শিরোনাম

শাহজাহান নবীন
ঝিনাইদহ, ১ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : ফসলের বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে যেন হলুদ শোভার ঢেউ খেলে গেছে। হলুদ রঙে ছেয়ে গেছে মাঠের পর মাঠ। যেদিকে চোখ যায় হলুদ রঙের ছড়াছড়ি। দেখে মনে হয় সবুজ সমুদ্রের বুকজুড়ে দুলছে হলুদ উর্মীমালা। সেইখানে রোঁয়া আছে কৃষকের খুশির ঝিলিক।
এখন শীতকাল। বাংলার মাঠে মাঠে, হলুদ সরিষা, সবুজ শাক-সবজি ও নানারকম রবিশস্যের সমাহার। তার মধ্যে সরিষা যেন একটু বেশিই রং ছড়ায়। দেশের অন্যতম অর্থকরী ফসল সরিষার এই মাঠ ভরা হাসি কৃষকের মনে আনন্দ এনে দেয়। বছরের বেশ কটা দিনের সংসার খরচ চলবে তাতে।
ঝিনাইদহ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, চলতি মৌসুমে জেলার মোট ১৩ হাজার ২৯৫ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় জেলার অধিকাংশ মাঠেই সরিষার আশানুরূপ ফলন হয়েছে। স্বল্পমেয়াদি আবাদি ফসল হওয়ায় জেলায় সরিষার আবাদ বেড়েছে। যা জেলার ভোজ্যতেলের চাহিদা মেটাতে ভূমিকা রাখবে বলেও জানিয়েছে কৃষি বিভাগ।
সদর উপজেলার মিয়াকুন্ডু গ্রামের সরিষা চাষি আল আমিন বাসসকে বলেন, প্রায় ২ বিঘা জমিতে সরিষার আবাদ করেছি। এই ফসল আবাদে খরচ খুবই কম। বোরো ধান কাটার পরে প্রায় তিন মাস জমি ফাঁকা পড়ে থাকে। এই সময়টুকুতে আমরা সরিষার আবাদ করেছি। বিঘা প্রতি ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা লাভ হবে এবার।
শৈলকূপা উপজেলার ফুলহরি এলাকার সরিষা চাষি আয়নাল হোসেন বলেন, সরিষার আবাদ করলে জমির উর্বরতা প্রাকৃতিকভাবে বৃদ্ধি পায়। এ ছাড়া আমাদের একটা বাড়তি আয় হয়। স্থানীয় বাজারে সরিষার তেলের ব্যাপক চাহিদা। যে কারণে সরিষার চাষ দিনদিন বাড়ছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বলছে, চলতি মৌসুমে জেলার সদর উপজেলায় প্রায় ৩ হাজার ৯২০ হেক্টর জমিতে সরিষা আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। সে অনুযায়ী সদর উপজেলার প্রায় ৩ হাজার ৮৯৬ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছে।
এ ছাড়া কালীগঞ্জ উপজেলায় ১ হাজার ৯৮১ হেক্টর, শৈলকুপায় ২ হাজার ৯২০ হেক্টর, হরিণাকুণ্ডু উপজেলায় ৩ হাজার ৩৮০ হেক্টর, কোটচাঁদুপরে ৫০০ হেক্টর ও মহেশপুর উপজেলার ৫৯৪ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছে। যা মোট লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করেছে বলে জানিয়েছে জেলা কৃষি বিভাগ।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. কামরুজ্জামান বাসসকে বলেন, ঝিনাইদহে চলতি মৌসুমে ব্যাপক সরিষার আবাদ হয়েছে। জমি ফেলে না রেখে কৃষকরা সরিষার আবাদ করে ভালো ফলন পেয়েছেন। তারা এবার আশানুরূপ মুনাফা অর্জন করতে পারবেন। এ ছাড়া জেলায় উৎপাদিত সরিষা থেকে উৎপন্ন তেল স্থানীয় ভোজ্যতেলের চাহিদা পূরণেও ভূমিকা রাখবে। সরিষার আবাদ বৃদ্ধি করতে আমরা কৃষকদের বিভিন্নভাবে পরামর্শ দিয়েছি। এ ছাড়া কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে সার-বীজ বিতরণসহ উদ্বুদ্ধকরণ কর্মসূচি আয়োজন করা হয়েছে। আশা করি, জেলায় আগামী মৌসুমে সরিষার আবাদ আরও বৃদ্ধি পাবে।