বাসস
  ১৩ জুলাই ২০২৬, ১৯:৪৭

চরিত্রহননমূলক কনটেন্ট অপসারণে আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে সমন্বয় করবে সরকার: আইসিটি মন্ত্রী

ফাইল ছবি

সংসদ ভবন, ১৩ জুলাই, ২০২৬ (বাসস): ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যক্তিগত চরিত্রহননমূলক কনটেন্ট অপসারণে আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্মগুলোর সঙ্গে আরও কার্যকর সমন্বয় গড়ে তুলতে সরকার সাইবার সুরক্ষা আইন সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে।

এ লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট একটি মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করেছেন, যা শিগগিরই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানান তিনি।

আজ জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত মহিলা আসন-৩৫ এর সরকারি দলের সদস্য সেলিনা সুলতানার জরুরি জন-গুরুত্বসম্পন্ন মনোযোগ আকর্ষণ নোটিশের জবাবে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

ফকির মাহবুব আনাম বলেন, বর্তমানে ইউটিউব, টিকটকসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম দেশের নিরাপত্তা, জনশৃঙ্খলা বা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানেÑ এ ধরনের কনটেন্ট দ্রুত অপসারণে সহযোগিতা করলেও ব্যক্তিগত চরিত্রহননমূলক কনটেন্ট সরাতে তুলনামূলকভাবে অনীহা দেখায়।

তিনি বলেন, সরকার এ বিষয়ে বিটিআরসির মাধ্যমে একাধিকবার সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্মগুলোর সঙ্গে আলোচনা করেছে। কিন্তু ব্যক্তিগত মানহানিকর কনটেন্ট অপসারণে কাক্সিক্ষত সহযোগিতা পাওয়া যাচ্ছে না। এ কারণে আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সময়সীমাবদ্ধ কনটেন্ট টেকডাউন চুক্তি এবং এ সংক্রান্ত নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশের ফলে ডিপফেক, এআই-নির্ভর ছবি, ভিডিও ও অডিও ব্যবহার করে মানহানিকর ও বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট তৈরি ও প্রচার বেড়েছে। এ বাস্তবতায় সাইবার সুরক্ষা আইনকে আরও কার্যকর ও সময়োপযোগী করতে সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, প্রস্তাবিত সংশোধনীতে এআই দিয়ে তৈরি বা সম্পাদিত মানহানিকর কনটেন্ট প্রচারকে সুস্পষ্টভাবে অপরাধ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা, শাস্তির পরিমাণ বৃদ্ধি এবং মানহানির একটি স্পষ্ট সংজ্ঞা সংযোজনের প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

ফকির মাহবুব আনাম বলেন, ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা রাষ্ট্রকে বিভ্রান্ত বা ক্ষতিগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যে মিথ্যা, বিকৃত বা বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারকে আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি গুজব, অপতথ্য ও মানহানিকর কনটেন্ট দ্রুত অপসারণের বিধান আরও সুস্পষ্ট করা হবে।

তিনি জানান, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সাইবার নিরাপত্তা হেল্পডেস্ক স্থাপন, ‘কিশোর-কিশোরী সাইবার অপরাধ প্রতিরোধ কমিটি’ গঠন এবং ‘সাইবার ইনসিডেন্ট রিপোর্টিং সিস্টেম’ চালুর মাধ্যমে নাগরিকদের সাইবার নিরাপত্তা সেবা আরও শক্তিশালী করা হয়েছে।