শিরোনাম

সংসদ ভবন, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ (বাসস): কুমিল্লা-৬ আসনের সরকারি দলের সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি জেনারেল এম.এ.জি. ওসমানীর জীবন, কর্ম, গৌরবগাঁথা, সততা ও দেশপ্রেমের ইতিহাস পাঠ্যবইয়ে অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন।
আজ জাতীয় সংসদে কার্যপ্রণালি বিধির ৩০২-এর আওতায় উত্থাপিত এক নোটিশে তিনি এ আহ্বান জানান।
মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, জেনারেল ওসমানীর ১০৮তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বঙ্গবীর ওসমানী স্মৃতি পরিষদ আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তিনি অত্যন্ত হতাশ ও লজ্জিত হয়েছেন। তিনি বলেন, অনুষ্ঠানে প্রবীণ কিছু মানুষ, যাদের বয়স ৭০-৮০ বছর, তারাই বক্তা ও শ্রোতা ছিলেন।
তিনি বলেন, জেনারেল ওসমানীর জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকী সরকারিভাবে স্বীকৃত না হওয়ায় এ ধরনের আয়োজন যথাযথভাবে হচ্ছে না। এমনকি স্কুল পর্যায়ের পাঠ্যবইয়ে জেনারেল ওসমানী সম্পর্কে একটি লাইনও আছে কি না, তা নিয়ে তিনি সংশয় প্রকাশ করেন।
সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জাতীয় সংসদের মূল প্রবেশদ্বারের নাম ‘এম.এ.জি. ওসমানী গেট’ করার মাধ্যমে তার প্রতি জাতীয় ঋণ পরিশোধের যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, একইভাবে পাঠ্যবইয়ে জেনারেল ওসমানীর জীবনসংগ্রাম, মুক্তিযুদ্ধে তাঁর নেতৃত্ব, গৌরবগাঁথা, কীর্তি, সততা ও দেশপ্রেমের ইতিহাস অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, বাঙালি জাতীয়তাবাদের উষালগ্নে জেনারেল আতাউল গণি ওসমানীর ভূমিকা অত্যন্ত গৌরবোজ্জ্বল। মুক্তিযুদ্ধে তাঁর ভূমিকা ইতিহাসের অংশ। অবসর জীবনে দূরে সরে থাকার বয়সে তিনি মুক্তিযুদ্ধের সেনানায়কের দায়িত্ব গ্রহণ করে ইতিহাসে বিরল নজির স্থাপন করেন।
মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, স্বাধীনতার পর সরকারে মন্ত্রী থাকা সত্ত্বেও একদলীয় শাসনব্যবস্থার প্রতিবাদে পদত্যাগ করেও তিনি জাতির সামনে আরেকটি নজির স্থাপন করেন।
তিনি জেনারেল ওসমানীর বর্ণাঢ্য সামরিক জীবনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে বলেন, ১৯১৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর সিলেটে জন্মগ্রহণকারী ওসমানী সিলেটে পড়াশোনা শেষে আলীগড় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে তিনি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং ছাত্রনেতার দায়িত্ব পালন করেন।
তিনি বলেন, আইসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েও সরকারি কর্মকর্তা না হয়ে তিনি সামরিক বাহিনীতে যোগ দেন। ব্রিটিশ সরকারের জেন্টেলম্যান ক্যাডেট কোরে যোগ দিয়ে ১৯৩৯-৪০ সালে সর্বকনিষ্ঠ মেজর হন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ ভূমিকার মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে বাঙালি সামরিক কর্মকর্তা হিসেবে তিনি সুনাম অর্জন করেন।
মনিরুল হক চৌধুরী আরও বলেন, ১৯৬৫ সালের পাক-ভারত যুদ্ধে জেনারেল ওসমানীর নেতৃত্বে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান অংশগ্রহণ করেন। পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে বাঙালি কর্মকর্তাদের প্রতি বৈষম্যের শিকার হয়ে ওসমানী দীর্ঘদিন একই কর্নেল পদে দায়িত্ব পালন করেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, ১৯৭০ সালের নির্বাচনে জেনারেল ওসমানীর জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে আওয়ামী লীগ তাকে নির্বাচনে প্রার্থী করে এবং তিনি বিজয়ী হন। পরবর্তী সময়ে তিনি ক্যান্টনমেন্ট নিয়ন্ত্রণ ও মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন এবং ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট ও প্রাথমিক বিদ্রোহে নেতৃত্ব দেন।
নোটিশের জবাবে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম বলেন, সংসদ সদস্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় উত্থাপন করেছেন, যাতে জাতির একজন বীর সন্তানের কাহিনি সম্পর্কে জনগণ জানতে পারে।
স্পিকার নোটিশটি সংসদে উত্থাপিত হয়েছে উল্লেখ করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে এ বিষয়ে সরাসরি মনিরুল হক চৌধুরীকে জবাব দেওয়ার এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়কে অবহিত করার জন্য অনুরোধ জানান।