শিরোনাম

সংসদ ভবন, ৩০ আগস্ট, ২০২৬ (বাসস) : অনলাইন ব্যবসা যথাযথভাবে নিয়ন্ত্রণ ও তদারকির জন্য সরকার ই-কমার্স কর্তৃপক্ষ গঠনের বিষয়টি সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
আজ জাতীয় সংসদে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অধিবেশনে শেরপুর-১ আসনের বিরোধীদলীয় (জামায়াতে ইসলামী) সদস্য এম রাশেদুল ইসলাম রাশেদের কার্যপ্রণালি বিধির ৭১ বিধিতে উত্থাপিত জরুরি জনগুরুত্বসম্পন্ন বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণ নোটিশের জবাবে মন্ত্রী এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, ই-কমার্স ব্যবসা একটি চলমান প্রক্রিয়া। ই-কমার্স কর্তৃপক্ষ গঠনের মাধ্যমে নিবন্ধিত মাল্টি-লেভেল মার্কেটিং (এমএলএম) কোম্পানিগুলোর কার্যক্রম কঠোর নজরদারির আওতায় আনা হবে।
তিনি বলেন, দেশে কোভিড-১৯ মহামারির আগে ও পরে অনলাইন ব্যবসা দ্রুত সম্প্রসারিত হয়েছে। এসব এমএলএম কোম্পানিকে আইনি কাঠামোর আওতায় আনতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জাতীয় ডিজিটাল কমার্স নীতি, ডিজিটাল কমার্স পরিচালনা নির্দেশিকা এবং ডিজিটাল বিজনেস আইডেন্টিটি নিবন্ধন নির্দেশিকাসহ বিভিন্ন আইন ও নীতিমালা প্রণয়ন করেছে।
ই-ভ্যালি, ই-অরেঞ্জ, কিউ-কম, ধামাকা শপিং ও আলিশা মার্টসহ কয়েকটি এমএলএম কোম্পানির আর্থিক প্রতারণার প্রসঙ্গ তুলে ধরে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ভোক্তারা জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরে মোট ৫৮ হাজার ৭২০টি আর্থিক প্রতারণার অভিযোগ করেছেন।
এসব অভিযোগের বিপরীতে আর্থিক দাবির পরিমাণ প্রায় ৩ হাজার ৮৬৯ কোটি টাকা বলে জানান তিনি।
মন্ত্রী বলেন, ২০২২ সাল পর্যন্ত দেশে অনলাইন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম তদারকি ও নিবন্ধনের জন্য কোনো আইনগত কর্তৃপক্ষ ছিল না। পরবর্তীতে, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ডিজিটাল বিজনেস আইডেন্টিটি নিবন্ধন নির্দেশিকা জারি করে এবং এসব প্রতিষ্ঠানকে নিবন্ধন দেওয়ার দায়িত্ব যৌথ মূলধন কোম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদপ্তরকে (আরজেএসসি) দেওয়া হয়।
তিনি জানান, এ পর্যন্ত আরজেএসসি প্রায় ১ হাজার ৯০২টি অনলাইন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে ডিজিটাল নিবন্ধন দিয়েছে।
অনলাইন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে আর্থিক প্রতারণার অভিযোগ দায়েরের পর জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর এসব প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ৫৩১ কোটি টাকা উদ্ধার করেছে বলেও জানান মন্ত্রী।
উদ্ধার করা অর্থের মধ্যে ৪৭২ কোটি টাকা ইতোমধ্যে প্রকৃত ভোক্তাদের হিসাবে বিতরণ করা হয়েছে। বাকি অর্থ প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে প্রকৃত ভোক্তাদের মধ্যে বিতরণ করা হবে বলে জানান তিনি।