শিরোনাম

সংসদ ভবন, ২৭ জুন, ২০২৬ (বাসস) : বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেছেন, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট কেবল আয়-ব্যয়ের হিসাব নয়, বরং সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের একটি সুস্পষ্ট কর্মপরিকল্পনা।
তিনি বলেন, বিশেষ করে জ্বালানি খাতে স্বনির্ভরতা অর্জন, নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসার, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে রেকর্ড বরাদ্দ এবং জনকল্যাণমূলক উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের টেকসই উন্নয়নের ভিত্তি আরও শক্তিশালী হবে।
সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রতিমন্ত্রী আজ এসব কথা বলেন।
আলোচনায় অংশ নিয়ে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাত প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আগামী অর্থবছরে এ খাতের জন্য ১৭ হাজার ৩৪৫ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।
তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক সংকট বাংলাদেশের আমদানি নির্ভর জ্বালানি নীতির সীমাবদ্ধতা স্পষ্ট করেছে। এ কারণে সরকার সমুদ্র ও স্থলভাগে নতুন গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনের উদ্যোগ নিয়েছে। গত ২৪ মে অফশোর বিডিং রাউন্ড শুরু হয়েছে, যা আগামী নভেম্বর পর্যন্ত চলবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ১৯৯৩ সালের সফল অফশোর বিডিংয়ের মতো এবারও বাংলাদেশ নতুন গ্যাস অনুসন্ধানে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করবে।
ইস্টার্ন রিফাইনারির সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর দীর্ঘ সময়েও দ্বিতীয় ইউনিট প্রতিষ্ঠিত হয়নি। তবে বর্তমান সরকার সেই উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এটি বাস্তবায়িত হলে দেশের তেল পরিশোধন সক্ষমতা ৫০ লাখ মেট্রিক টনে উন্নীত হবে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারের লক্ষ্য ২০৩০ সালের মধ্যে মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে নিশ্চিত করা। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনে শুল্ক ছাড় ও নীতিগত সহায়তা প্রদানকে তিনি সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত হিসেবে উল্লেখ করেন।
প্রস্তাবিত বাজেটের প্রশংসা করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, শিক্ষা বরাবরই বিএনপির অগ্রাধিকারের খাত। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সাক্ষরতা কর্মসূচি চালু করেছিলেন এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া নারী শিক্ষা অবৈতনিক, বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণ ও ছাত্রীদের উপবৃত্তি কর্মসূচি চালু করেন। সেই ধারাবাহিকতায় বর্তমান সরকার ভবিষ্যতে মেয়েদের স্নাতক পর্যন্ত অবৈতনিক শিক্ষার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পথে এগোচ্ছে।
তিনি বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে শিক্ষা খাতে ১ লাখ ৩৬ হাজার ৬০৬ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা মোট বাজেটের ১৪ দশমিক ৫৬ শতাংশ এবং আগের বছরের তুলনায় প্রায় ১৮ শতাংশ বেশি। এই বরাদ্দের মাধ্যমে শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও কর্মমুখী, প্রযুক্তিনির্ভর ও মানসম্মত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্য খাতকে বাজেটের অন্যতম শক্তিশালী দিক উল্লেখ করে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, এ খাতে ৬৯ হাজার ৪০৯ কোটি টাকার রেকর্ড বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, হার্টের রিং, চোখের লেন্স, কিডনি রোগীদের ডায়ালাইসিস ফিল্টার ও ব্লাড টিউবিংয়ের ওপর ভ্যাট ও শুল্ক কমানোর সিদ্ধান্ত সাধারণ মানুষের চিকিৎসা ব্যয় কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
নিজের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, তার প্রয়াত বাবা দীর্ঘদিন কিডনি ডায়ালাইসিসের রোগী ছিলেন। ফলে একটি পরিবারকে কী ধরনের আর্থিক ও মানসিক সংকটের মধ্য দিয়ে যেতে হয়, তা তিনি খুব কাছ থেকে দেখেছেন। এ কারণে ডায়ালাইসিস সামগ্রীর ওপর কর কমানোর উদ্যোগকে তিনি অত্যন্ত মানবিক সিদ্ধান্ত হিসেবে উল্লেখ করেন।
তিনি ইউনিয়ন ও পৌর ওয়ার্ড পর্যায়ে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ইউনিট প্রতিষ্ঠা এবং ৫১ শয্যার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার উদ্যোগেরও প্রশংসা করেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও গণতান্ত্রিক চর্চার মাধ্যমে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে পারলে একটি ন্যায়ভিত্তিক, ইনসাফপূর্ণ ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।