বাসস
  ০৩ জানুয়ারি ২০২৬, ১৮:১৮

ভোলার মেঘনায় কুয়াশায় ঝুঁকি নিয়ে চলছে নৌযান, ডুবে যাওয়া লবণবাহী ট্রলার উদ্ধার হয়নি এখনো

ছবি : বাসস

।। আল-আমিন শাহরিয়ার।।

ভোলা, ৩ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : ঘন কুয়াশা ও শৈত্যপ্রবাহে ভোলার মেঘনা নদীতে নৌযান চলছে ঝুঁকি নিয়ে। এখানকার নদীপথে স্বস্তি ফিরাতে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ চান ভোলাবাসী।

সরেজমিনে তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, গত দুইসপ্তাহ ধরে ভোলার মেঘনা নদীর শাহবাজপুর চ্যানেল কুয়াশাচ্ছন্ন থাকায় সব রকমের নৌযান চলাচলে মারাত্মক হুমকির কবলে পড়েছে। সম্প্রতি কুয়াশার কবলে চাঁদপুরের হাইমচরের মেঘনায় ভোলার চরফ্যাশন থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়া এমভি জাকির সম্রাট নামক লঞ্চের সাথে বরিশালের এ্যাডভেঞ্চার লঞ্চের সংঘর্ষে ভোলার ৪ যাত্রী নিহতের ঘটনা ঘটেছে। 

এদিকে গত বৃহস্পতিবার দিবাগত শুক্রবার রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে (২ জানুয়ারি) ভোলা সদরের তুলাতুলি এলাকার ইলিশ বাড়ি সংলগ্ন মেঘনা নদীতে একটি মালবাহী জাহাজের ধাক্কায় ৩শ' টন লবণবাহী একটি ট্রলার ডুবির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ট্রলারে থাকা ৭ আরোহীকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। তবে মেঘনা নদীতে গলে গেছে সব লবণ।

ডুবে যাওয়া ট্রলারের মাঝি মো. বেলাল উদ্দিন মাঝি ও শ্রমিক মো. আজিজুল ইসলাম জানান, গত বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) সকালের দিকে কক্সবাজারের কুতুবদিয়া থেকে এমভি দিলোয়া-৩ নামের এ ট্রলারে তারা ৩শ' টন লবণ বোঝাই করে খুলনার জেল খানা ঘাটের উদ্দেশ্যে রওনা করেন। পরে দুপুরের দিকে চট্টগ্রামের নৌ চ্যানেলে এসে দুপুরের খাবার খেয়ে আবারও রওনা করেন। রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে ভোলার তুলাতুলি এলাকার ইলিশ বাড়ি রিসোর্টসংলগ্ন মেঘনা নদীতে আসলে ঘন কুয়াশার মধ্যে পরেন। 

তারা বলেন, ওই সময় একটি জাহাজ তাদেরট্রলারটিকে ধাক্কা দেয়। এতে ট্রলারে পানি ঢোকতে শুরু করলে তারা তীরে দিকে চালাতে শুরু করেন। পরে তীরের কাছাকাছি আসলে ট্রলারটি ডুবে যায়। এসময় ট্রলারের থাকা ৭ আরোহী তাদের আরেকটি ছোট নৌকায় করে তীরে উঠে আসেন। তবে এঘটনায় তাদের কেউ আহত ও নিখোঁজ হয়নি বলেও জানান তারা। কিন্তু এ ঘটনায় প্রায় ৫০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি তাদের।

ট্রলারটি ডুবির খবর পেয়ে শুক্রবার দুপুর ১ টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছেন কোস্টগার্ড দক্ষিণ জোনের সদস্যরা। ডুবে যাওয়া ট্রলারটি উদ্ধারের চেষ্টা চলছে বলে জানান তারা।

ভোলার ইলিশা নৌ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈদয় আশিকুর রহমান বাসসকে জানান, খবর পেয়ে নৌ 
পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়েছেন। ডুবে যাওয়া ট্রলারটি আজ শনিবার পর্যন্ত উদ্ধারের চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন সংশ্লিষ্টরা।

ভোলার তুলাতুলি এলাকার মেঘনাপাড়ের বাসিন্দারা জানান, তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশার কারণে অত্যন্ত ঝুঁকি নিয়ে বন্দর নগরী চট্রগ্রাম, খুলনা, ঢাকা, নারায়ণগঞ্জসহ বরিশালের নৌযান ও মালবাহী জাহাজ, ট্রলার এবং যাত্রীবাহী লঞ্চগুলো এখানকার নৌ-চ্যানেল দিয়ে চলাচলে সরকারের কোনো বিধিনিষেধের তোয়াক্কা না করায় প্রতিদিনই বিভিন্ন দুর্ঘটনার শিকার হতে হচ্ছে।

তারা আরো বলেন, তাছাড়া এই অঞ্চল দিয়ে অসংখ্য ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের ফলেও চলমান নৌযানগুলো চলাচল করতে বাঁধার সম্মুখীন হচ্ছে। এ ব্যাপারে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) দ্রুত হস্তক্ষেপ চান ভোলাবাসী।