহা আলম, প্রস্তাবকারী ভোটারের স্বাক্ষরে গড়মলি থাকায় স্বতন্ত্র প্রার্থী মাহমুদ আলী, এক শতাংশ ভোটারের তালিকার স্বাক্ষরে গড়মিল থাকায় মো. মাহফুজুর রহমান খালেদ ও হুসাইন আহমেদ।
এই আসনে মনোনয়নপত্র বৈধ হওয়া প্রার্থীরা হলেন, বিএনপির মোহাম্মদ কয়ছর আহমদ, জামায়াতে ইসলামীর মো. ইয়াসীন খান, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মোহাম্মদ শাহীনুর পাশা চৌধুরী, খেলাফত মজলিসের শেখ মুশতাক আহমদ, স্বতন্ত্র মো. আনোয়ার হোসেন।
সুনামগঞ্জ-৪ আসনে (সদর-বিশ্বম্ভরপুর) মনোনয়নপত্র দিয়েছিলেন ৯ জন। এর মধ্যে মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে তিনজনের। এঁরা হলেন, মনোনয়নপত্রে স্বাক্ষর না থাকায় খেলাফত মজলিসের মো. আমিরুল ইসলাম, সম্পদের বিবরণী জমা না দেওয়ায় লিবারেল ডেমোক্রেটিক পাটির (এলডিপি) মো. মাহফুজুর রহমান খালেদ ও এক শতাংশ ভোটারের তালিকা না দেওয়ায় স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ আবিদুল হক।
এই আসনে মনোনয়নপত্র বৈধ হওয়া প্রার্থীরা হলেন, বিএনপির নূরুল ইসলাম, জামায়াতে ইসলামীর মো. সামছ উদ্দিন, স্বতন্ত্র দেওয়ান জয়নুল জাকেরীন, জাতীয় পার্টির নাজমুল হুদা, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের শহীদুল ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মোহাম্মদ আজিজুল হক।
সুনামগঞ্জ-৫ আসনে (সদর-বিশ্বম্ভরপুর) মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন আটজন। এর মধ্যে মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে তিনজনের। এঁরা হলেন, ঋণখেলাপী হওয়ায় জাতীয় পার্টির মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, দলের চিঠি সংযুক্ত না থাকায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মোহাম্মদ মুশাহিদ আলী তালুকদার ও এক শতাংশ ভোটারে গড়মিল থাকায় স্বতন্ত্র মো. সিরাজুল ইসলাম।
এই আসনে মনোনয়নপত্র বৈধ হওয়া প্রার্থীরা হলেন বিএনপির কলিম উদ্দিন আহমদ, জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আবু তাহির মুহাম্মদ আব্দুস সালাম, স্বতন্ত্র মো. মিজানুর রহমান চৌধুরী, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) মো. আজিজুল হক, খেলাফত মজলিসের মোহাম্মদ আবদুল কাদির।