বাসস
  ০২ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:২৯
আপডেট : ০২ জানুয়ারি ২০২৬, ১৩:০১

নতুন পাঠ্যবই পেয়ে খুশি নেত্রকোণার শিক্ষার্থীরা

ছবি : বাসস

নেত্রকোণা, ২ জানুয়ারি ২০২৬ (বাসস): নতুন বছরের (২০২৬) প্রথম দিনে বিদ্যালয়ে এসে নতুন পাঠ্যবই পেয়ে খুশি জেলার শিক্ষার্থীরা। বছরের প্রথম দিনেও কুয়াশায় আচ্ছন্ন থাকায় সকালে সূর্যের আলোর দেখা না মিললেও নতুন বইয়ের ঘ্রাণে খুশিতে উচ্ছ্বসিত শিক্ষার্থীরা। দিনের শেষে সূর্যের আলোও যেন তাদের আনন্দে শরিক হওয়ার জানান দিয়ে গেল।

গতকাল বৃহস্পতিবার জেলার সবকটি বিদ্যালয়ে শুরু হয়েছে বই বিতরণ।

বরাবরের মতো এবারও বছরের প্রথম দিনেই শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছেছে নতুন বই। তবে বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে তিনদিনের রাষ্ট্রিয় শোক থাকায় বই বিতরণে নেই আনুষ্ঠানিক কোনো আয়োজন। 

সরেজমিনে জেলার বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, বই উৎসবের আনন্দের আমেজ। শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি শিক্ষক, শিক্ষিকা ও অভিভাবকদের মধ্যেও দেখা যায় স্বস্তির বহিঃপ্রকাশ।

জেলা সদর উপজেলার দিগজান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক আফজাল হোসেন বাসসকে জানান, " নতুন বছরের প্রথম দিনে বই পেয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে আনন্দ, উৎসাহ ও উদ্দীপনা কাজ করছে। কুয়াশা-মাখানো সকালেও তাদের উপস্থিতি জানান দিয়েছে নতুন বইয়ের জন্যে তারা কতটুকু আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করছিল।"

সীমান্তবর্তী উপজেলা দুর্গাপুরের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রায় পাঁচশত শিক্ষার্থীদের জন্য প্রস্তুতি রাখা হয়েছে নতুন বই। সকালে অফিসের কর্মকর্তাদের নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বই বিতরণ করেছেন শিক্ষকরা।

দুর্গাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শামসুন্নাহার বাসসকে জানান, "অন্যান্য বছর ন্যায় এবারও আমাদের প্রস্তুতি ছিল বই উৎসবের কিন্তু এবার যেহেতু রাষ্ট্রীয় শোক তাই আমরা উৎসবের মাধ্যমে বই দিতে পারেনি। কিন্তু জানুয়ারির প্রথম দিনই প্রতিটি শিক্ষার্থীকে নতুন বই দেয়া হয়েছে। আর নতুন বই পেয়ে আনন্দ বেড়েছে শিক্ষার্থীদের মধ্যে।

আর সবচেয়ে বড় আনন্দের বিষয় হলো গত বছর আমরা সব শিক্ষার্থীকে সবগুলো বই দিতে পারিনি। তবে এ বছর আমরা শতভাগ বই পেয়েছি এবং সবাইকেই নতুন বই দিতে পেরেছি। "

শিক্ষার্থীরা জানান, এ বছর সবগুলো বই হাতে পাওয়ায় বছরের শুরু থেকেই নতুন বইয়ের নতুন পাঠ্যসূচি শুরু হবে।

চলতি বছর জেলার ১৩১৪ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রাক প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত বইয়ের চাহিদা ছিলো ২০ লাখ ৯ হাজার ১৬৯ টি। যার সবগুলোই সরবরাহ করেছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর।

মাধ্যমিকে ২ লাখ ৭৭৩ জন শিক্ষার্থীর জন্য মোট বইয়ের চাহিদা ছিলো ২৬ লাখ ৫ হাজার ৯ টি। এর বিপরীতে সরবরাহ করা হয়েছে ২০ লাখ ২৫ হাজার ২৬৫ টি। আর প্রথম দিনেই বিতরণ করা হয়েছে ২০ লাখ ২০ হাজার ১৬৫ টি।

তবে জেলার ইবতেদায়ী, মাধ্যমিকে চাহিদার বেশিরভাগ বই চলে আসলেও দাখিল ২৯ হাজার ৯৬ জন শিক্ষার্থীর জন্য মোট বইয়ের চাহিদা দেয়া হয়েছিলো ৪ লাখ ৫৯২ টি বইয়ের।

কিন্তু এর বিপরীতে এসেছে মাত্র এক লাখ ৪০ হাজার ৫শ বই। শতকরা হিসেবে যা মাত্র ৩৫ শতাংশ। 

অপরদিকে ভোকেশনাল ৮ হাজার ৩শ শিক্ষার্থীর জন্য এক লাখ ৩৮ হাজার ৯৬০টি বইয়ের চাহিদা দেয়া হয়েছিলো। এক্ষেত্রেও প্রাপ্তি হয়েছে মাত্র ৮৫ হাজার ৪০০ টি বই। শতকরার হিসেবে এখানে বই এসেছে মাত্র ৬১ শতাংশ। ফলে অনেক শিক্ষার্থীকেই বছরের প্রথম দিন সব কয়টি বই দিতে পারেনি দাখিল ও ভোকেশনাল প্রতিষ্ঠানগুলো।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ শহীদুল আজম বাসসকে জানান, জেলায় আমাদের যে বইয়ের চাহিদা ছিলো আমরা তার শতভাগ সরবরাহ করেছি। যার ফলে বছরের প্রথম দিনই শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই দেয়া হয়েছে। 

তিনি জানান, সরকারি বিদ্যালয়ের পাশাপাশি বেসরকারি বিদ্যালয়গুলো একযোগে শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই পৌঁছে দিয়েছে। যেহেতু এই বছর আমাদের কোন উৎসব ছিল না, তাই প্রতিটি বিদ্যালয় তাদের শিক্ষার্থীদের নতুন বই সরবরাহ করেছে।

জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর কবীর আহাম্মদ বাসসকে বলেন, আমাদের বেশিরভাগ বই সরবরাহ করা হয়েছে। শতকরা ৯০ থেকে ৯৫ শতাংশ বই আমরা পেয়েছি এবং সরবরাহ করেছি। তবে দাখিল ও ভোকেশনালে আমাদের কিছু বই কম এসেছে। আগামী ১৫ই জানুয়ারির মধ্যে সেই বইগুলো চলে আসলে শিক্ষার্থীদের মাঝে বিতরণ করা হবে।