শিরোনাম

সংসদ ভবন, ২৮ জুন, ২০২৬ (বাসস) : প্রশ্নপত্র ফাঁস, নকল, জাল সনদ তৈরি এবং প্রযুক্তিনির্ভর পরীক্ষা-সংক্রান্ত অপরাধ দমনে আইনকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে পাবলিক পরীক্ষা (অপরাধ) (সংশোধন) বিল, ২০২৬ আজ জাতীয় সংসদে উত্থাপন করা হয়েছে।
শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বিলটি সংসদে উত্থাপন করেন। পরে বিলটি বিস্তারিত পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য সংশ্লিষ্ট সংসদীয় কমিটির কাছে পাঠানো হয়। কমিটিকে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে এ বিষয়ে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
সংসদে উত্থাপিত বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ-সংবলিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, পাবলিক পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস, নকল, জাল সনদ তৈরি এবং অন্যান্য অনিয়ম প্রতিরোধে প্রায় ৪৫ বছর আগে ১৯৮০ সালে পাবলিক পরীক্ষা (অপরাধ) আইন।
তবে বর্তমানে প্রযুক্তির ব্যাপক ব্যবহার এবং ডিজিটাল মাধ্যমে পরীক্ষাসংক্রান্ত অপরাধ বেড়ে যাওয়ায় বিদ্যমান আইনের অনেক বিধান সময়োপযোগিতা হারিয়েছে বলে বিলে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রস্তাবিত সংশোধনীর মাধ্যমে ডিজিটাল সিস্টেম ও অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে সংঘটিত অপরাধগুলোকে আইনের আওতায় এনে একটি সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও অনিয়মমুক্ত পরীক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
গত ২ এপ্রিল মন্ত্রিসভা এ আইনের খসড়ার নীতিগত অনুমোদন দেয়। পরে মন্ত্রিসভার নির্দেশনা অনুযায়ী খসড়াটি একাধিক দফা সংশোধন, যাচাই-বাছাই ও আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক বিভাগের ভেটিং শেষে ১৮ জুন মন্ত্রিসভায় চূড়ান্ত অনুমোদন পায়।
প্রস্তাবিত আইনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হলো ‘ডিজিটাল ম্যানিপুলেশন’ শব্দটির সংজ্ঞা অন্তর্ভুক্ত করা। এর আওতায় সাইবার অপরাধের মাধ্যমে পরীক্ষার ডাটাবেজে অননুমোদিত প্রবেশ এবং যেকোনো ধরনের ডিজিটাল কারসাজিকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হবে।
বিলে ডিজিটাল কারসাজির অপরাধে দোষী ব্যক্তির জন্য সর্বোচ্চ পাঁচ বছর কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।
এছাড়া সংঘবদ্ধভাবে পরীক্ষায় জালিয়াতি, প্রশ্নফাঁস বা এ ধরনের অপরাধ সংঘটনের উদ্দেশ্যে অপরাধী চক্র গঠন বা পরিচালনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে আরও কঠোর শাস্তি ও আর্থিক জরিমানার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
সরকারের মতে, ডিজিটাল যুগে পাবলিক পরীক্ষার স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা রক্ষায় উদ্ভূত নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য এ সংশোধনী অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে।