বাসস
  ২৫ জুন ২০২৬, ১২:৪৬

অ্যান্টিবায়োটিকের অপব্যবহার রোধে জনসচেতনতা ও এএমআর নজরদারি জোরদার করা হচ্ছে: মন্ত্রী

সংসদ ভবন, ২৫ জুন ২০২৬ (বাসস): স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, দেশে অ্যান্টিবায়োটিকের যথেচ্ছ ব্যবহার রোধে জনসচেতনতা তৈরির কার্যক্রম চলমান রয়েছে। পাশাপাশি অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল-প্রতিরোধী জীবাণু শনাক্তকরণ, নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে।

আজ সংসদে ফেনী-২ আসনের সরকারি দলের সদস্য জয়নাল আবদিনের টেবিলে উপস্থাপিত তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।

মন্ত্রী বলেন, দেশে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স (এএমআর) বা অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী জীবাণুর প্রবণতা ক্রমেই বাড়ছে, যা বর্তমানে একটি গুরুত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্য সমস্যা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। অ্যান্টিবায়োটিকের অযৌক্তিক ও অতিরিক্ত ব্যবহার, সংক্রমণ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা এবং মানব ও প্রাণী খাতে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়ালের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহারের কারণে এ সমস্যা আরও জটিল আকার ধারণ করছে।

তিনি বলেন, এর ফলে অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী জীবাণু পরিবেশে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং রোগের চিকিৎসা কার্যক্রমও ক্রমশ কঠিন হয়ে উঠছে।

অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স মোকাবিলায় সরকারের গৃহীত বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, ওয়ান হেলথ পদ্ধতির আওতায় মানব, প্রাণী ও পরিবেশ খাতে সমন্বিত কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি জাতীয় কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, জাতীয় এএমআর সার্ভেইলেন্স বা নজরদারি কার্যক্রম পরিচালনা ও সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে আধুনিক মাইক্রোবায়োলজি ল্যাবরেটরি স্থাপন ও উন্নয়নের মাধ্যমে জীবাণু শনাক্তকরণ এবং অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল সংবেদনশীলতা পরীক্ষা পরিচালনার সক্ষমতা বাড়ানো হচ্ছে।

মন্ত্রী আরও জানান, পরীক্ষাগারগুলোতে আধুনিক যন্ত্রপাতি ও রিএজেন্ট সরবরাহ করা হচ্ছে এবং ল্যাবরেটরি সংশ্লিষ্ট জনবলের প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়ন কার্যক্রমও জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি সংক্রমণ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ এবং অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল স্টুয়ার্ডশিপ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্সের প্রবণতা, ঝুঁকির কারণ এবং প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নির্ধারণের লক্ষ্যে সরকার বিভিন্ন গবেষণা কার্যক্রমও পরিচালনা করছে।