শিরোনাম

সংসদ ভবন, ২৩ জুন, ২০২৬ (বাসস) : প্রস্তাবিত বাজেট কোনো বিশেষ গোষ্ঠীর পকেট ভরার জন্য প্রণয়ন করা হয়নি, বরং আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যেই এ বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন সংসদ সদস্যগণ।
জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তারা এ কথা বলেন।
গত ১১ জুন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার জাতীয় বাজেট উপস্থাপন করেন। বিদায়ী অর্থবছরে প্রাথমিকভাবে নির্ধারিত ৪ দশমিক ১৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধির বিপরীতে নতুন অর্থবছরে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
মৌলভীবাজার-৪ আসনের বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য এম মুজিবুর রহমান চৌধুরী বলেন, বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকার অর্থনীতিতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং ব্যাংকিং খাতকে পুনরুজ্জীবিত করার লক্ষ্যে এ বাজেট প্রণয়ন করেছে। এটি কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে ধনী করার বাজেট নয়।
তিনি বলেন, ‘ফ্যাসিবাদী শাসনামলে দেশ থেকে ২৮ লাখ কোটি টাকা পাচার করা হয়েছে। এই অর্থ দিয়ে প্রায় তিনটি জাতীয় বাজেট দেওয়া সম্ভব হতো।’
তিনি আরও বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে জনগণের ওপর নতুন কোনো করের বোঝা চাপানো হয়নি।
বগুড়া-৩ আসনের বিএনপি সংসদ সদস্য এম আব্দুল মহিত তালুকদার বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রণীত উন্নয়ন পরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাজেটটি প্রণয়ন করা হয়েছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য খালেদ হোসেন মাহবুব বলেন, দেশের অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে আগামী পাঁচ বছরের পরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে অর্থমন্ত্রী এ বাজেট উপস্থাপন করেছেন। বাজেটে উন্নয়ন ব্যয় বৃদ্ধি করা হলেও পরিচালন ব্যয় কমানো হয়েছে।
প্রস্তাবিত বাজেটের রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রার সমালোচনা করে চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের বিরোধী দলের সংসদ সদস্য রুহুল আমিন বলেন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) জন্য ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আহরণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, যা অর্জন করা সহজ হবে না। কারণ, গত অর্থবছরে রাজস্ব আদায় হয়েছিল ৩ লাখ ৬৮ হাজার ১৭৭ কোটি টাকা।
তিনি বলেন, দেশে প্রায় ৮ কোটি কর দেওয়ার সক্ষমতাসম্পন্ন মানুষ থাকলেও এনবিআরের কর ফাইল রয়েছে মাত্র ৪০ লাখ। বাংলাদেশের কর-জিডিপি অনুপাত ৭ দশমিক ৫৯ শতাংশ, যেখানে নেপালে ২৩ দশমিক ৩ শতাংশ, ভারতে ২০ দশমিক ৩ শতাংশ, পাকিস্তানে ১৫ দশমিক ২ শতাংশ এবং শ্রীলঙ্কায় ১৩ দশমিক ৩ শতাংশ।
যশোর-২ আসনের বিরোধী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মোহাম্মদ মোসলেহউদ্দিন ফরিদ স্বাস্থ্য খাতের বাজেটের প্রশংসা করে স্বাস্থ্য খাতের সমস্যা সমাধানে ‘চৌগাছা মডেল’ বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।
বাজেট আলোচনায় আরও অংশ নেন সরকারি দলের সংসদ সদস্য সিরাজগঞ্জ-৩ আসনের আইনুল হক, বগুড়া-৬ আসনের রেজাউল করিম বাদশা, হবিগঞ্জ-৪ আসনের এস এম ফয়সাল, পটুয়াখালী-৪ আসনের এ বি এম মোশাররফ হোসেন, সংরক্ষিত মহিলা আসন-৪ এর রেহানা আক্তার রানু, গোপালগঞ্জ-৩ আসনের এস এম জিলানী, নওগাঁ-৫ আসনের জাহিদুল ইসলাম ঢালি, ঝালকাঠি-২ আসনের ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টো, খুলনা-১ আসনের আমীর আজিজ খান, ঢাকা-২০ আসনের তমিজ উদ্দিন, মাগুরা-১ আসনের এম মনোয়ার হোসেন এবং ঠাকুরগাঁও-৩ আসনের জাহিদুর রহমান।
এছাড়া বিরোধী দলের চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের মাসুদ পারভেজ, সংরক্ষিত মহিলা আসন-৪০ এর মিসেস নাজমুন নাহার, সংরক্ষিত মহিলা আসন-৪১ এর মাহফুজা হান্নান, কুষ্টিয়া-২ আসনের এম আব্দুল গফুর, পাবনা-৪ আসনের আবু তালেব মণ্ডল, গাইবান্ধা-২ আসনের এম আব্দুল করিম, পাবনা-৩ আসনের মোহাম্মদ আলী আসগর, যশোর-৪ আসনের এম গোলাম রসুল এবং খুলনা-৬ আসনের এম আবুল কালাম আজাদও আলোচনায় অংশ নেন।