শিরোনাম

\ আককাস সিকদার \
ঝালকাঠি, ১ জানুয়ারি ২০২৬ (বাসস): সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে ঘোষিত রাষ্ট্রীয় শোকের মধ্যে আজ (১ জানুয়ারি) সারাদেশে শুরু হয়েছে ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবই বিতরণ কার্যক্রম। শোকের কারণে এবার বই উৎসব বাতিল করা হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার কোনো আনুষ্ঠানিকতা ছাড়াই নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের হাতে বই তুলে দেওয়া হয়েছে।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার শাহীনুল আল-আমিন মজুমদার বাসসকে জানান, প্রাক প্রাথমিক থেকে নবম-দশম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের মধ্যে আজ বই বিতরণের নির্দেশনা রয়েছে কোন আনুষ্ঠানিকতা ছাড়া। তবে বাস্তবতায় দেখা যাচ্ছে—প্রাথমিক স্তরে শিক্ষার্থীরা প্রায় শতভাগ বই পেলেও মাধ্যমিক, দাখিল ও কারিগরি স্তরের বড় একটি অংশ নতুন শিক্ষাবর্ষের প্রথম দিনেই বইবঞ্চিত থেকে গেছে।
এদিকে বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে অন্তর্বর্তী সরকার ৩১ ডিসেম্বর থেকে ২ জানুয়ারি পর্যন্ত তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করে। এই সময় জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা এবং সব ধরনের রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান স্থগিত থাকলেও শিক্ষা কার্যক্রম সচল রাখার স্বার্থে বই বিতরণ কার্যক্রম চালু রাখা হয়েছে। শোকের কারণে উৎসব না হলেও শিক্ষার্থীদের হাতে বই তুলে দেয়া হয়েছে।
ঝালকাঠি জেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, সব স্তর মিলিয়ে ঝালকাঠি জেলায় পাঠ্যবইয়ের মোট চাহিদা ছিল ১১ লাখ ১৯ হাজার ৮৮২ কপি। এর বিপরীতে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) থেকে পাওয়া গেছে ৫ লাখ ৭০ হাজার ৮৪০ কপি এবং বিতরণ হয়েছে ৫ লাখ ৪৭ হাজার ১৯৫ কপি। ফলে নতুন শিক্ষাবর্ষের শুরুতেই জেলায় ৫ লাখ ৪৯ হাজার ৪২ কপি বইয়ের ঘাটতি রয়ে গেছে।
এছাড়া ঝালকাঠিতে প্রাথমিক ও এবতেদায়ী স্তরে তুলনামূলকভাবে স্বস্তির চিত্র দেখা গেছে। এ স্তরে পাঠ্যবইয়ের মোট চাহিদা ছিল ১ লাখ ৯০ হাজার ৪০ কপি। এনসিটিবি সরবরাহ করেছে সমপরিমাণ বই এবং বিতরণ সম্পন্ন হয়েছে ১ লাখ ৮৭ হাজার ১০০ কপি। কার্যত এ স্তরে কোনো ঘাটতি নেই বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ।
তবে প্রাথমিকের এই স্বস্তির বিপরীতে মাধ্যমিক স্তরে জেলায় ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠ্যবইয়ের মোট চাহিদা ছিল ৬ লাখ ২ হাজার ৫৪৫ কপি। এর মধ্যে এনসিটিবি সরবরাহ করেছে ২ লাখ ৯১ হাজার ৮০০ কপি এবং বিতরণ হয়েছে ২ লাখ ৭৪ হাজার ২৩০ কপি। ফলে মাধ্যমিক স্তরে এখনো ৪৮ হাজার ৩১৫ কপি বইয়ের ঘাটতি রয়েছে। বিতরণ হার দাঁড়িয়েছে মাত্র ৪৮ দশমিক ৪৩ শতাংশে।
মদরাসা (দাখিল) শিক্ষা স্তরে মোট চাহিদা ছিল ৩ লাখ ১৪ হাজার ৮০৫ কপি। এনসিটিবি সরবরাহ করেছে মাত্র ৮৯ হাজার কপি এবং বিতরণ হয়েছে ৮৫ হাজার ৮৬৫ কপি। ফলে দাখিল স্তরে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ২৫ হাজার ৮০৫ কপি। বিতরণ হার নেমে এসেছে মাত্র ২৮ দশমিক ২৭ শতাংশে।
এদিকে ঝালকাঠি জেলায় কারিগরি স্তরে পাঠ্যবইয়ের চাহিদা ছিল ১২ হাজার ৪৯২ কপি। কিন্তু নতুন শিক্ষাবর্ষের প্রথম দিন পর্যন্ত একটি বইও সরবরাহ বা বিতরণ হয়নি। ফলে কারিগরি শিক্ষার্থীরা শতভাগ বইবঞ্চিত অবস্থায় রয়েছে।
ঝালকাঠি সদর উপজেলার তারুলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হাবিবুর রহমান বাসসকে বলেন, “আমাদের বিদ্যালয়ে সব বই পৌঁছেছে এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিতরণ করা গেছে। রাষ্ট্রীয় শোক দিবসের কারনে আমরা কোন অনুষ্ঠান করিনি। তবে শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে আসার পর আমরা বই তাদের তুলে দিয়েছি।
জেলা শিক্ষা অফিসার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. আবু সাইদ বলেন, এনসিটিবি থেকে পর্যায়ক্রমে পাঠ্যবই সরবরাহ করা হবে। বাকি বই দ্রুত পাওয়ার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে এবং সরবরাহ পেলেই দ্রুত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে পৌঁছে দেওয়া হবে।