বাসস
  ২৬ জুন ২০২৬, ০০:০২

মানুষের জীবনমান উন্নয়ন ও টেকসই উন্নয়নের ভিত্তি গড়তে প্রস্তাবিত বাজেট : সংসদে আলোচনা

সংসদ ভবন, ২৫ জুন, ২০২৬ (বাসস) : ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট দেশের মানুষের জীবনমান উন্নয়ন এবং টেকসই উন্নয়নের ভিত্তি সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে প্রণয়ন করা হয়েছে বলে সংসদে আলোচনায় উঠে এসেছে।

আজ জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে সদস্যগণ এ কথা বলেন। তাদের মতে, প্রস্তাবিত বাজেট দেশের টেকসই উন্নয়ন ও জনকল্যাণ নিশ্চিত করার পথ সুগম করবে।

গত ১১ জুন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার জাতীয় বাজেট উপস্থাপন করেন। এতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ, যেখানে বিদায়ী অর্থবছরে প্রাথমিক হিসাবে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৪ দশমিক ১৪ শতাংশ।

মাদারীপুর-৩ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য আনিসুর রহমান বলেন, ক্ষমতাসীন বিএনপির ৩১ দফা রাষ্ট্র সংস্কার কর্মসূচির আলোকে প্রস্তাবিত বাজেটে জনকল্যাণ ও মানুষের মৌলিক অধিকারের প্রতিফলন ঘটেছে।

মৌলভীবাজার-৩ আসনের বিএনপি দলীয় সদস্য নাসের রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে প্রস্তাবিত বাজেটের বড় অংশ জনগণের কল্যাণে ব্যয় করা হবে। তিনি বলেন, এ বাজেট বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান, সামাজিক নিরাপত্তা এবং জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে। অতীতের তুলনায় জ্বালানি ভর্তুকি ২২ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

চট্টগ্রাম-৭ আসনের সরকারি দলের সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরী প্রস্তাবিত বাজেটের প্রশংসা করে বলেন, গত ২০ বছরে দেশে কার্যকর সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল না। এবার বাজেটে বরাদ্দের মাধ্যমে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ভিত্তিক সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি চালু করা হয়েছে।

তিনি বলেন, আগামী পাঁচ বছর দেশের উন্নয়নের মেরুদণ্ড হিসেবে কাজ করবে এ বাজেট। বিনিয়োগকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে এবং কর রেয়াতের সুবিধা নিয়ে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগে উৎসাহিত হবেন।

খাগড়াছড়ি আসনের বিএনপি দলীয় সদস্য আবদুল ওয়াদুদ ভূঁইয়া বলেন, জনগণের প্রত্যাশার ভিত্তিতে আত্মনির্ভরশীল বাংলাদেশ গঠনের এক ঘোষণাপত্র এই বাজেট।

অন্যদিকে, গাজীপুর-৪ আসনের বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য সালাহ উদ্দিন বাজেটকে ‘গরিব হয়রানির বাজেট’ আখ্যা দিয়ে বলেন, এতে জুলাই আন্দোলনের চেতনার প্রতিফলন নেই এবং শহীদ পরিবারের দুর্ভোগের প্রতিও পর্যাপ্ত গুরুত্ব দেওয়া হয়নি।

তিনি অভিযোগ করেন, বাজেট উপস্থাপনের আগেই ১৪টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়েছে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও এলপিজির মূল্যও বারবার বৃদ্ধি করা হয়েছে। পরিবহন ভাড়াও অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়েছে।

ময়মনসিংহ-১০ আসনের বিএনপি সদস্য মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামান বিরোধী দলের সমালোচনা করে বলেন, 'আমরা জুলাই আন্দোলনের চেতনা দিয়ে স্বাধীনতার চেতনাকে মুছে ফেলতে চাই না। আমরা জুলাইয়ের চেতনার পক্ষেই আছি। কিন্তু কেউ কেউ এই চেতনাকে বিক্রি করার প্রবণতা দেখাচ্ছেন।'

চট্টগ্রাম-১০ আসনের বিএনপি দলীয় সদস্য সাইয়েদ আল নোমান বলেন, সরকার ও বিরোধী দল একসঙ্গে কাজ করলে বাজেট সফল হবে। কারণ বাজেটের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

দিনাজপুর-১ আসনের বিএনপি দলীয় সদস্য মঞ্জুরুল ইসলাম বলেন, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বাজেট ঘাটতি ছিল জিডিপির ৪ দশমিক ৭ শতাংশ, যা ২০২৬-২৭ অর্থবছরে কমে ৩ দশমিক ৬ শতাংশে নেমে এসেছে।

রংপুর-৪ আসনের বিরোধী দলীয় সদস্য আখতার হোসেন বাজেটের কঠোর সমালোচনা করে বলেন, এতে ৪৮ শতাংশ আয়কর আরোপ করা হয়েছে, যা মধ্যবিত্ত মানুষের জীবনযাত্রায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

হবিগঞ্জ-১ আসনের সরকারি দলের সদস্য রেজা কিবরিয়া ধনী-গরিব বৈষম্য কমাতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, পূর্ববর্তী সরকার এ বিষয়ে উল্লেখযোগ্য কিছু করতে পারেনি।

ঢাকা-১৪ আসনের বিরোধী সদস্য মীর আহমেদ বিন কাশেম বলেন, দেশের ৮২ শতাংশ তরুণ বিদেশে স্থায়ীভাবে বসবাসের চিন্তা করছে। তাই জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।

নওগাঁ-১ আসনের সরকারি দলের সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বিরোধী দল বাজেটকে ‘গরিববিরোধী’ না বলে ‘ভিক্ষুকবিরোধী’ বাজেট বলতে পারে। কারণ এ বাজেট বাস্তবায়িত হলে দেশে ভিক্ষাবৃত্তি কমে যাবে।