শিরোনাম

সংসদ ভবন, ১৭ জুন, ২০২৬ (বাসস) : ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে মেগা প্রকল্পের পরিবর্তে জনকল্যাণকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন সংসদ সদস্যরা।
আজ জাতীয় সংসদে বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে আইনপ্রণেতারা বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে সাধারণ মানুষের কল্যাণ ও সামাজিক নিরাপত্তাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নের ওপর অতিরিক্ত জোর দেওয়া হয়নি।
গত ১১ জুন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার জাতীয় বাজেট উপস্থাপন করেন। এতে জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬.৫ শতাংশ, যা চলতি অর্থবছরের সাময়িক ৪.১৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি থেকে পুনরুদ্ধারের লক্ষ্য হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ আসনের সংসদ সদস্য এম আবদুল মান্নান প্রস্তাবিত বাজেটকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সামাজিক নিরাপত্তা ও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে বরাদ্দ বৃদ্ধির উদ্যোগ একটি কল্যাণরাষ্ট্র গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তিনি বলেন, বাজেটে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন, তরুণদের দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর এবং গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী করার উদ্যোগ প্রশংসনীয়।
তিনি উল্লেখ করেন, বাজেট ঘোষণার পর নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধি না পাওয়ায় জনগণ স্বস্তি পেয়েছে এবং এটি সরকারের একটি ইতিবাচক দিক।
নারী আসন-৩১-এর সংসদ সদস্য সানজিদা ইয়াসমিন বলেন, খাদ্য মূল্যস্ফীতি সাধারণ মানুষের জীবনে প্রভাব ফেলছে। বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা ও সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি নিম্ন আয়ের মানুষের জীবন সহজ করবে।
স্বাস্থ্য খাতের বরাদ্দের প্রশংসা করে বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্য শামসুন্নাহার বেগম (নারী আসন-৪৩) বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে ৬৯ হাজার ৪০৯ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। এই বরাদ্দ স্বাস্থ্য খাতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
সরকারি দলের সংসদ সদস্য মুনশি রফিকুল আলম (ফেনী-১) বলেন, বিগত ১৭ বছরের বাজেট ঘোষণায় অনিয়ম ও লুটপাটের অভিযোগ থাকলেও বর্তমান বাজেট দেশের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করবে।
অন্যদিকে, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনের বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্য মিজানুর রহমান বাজেটের সমালোচনা করে বলেন, ক্ষমতাসীন বিএনপি আগে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির সমালোচনা করলেও এখন ক্ষমতায় এসে জ্বালানি তেলের দাম বারবার বাড়িয়েছে।
বাজেট আলোচনায় সরকারি ও বিরোধী দলের আরও অনেক সংসদ সদস্য অংশ নেন।