BSS-BNhrch_cat_news-24-5
বাসস
  ১৫ নভেম্বর ২০২১, ১৩:৩৩

বাংলার জনপদের দিগন্ত জোড়া রোপা আমন ধান

॥ সাজ্জাদ গনি খাঁন রিমন ॥
যশোর, ১৫ নভেম্বর, ২০২১ (বাসস) : হেমন্ত ঋতুতে গ্রাম বাংলার জনপদের দিগন্ত জোড়া রোপা আমন ধান কলাপাকা হয়ে হাওয়ায় দুলছে মাঠে-মাঠে। কৃষাণ-কৃষাণীরা তাদের ঘরে সোনালী এ ধান কাটা ও মাড়াই করতে পুরোদমে প্রস্তুতি নিচ্ছেন। আবহাওয়া অনুকূল থাকায় ইতোমধ্যে কোন-কোন এলাকায় বেশ উৎফুল্লতার সাথে ধান কাটা ও মাড়াই কাজ শুরুও হয়েছে। 
যশোর অঞ্চলের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ১১ নভেম্বর পর্যন্ত শতকরা ২৩ ভাগ জমির ধান কাটা সম্পন্ন হয়েছে। আগামী ১৫ থেকে ২০ দিনের মধ্যে মাঠের সব ধান চাষিদের ঘরে চলে আসবে।
এদিকে, লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার হেক্টর জমিতে আবাদ বেশি হওয়ায় এবার যশোর অঞ্চলে রোপা আমনের ফলন লক্ষ্যমাত্রাও ছাড়িয়ে যাবে। এমনই সুখবর জানাচ্ছেন যশোর অঞ্চলের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা। তাদের বক্তব্য এবছর ফলন ভাল হওয়ায় ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে।
যশোর অঞ্চলের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক জাহিদুল আমিন জানান, যশোর, ঝিনাইদহ, মাগুরা, কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুরসহ এই ৬ জেলায় রোপা আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় ৪ লাখ ৫১ হাজার ৫২০ হেক্টর জমি। কিন্তু আবাদ হয়েছে চার লাখ ৫৫ হাজার ৯ হেক্টর জমিতে। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৩ হাজার ৪৮৯ হেক্টর জমিতে রোপা আমন আবাদ বেশি হয়েছে। এরমধ্যে যশোর জেলায় হাইব্রিড ধান ৯ হাজার ১১৭ হেক্টর, উচ্চ ফলনশীল এক লাখ ২৮ হাজার ৪৪৩ হেক্টর ও স্থানীয় জাতের এক হাজার ৩৮৫ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে। ঝিনাইদহ জেলায় হাইব্রিড ধান সাত হাজার ৬৫৭ হেক্টর ও উচ্চ ফলনশীল ৯৬ হাজার ৯৫৫ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে। মাগুরা জেলায় হাইব্রিড ধান ১০ হাজার ৩০ হেক্টর, উচ্চ ফলনশীল ৫০ হাজার ৫৩৮ হেক্টর ও স্থানীয় জাতের ৯০২ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে। কুষ্টিয়া জেলায় হাইব্রিড ধান ১০ হাজার ৪৭৪ হেক্টর, উচ্চ ফলনশীল ৭৭ হাজার ৩৩৮ হেক্টর ও স্থানীয় জাতের এক হাজার ৩৩ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে। চুয়াডাঙ্গা জেলায় হাইব্রিড ধান দুই হাজার ৬৩৯ হেক্টর ও উচ্চ ফলনশীল ৩২ হাজার ২৭৮ হেক্টর জমিতে এবং মেহেরপুর জেলায় উচ্চ ফলনশীল ২৬ হাজার ১৭০ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে।
তিনি জানান, ১১ নভেম্বর পর্যন্ত আবাদ হওয়া মোট জমির ২৩ শতাংশ ফসল কর্তন হয়েছে। আশা করা যাচ্ছে আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে ফসল কাটার কাজ সম্পন্ন হবে। তিনি বলেন, অকাল বর্ষণে আবাদী ফসলের কিছুটা ক্ষতি হলেও এবছরে চালের উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ১৩ লাখ ৫ হাজার ১৭৫ টন ছাড়িয়ে উদ্বৃত্ত হবে।
এদিকে, স্বচ্ছলতার হাসি নিয়ে কৃষাণ-কৃষাণীর দীর্ঘ প্রতীক্ষা শেষে মাঠের সোনালী ফসল ঘরে আসতে শুরু করেছে। তাদের আঙিনা ভরে উঠছে সোনালি শস্যে, মুখে ফুটেছে হাসির ঝিলিক। ফসলের মৌ-মৌ গন্ধে ভরে উঠছে সারা বাড়ি। উঠোনে ছড়ানো সোনালি ধান। সাথে আনন্দের বন্যা। ঘরে-ঘরে হবে নবান্ন উৎসব। তাই কন্যা-জায়া-জননীর ব্যস্ততা এখন দিনরাত।
যশোরের মণিরামপুর উপজেলার খেদাপাড়া ইউনিয়নের যোগীপোল গ্রামের প্রবীণ কৃষক শচীন্দ্র নাথ দাস জানান, দেড়বিঘা জমিতে চিকন জাতের হাইব্রিড ধান আবাদ করেছি। ফলন বেশ ভাল হয়েছে। ধান কাটার কাজ চলছে। এখন বাড়িতে আনার অপেক্ষা। কাঠায় দেড় মণ করে ধান পাবেন বলে তিনি জানান।
একই গ্রামের আবু তালেব জানান, আবহাওয়া অনুকূল থাকায় এবছরও ফলন বেশ ভাল হয়েছে। তিনি দুই বিঘা জমিতে উপসী ও গুটি স্বর্ণা জাতের ধান চাষ করেছেন। ধান কাটা শুরু করেছেন। এখনও কাটা শেষ হয়নি। তবে এ সপ্তাহেই সব ধান ঘরে চলে আসবে।
মণিরামপুর উপজেলার কাশিমপুর ইউনিয়নের নাদড়া গ্রামের কৃষিজীবী নেকবার মোড়ল জানান, এ বছর অকাল বর্ষণে উচু এলাকায় ফসল ভাল হলেও নিচু এলাকায় পানি সরে না যাওয়ায় ফসল তেমন ভাল হয়নি। তার চার বিঘা জমির ধান কাটা সম্পন্ন হয়েছে। তবে তার এলাকার অনেকেরই ধান কাটা হয়নি। যশোর সদর উপজেলার বড় হৈবৎপুর গ্রামের কৃষিজীবী প্রবীর তরফদার জানান, তিনি উপসী জাতের ধান চাষ করেছেন। কাঠা প্রতি প্রায় মন মণ ধাণ উৎপাদন হয়েছে। ধানের দামও ভাল।
 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বেটা ভার্সন