শিরোনাম

সংসদ ভবন, ৭ জুলাই, ২০২৬ (বাসস) : মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ জানিয়েছেন, দেশের প্রকৃত জেলেদের জাতীয় তথ্যভান্ডার হালনাগাদের কাজ চলমান রয়েছে এবং বর্তমানে নিবন্ধিত জেলেদের সংখ্যা ১৮ লাখ ৩ হাজার ৫৬৫ জন।
আজ জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের (জামায়াতে ইসলামী) সদস্য মো. আবু তালিব (ঝিনাইদহ-৪)-এর লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ, বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে দিনের অধিবেশন শুরু হয়।
মন্ত্রী বলেন, ‘জেলে নিবন্ধন ও পরিচয়পত্র নির্দেশিকা, ২০১৯’- এর আওতায় সারাদেশে জেলেদের তালিকা যাচাই-বাছাই ও হালনাগাদের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
তিনি বলেন, দেশব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে ঝিনাইদহ সদর (আংশিক) ও কালীগঞ্জ উপজেলার প্রকৃত জেলে শনাক্তকরণ এবং হালনাগাদ জেলে তালিকা প্রণয়নের কাজও চলমান রয়েছে।
মন্ত্রী জানান, অভ্যন্তরীণ জলাশয়ে মাছের উৎপাদন বাড়াতে সরকার পরিত্যক্ত ও অকেজো বাওড়সহ অন্যান্য জলাশয় পুনরুদ্ধার করে মাছ চাষের আওতায় আনার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।
তিনি বলেন, পরিত্যক্ত ও অকেজো বাওড় এবং অন্যান্য জলাশয় পুনরুদ্ধার করে সেখানে মাছ চাষ সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। এ লক্ষ্যে মৎস্য অধিদপ্তর ‘নির্বাচিত বাওড় এলাকায় কমিউনিটিভিত্তিক মৎস্যসম্পদ ব্যবস্থাপনা’ শীর্ষক একটি উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) প্রস্তুত করেছে।
প্রস্তাবিত প্রকল্পের আওতায় পর্যায়ক্রমে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার সাগান্না বাওড় এবং কালীগঞ্জ উপজেলার সারজাদ বাওড় ও মারজাদ বাওড় খনন ও পুনঃখনন, তিনটি মাছের অভয়াশ্রম স্থাপন, ৩০টি বিল নার্সারি প্রতিষ্ঠা, উন্নতমানের মাছের পোনা অবমুক্তকরণ এবং স্থানীয় উপকারভোগীদের অংশগ্রহণে জলাশয়গুলোর টেকসই ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা হবে।
মন্ত্রী বলেন, প্রস্তাবিত প্রকল্পটির জনবল কমিটির সভা গত ২২ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে অর্থ মন্ত্রণালয়ে সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে এটি প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) বিবেচনার অপেক্ষায় রয়েছে।
তিনি আরও জানান, অভ্যন্তরীণ উন্মুক্ত জলাশয়ে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং জলজ আবাসস্থলের উন্নয়নের লক্ষ্যে জলাশয় পুনরুদ্ধার বিষয়ক আরেকটি প্রকল্পের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা চলমান রয়েছে।
সমীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে দেশের তিন পার্বত্য জেলা বাদে সব উপজেলার জন্য একটি প্রকল্প প্রণয়ন করা হবে বলেও সংসদকে জানান মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী।