বাসস
  ২৮ জুন ২০২৬, ২২:৩৬

অতীতের অর্থনৈতিক লুটপাট কাটিয়ে জনকল্যাণভিত্তিক নতুন অর্থনৈতিক ব্যবস্থার বাজেট : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ আজ জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে কথা বলেন। ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

সংসদ ভবন, ২৮ জুন, ২০২৬ (বাসস) : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক দুর্নীতি, অর্থপাচার, ব্যাংকিং খাতের অনিয়ম এবং বৈশ্বিক অস্থিরতার মধ্যেও সরকার একটি জনকল্যাণমুখী, সংস্কারভিত্তিক ও ভবিষ্যৎমুখী বাজেট প্রণয়ন করেছে। 

তিনি বলেন, এবারের বাজেট শুধু আয়-ব্যয়ের হিসাব নয়, বরং দেশের অর্থনীতিকে নতুন ভিত্তির ওপর দাঁড় করানোর একটি রূপরেখা।

আজ জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক করোনা মহামারি, গাজা, ইউক্রেন, সিরিয়া ও সাম্প্রতিক ইরান-ইসরাইল সংঘাতের মতো আন্তর্জাতিক সংকটের পাশাপাশি দেশের ভঙ্গুর অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যেই সরকার মাত্র কয়েক মাসের প্রস্তুতিতে বাজেট প্রণয়ন করেছে। এমনকি আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা থাকা সত্ত্বেও সাধারণ মানুষের স্বার্থে সরকার ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত জ্বালানির দাম বাড়ায়নি।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বিগত সরকারের সময় গণতান্ত্রিক জবাবদিহিতার অভাবের সুযোগে দেশে লুটপাটনির্ভর অর্থনীতি, ক্রনি ক্যাপিটালিজম এবং বিতর্কিত অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে ওঠে। এর ফলে ব্যাংকিং খাতে বড় ধরনের ঋণ কেলেঙ্কারি, রাজনৈতিক বিবেচনায় ব্যাংক দখল, অতিমূল্যায়িত মেগা প্রকল্প, রাজনৈতিক চাঁদাবাজি, কর অব্যাহতির অপব্যবহার এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদের ব্যাপক অপচয় হয়েছে।

তিনি দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে প্রণীত শ্বেতপত্রের তথ্য তুলে ধরে বলেন, ২০০৯ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত প্রতিবছর গড়ে ১৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার দেশ থেকে অবৈধভাবে পাচার হয়েছে। গত ১৫ বছরে মোট প্রায় ৩০ লাখ কোটি টাকা বিদেশে চলে গেছে। একই সময়ে উন্নয়ন প্রকল্পের ব্যয় ৭০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়িয়ে জনগণের অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে এবং রাজনৈতিক প্রভাবে বিতরণ করা ঋণের পরিমাণ দিয়ে একাধিক পদ্মা সেতু ও মেট্রোরেল নির্মাণ সম্ভব ছিল।

তিনি আরও বলেন, আইনের মাধ্যমে বিতর্কিত প্রকল্পকে সুরক্ষা দেওয়া এবং ক্যাপাসিটি চার্জ ও কুইক রেন্টালের মতো বিষয়কে বৈধতা দেওয়া ছিল দুর্নীতির সবচেয়ে বিপজ্জনক রূপ।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এবারের বাজেট একটি ‘নিউ ইকোনমিক অর্ডার’ বা নতুন অর্থনৈতিক ব্যবস্থার বাজেট। পুরোনো অর্থনৈতিক চিন্তা থেকে বেরিয়ে এসে মানবকল্যাণ, উৎপাদনশীলতা, সামাজিক নিরাপত্তা ও দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর কোনো নতুন কর আরোপ করা হয়নি। ফলে অতীতের মতো বাজেট ঘোষণার আগে বা পরে বাজারে মূল্যবৃদ্ধির প্রবণতা দেখা যায়নি, যা সাধারণ মানুষের জন্য স্বস্তির বিষয়।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতকে দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি আরও সম্প্রসারণ করা হয়েছে।

পাঁচ ভিত্তির ওপর উন্নয়ন পরিকল্পনা :

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এবারের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) পাঁচটি মূল ভিত্তির ওপর প্রণয়ন করা হয়েছে। এগুলো হলো-রাষ্ট্রব্যবস্থার সংস্কার, বৈষম্যহীন আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, ভঙ্গুর অর্থনীতির পুনর্গঠন, অঞ্চলভিত্তিক সুষম উন্নয়ন এবং ধর্ম, সমাজ, ক্রীড়া ও সংস্কৃতির বিকাশ।

প্রস্তাবিত বাজেট দেশের সামষ্টিক অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করবে, সামাজিক সুরক্ষা বাড়াবে এবং একটি উন্নত, সমৃদ্ধ ও স্মার্ট বাংলাদেশ গঠনের পথকে আরও সুদৃঢ় করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।