বাসস
  ২২ ডিসেম্বর ২০২১, ১৪:১৩

দেশের প্রথম ডিজিটাল জেলা যশোর ই-কমার্সের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে

॥ সৈয়দ এলতেফাত হোসেন ॥
যশোর, ২২ ডিসেম্বর, ২০২১ (বাসস) : দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত এই জেলার একটি ই-কমার্স সাইট ‘গ্রামের হাট’। এই সাইটের মাধ্যমে স্থানীয় পণ্যকে সারা দেশে ছড়িয়ে দেয়ার পাশাপাশি পণ্যের ব্র্যান্ডিং করা হচ্ছে। নতুন ই-কমার্স উদ্যোক্তাদের কাছে এই সাইটটি একটি আদর্শ হিসেবে কাজ করছে। 
বাসসের সাথে আলাপ কালে গ্রামের হাট-এর সত্বাধিকারী মো. আরিফুজ্জামান বলেন, “আমি ২০১২ সালে ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার (ইউডিসি) এর উদ্যোক্তা হিসেবে ই-কমার্সের সাথে যুক্ত হই। তখন থেকেই আমার স্বপ্ন ছিল স্থানীয় জনপ্রিয় পণ্য যেমন- যশোরের খেজুর গুড়, সিলেটের চা এবং রাজশাহীর আম ইত্যাদি সারা দেশের মানুষের কাছে পৌছে দেওয়া।” 
বর্তমানে আরিফের উদ্যোগে চালু হওয়া ই-কমার্স সাইট ‘গ্রামের হাট ডট কম’ (https://gramerhat.com/)দেশের ২৫টি জেলা থেকে এর কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। আরিফ বলেন, “আমরা বিভিন্ন জেলায় বিক্রয় প্রতিনিধি নিয়োগ দিয়েছি এবং তাদের মাধ্যমে সেই জেলার জনপ্রিয় পণ্যগুলিকে সারাদেশে সরবরাহ করা হয়।” 
গ্রামের হাট এখন সরকারের জেলা ব্র্যান্ডিং কর্মসূচির সাথেও কাজ করছে। আরিফ বলেন, “আমরা খুব ভাল সাড়া পাচ্ছি। এখন আমাদের সাথে  ৬জন কর্মচারি  এবং ৫০ জন ইউডিসি উদ্যোক্তা কাজ করছে। আমরা পণ্য রফতানির চিন্তাভাবনাও করছি।” 
জেলা প্রশাসন ও সরকারের আইসিটি বিভাগের সহযোগীতায় বর্তমানে জেলার অনেক ই-কমার্স উদ্যোক্তাই তাদের ‘স্টার্টআপ’ চালু করেছে। 
‘দেশি ফেরিওয়ালা ডট কম’ (https://www.deshiferiwala.com/)জেলার তেমনি একটি ই-কমার্স সাইট যারা যশোর জেলার বিভিন্ন বিখ্যাত পণ্য যেমন- পাটালি গুড়, মধু, ঘি ও নকশি কাঁথার ব্র্যান্ডিং করছে এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে দিচ্ছে। এই ই-কমার্সের সাথে ১৫০ জন ‘গাছি’ (খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহকারী) এবং ৮০ জন নারী কর্মিও যুক্ত রয়েছেন। 
যশোর জেলার আরেকটি ই-কমার্স সাইট ‘কেনার হাট ডট কম’ (https://kenarhat.com/খেজুর রসের পাটালি গুড় সারা দেশে পৌঁছে দিচ্ছে, তাদের এই উদ্যোগের সাথে ১০০ জন ‘গাছি’ কাজ করছে। 
গত ঈদ-উল-আযহার সময়ে যশোর জেলা প্রশাসন কোরবানীর পশু বেচাকেনার জন্য ‘যশোর হাট ডট কম’ (www.jashorehat.com) চালু করে এবং এই সাইটের মাধ্যমে ২০২১ সালের জুলাইয়ের ১১ থেকে ২০ তারিখের মধ্যে সর্বমোট ১,৭৮৮টি পশু বেচাকেনা করা হয়, যার আর্থিক মূল্য ছিল ১২.২১ কোটি টাকা।   
যশোর হাট এখন জেলা ব্র্যান্ডিং এর কাজ করছে এবং স্থানীয় খেজুর গুড়, ফুল ও নকশি কাঁথার মতো পণ্যগুলিকে দেশব্যাপী সরবরাহ করে চলেছে। ১৭৮৬ সালে ভারতীয় উপমহাদেশের প্রথম জেলা হিসেবে যশোর জেলা প্রতিষ্ঠা করা হয়। কালের ধারাবাহিকতায় যশোরই দেশের সর্ব প্রথম ‘ডিজিটাল জেলা’ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। নাগরিকদের জন্য সব ধরনের সেবাপ্রদান কার্যক্রম ডিজিটালি রূপান্তর করতে পারার কারণেই যশোর এই স্বীকৃতি পেয়েছে। ইউএনডিপির সহায়তায় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এটুআই এবং সরকারের আইসিটি বিভাগ এই ডিজিটাল সেবা বাস্তবায়নে কাজ করছে। 
যশোরের জেলা প্রশাসক মো. তামিজুল ইসলাম খান বলেন, এটুআই-এর সহযোগিতায় আমরা এখানে ই-সার্ভিস সেন্টার স্থাপন করেছি। সেন্টারটি বর্তমানে মিউটেশন, ডিজিটাল এটেনডেন্স, অনলাইন স্কুল ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম, ই-ফাইলিং,এসএমএস মেসেজিং সিস্টেম এবং অনলাইনে মিটিং আয়োজন করার মতো কাজে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। 
তিনি বলেন, ইউডিসির মাধ্যমে গ্রাম ও পৌরসভা পর্যায়ে মোট ১০৪ জন উদ্যোক্তা প্রান্তিক জনগোষ্ঠির দোরগোড়ায় ডিজিটাল সেবাসমূহ পৌছে দিচ্ছে। সরকারের সার্বিক সহযোগিতায় গড়ে ওঠা ই-কমার্স সাইটগুলি এখন জনপ্রিয় পণ্য সারা দেশে পৌছে দেওয়া ও পাশাপাশি রফতানির মাধ্যমে জেলার ব্র্যান্ডিং-এ  অসামান্য অবদান রাখছে।    
তামিজুল ইসলাম বলেন, যশোর জেলা ইতিমধ্যেই অনেকগুলি অনলাইন বিজনেস প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ই-কমার্সের কেন্দ্রবিন্দুতে রূপান্তরিত হয়েছে। এই জেলার ই-কমার্সের প্রসারের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে শেখ হাসিনা সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক। 
বাংলাদেশ সরকারের আইসিটি বিভাগের প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক বলেন, সরকার ‘শি পাওয়ার প্রোজেক্ট’ এর মাধ্যমে ২১ টি জেলার মোট ১০,৫০০ নারীকে আইটি প্রশিক্ষণ দিয়েছে। এসব প্রশিক্ষিত নারীরা যশোর ও খুলনা অঞ্চলে চালডাল ও সেবা এক্সওয়াইজেড এর মতো ই-কমার্স সাইটের মাধ্যমে সফল স্টার্টআপ পরিচালনা করছেন।