শিরোনাম

সংসদ ভবন, ১৩ জুলাই, ২০২৬ (বাসস) : নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেছেন, চট্টগ্রাম বন্দরের লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল প্রকল্পের কনসেশন চুক্তি বাতিল বা পুনঃআলোচনার কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই। সব প্রযোজ্য আইন ও ক্রয় নির্দেশিকা অনুসরণ করে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার সঙ্গে চুক্তিটি সম্পাদিত হয়েছে।
আজ জাতীয় সংসদে সরকারি দলের সংসদ সদস্য মো. শাহাদাত হোসেন (লক্ষ্মীপুর-১)-এর তারকাচিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী জানান, চুক্তির মেয়াদ মোট ৩৩ বছর। এর মধ্যে তিন বছর নির্মাণকাল এবং ৩০ বছর পরিচালনাকাল। পরবর্তীতে চুক্তির মেয়াদ আরো ১৫ বছর বাড়ানোর সুযোগ রাখা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) মডেলের মাধ্যমে চট্টগ্রাম বন্দরে লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল স্থাপন ও পরিচালনা’ প্রকল্পের কনসেশন চুক্তি পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ আইন, ২০১৫, সরকার-টু-সরকার (জি-টু-জি) অংশীদারত্বে পিপিপি প্রকল্প বাস্তবায়ন নীতিমালা, ২০১৭ এবং পিপিপি প্রকল্পের ক্রয় নির্দেশিকা, ২০১৮ অনুযায়ী সম্পাদিত হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও ডেনমার্ক সরকারের মধ্যে সরকার-টু-সরকার (জি-টু-জি) পিপিপি ব্যবস্থার আওতায় সব সরকারি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে পূর্ণ স্বচ্ছতার সঙ্গে এ চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে।
তিনি জানান, পরিবেশবান্ধব ও টেকসই অবকাঠামো উন্নয়নে পিপিপির মাধ্যমে সহযোগিতা বাড়াতে বাংলাদেশ ও ডেনমার্ক ২০২১ সালের ৩০ জুন একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই করে।
এর ধারাবাহিকতায় ডেনমার্কভিত্তিক এপিএম টার্মিনালস, যা মার্স্ক গ্রুপ-এর একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠান, ২০২৩ সালের ২১ মে কর্ণফুলী নদীর ডান তীরে লালদিয়া চরে কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণের জন্য আগ্রহপত্র (এক্সপ্রেশন অব ইন্টারেস্ট) জমা দেয়।
মন্ত্রী বলেন, ২০২৩ সালের ২৯ নভেম্বর অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি (সিসিইএ) প্রকল্পটির নীতিগত অনুমোদন দেয়।
পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ৩ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত প্রথম বাংলাদেশ-ডেনমার্ক পিপিপি যৌথ প্ল্যাটফর্ম সভায় ডেনমার্ক সরকার এপিএম টার্মিনালসকে বাস্তবায়নকারী অংশীদার হিসেবে নিশ্চিত করে।
তিনি জানান, ২০২৪ সালের ১০ জুন পিপিপি কর্তৃপক্ষ ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স কর্পোরেশন (আইএফসি)-কে প্রকল্পটির ট্রানজ্যাকশন অ্যাডভাইজার হিসেবে নিয়োগ দেয়।
অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত দরদাতার সঙ্গে সব ধরনের যাচাই-বাছাই ও আলোচনা শেষে ট্রানজ্যাকশন অ্যাডভাইজার ২০২৫ সালের ১০ নভেম্বর প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও আইনগত যাচাইয়ের জন্য নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে চূড়ান্ত কনসেশন চুক্তি জমা দেয়।
এরপর ২০২৫ সালের ১২ নভেম্বর অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি (এসিইএ) চুক্তিটি অনুমোদন করে এবং ১৬ নভেম্বও তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টার অনুমোদন লাভ করে।
মন্ত্রী বলেন, ২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর এপিএমটি বিভি-কে কার্যাদেশ (লেটার অব অ্যাওয়ার্ড) দেওয়া হয় এবং একই দিন চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ও এপিএমটি বিভির মধ্যে কনসেশন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
তিনি জানান, চট্টগ্রাম বন্দরের খালি জমিতে টার্মিনালটি নির্মিত হবে। এটি বন্দরের কনটেইনার হ্যান্ডলিং সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াবে, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে এবং আধুনিক প্রযুক্তি স্থানান্তরে সহায়তা করবে।
নৌপরিবহন মন্ত্রী বলেন, ডেনমার্কভিত্তিক প্রতিষ্ঠানটি এ প্রকল্পে ৫৫ কোটি মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করবে। তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন, লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল প্রকল্পের চুক্তি বাতিল বা পুনর্বিবেচনার কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই।