শিরোনাম

সংসদ ভবন, ১৪ জুন, ২০২৬ (বাসস) : বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম আজ সংসদে বলেছেন, দেশের তরুণ বিজ্ঞানী, গবেষক এবং উদ্ভাবন ভিত্তিক কার্যক্রমের জন্য সরকার আর্থিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা সম্প্রসারণ অব্যাহত রেখেছে।
তিনি সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য সেলিনা সুলতানার তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান।
মন্ত্রী বলেন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি-সংশ্লিষ্ট বিষয়ে এমএস, এমফিল, পিএইচডি এবং পোস্টডক্টরাল গবেষণায় নিয়োজিত শিক্ষার্থী ও গবেষকদের জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি (এনএসটি) ফেলোশিপ প্রদান করে আসছে।
তিনি জানান, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এনএসটি ফেলোশিপ কর্মসূচির আওতায় মোট ৪ হাজার ২৮২ জন গবেষককে ২৫ কোটি ৪৫ লাখ টাকার অনুদান দেওয়া হয়েছে।
ফকির মাহবুব আনাম বলেন, নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন এবং বৈজ্ঞানিক গবেষণার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে গবেষণা ও উন্নয়ন (আরঅ্যান্ডডি) প্রকল্পের মাধ্যমে বিজ্ঞান ভিত্তিক উচ্চশিক্ষা ও গবেষণাকে উৎসাহিত করা হচ্ছে।
তিনি জানান, চলতি অর্থবছরে গবেষণা ও উন্নয়ন (আরঅ্যান্ডডি) কর্মসূচির আওতায় ৩৫৮ জন বিজ্ঞানী ও গবেষককে ৩ কোটি ৯৭ লাখ টাকার অনুদান প্রদান করা হয়েছে।
মন্ত্রী আরও বলেন, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বিজ্ঞান ভিত্তিক ৩০টি সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানকে বৈজ্ঞানিক কার্যক্রম, উন্নয়ন কর্মসূচি, জার্নাল প্রকাশনা এবং সেমিনার, সিম্পোজিয়াম, কর্মশালা ও প্রদর্শনী আয়োজনের জন্য মোট ৩০ লাখ টাকার অনুদান দেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করতে সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, গবেষক এবং তরুণ বিজ্ঞানীদের পাশাপাশি বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের গবেষকদের জন্য বিশেষ গবেষণা অনুদান প্রদান করা হচ্ছে।
মন্ত্রী বলেন, তরুণ বিজ্ঞানীদের গবেষণা ও উদ্ভাবনী কার্যক্রমকে উৎসাহিত করা এবং তাদের উদ্ভাবনকে বাস্তবায়ন ও বাণিজ্যিকীকরণের লক্ষ্যে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও বিজ্ঞান ভিত্তিক সংগঠনের মাধ্যমে উদ্ভাবনী গবেষণায় আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা প্রদান, বিজ্ঞান মেলা, উদ্ভাবনী প্রদর্শনী, সেমিনার, কর্মশালা এবং প্রশিক্ষণ কর্মসূচি আয়োজন।
ফকির মাহবুব আনাম জানান, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অধীন জাতীয় জীবপ্রযুক্তি ইনস্টিটিউট শিক্ষার্থী, গবেষক এবং তরুণ বিজ্ঞানীদের জন্য প্রশিক্ষণ, গবেষণা সুবিধা ও আধুনিক গবেষণাগারের সুযোগ প্রদান করছে।
তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানটি নিয়মিতভাবে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের গবেষণা প্রশিক্ষণ, ইন্টার্নশিপ, থিসিস সহায়তা এবং আধুনিক জীবপ্রযুক্তি গবেষণাগার ব্যবহারের সুযোগ করে দিচ্ছে, যা দেশে দক্ষ গবেষক তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর সহায়তার বিষয়ে মন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদ (বিসিএসআইআর) ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ১৪৩টি গবেষণা প্রকল্পে ৬ কোটি ৬২ লাখ টাকা এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৯৪টি প্রকল্পে ৬ কোটি ১৯ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে।
তিনি আরও জানান, বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তাদের বিজ্ঞানীদের জন্য ১৫টি বিশেষ গবেষণা প্রকল্পে মোট ৮০ লাখ ৭৫ হাজার টাকার বরাদ্দ প্রদান করেছে। এসব প্রকল্প কৃষি, খাদ্য উৎপাদন, স্বাস্থ্যসেবা, নিউক্লিয়ার মেডিসিন, জনস্বাস্থ্য এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি খাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।