শিরোনাম

সংসদ ভবন, ২৭ আগস্ট, ২০২৬ (বাসস) : রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে বাংলাদেশের সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা ও প্রাতিষ্ঠানিক স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে উল্লেখ করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।
তিনি বলেন, ১৯৯১ সালের পর দীর্ঘ ৩৫ বছর বিরতিতে ২০২৬ সালে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন দেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায় একটি তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা।
আজ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের কার্যক্রম শুরুর আগে দেওয়া বক্তব্যে স্পিকার এসব কথা বলেন।
স্পিকার বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের আত্মত্যাগ আজও গণতন্ত্র, ন্যায়, মানবিক মর্যাদা ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে অনুপ্রেরণা জোগায়। সেই প্রেরণার ধারাবাহিকতায় মুক্তিকামী ছাত্র-জনতার বিজয় স্মৃতিবাহী আগস্ট মাস জাতীয় জীবনে বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।
তিনি বলেন, ২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিনের স্বৈরাচারী ও ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটে। মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আত্মোৎসর্গকারী সকল শহীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, তাঁদের আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে একটি গণতান্ত্রিক, ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক রাষ্ট্র বিনির্মাণে প্রত্যেককে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক গুরুত্ব তুলে ধরে স্পিকার বলেন, রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে নতুন রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা ও প্রাতিষ্ঠানিক স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সূচনা করেছে।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় জাতীয় সংসদের পক্ষ থেকে এবং ব্যক্তিগতভাবে তাঁকে আন্তরিক অভিনন্দন ও উষ্ণ শুভেচ্ছা জানান স্পিকার। একই সঙ্গে তিনি রাষ্ট্রপতির সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও সাফল্য কামনা করেন।
স্পিকার প্রত্যাশা করেন, রাষ্ট্রপতির নেতৃত্বে রাষ্ট্রের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মর্যাদা ও পারস্পরিক সহযোগিতা আরো সুদৃঢ় হবে এবং দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা বেগবান হবে।
জাতীয় সংসদকে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা ও প্রত্যাশার প্রতিফলনের সর্বোচ্চ গণতান্ত্রিক মঞ্চ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, জনগণের কল্যাণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে আইন প্রণয়ন, নীতি নির্ধারণ এবং রাষ্ট্রীয় কার্যক্রমে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা সংসদ সদস্যদের প্রধান দায়িত্ব।
তিনি বলেন, এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে, যেখানে গণতন্ত্র সুদৃঢ়, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান কার্যকর এবং প্রতিটি নাগরিক সমান সুযোগ ও মর্যাদা নিয়ে বসবাস করবে।
জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে এ লক্ষ্য অর্জনে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে স্পিকার বলেন, দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। পরমতসহিষ্ণুতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সৌহার্দ্যের পরিবেশে সংসদীয় কার্যক্রম পরিচালনার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন প্রাণবন্ত ও কার্যকর হয়ে উঠবে।