বাসস
  ১৪ জুন ২০২৬, ১৭:৪০

জাতীয় উন্নয়ন নিশ্চিত করতে শিক্ষা খাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ রাখা হয়েছে : ববি হাজ্জাজ

ছবি : ভিডিও থেকে নেওয়া

সংসদ ভবন, ১৪ জুন, ২০২৬ (বাসস) : প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, বর্তমান সরকারের দেয়া বাজেট ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ বিনির্মাণের বাজেট। দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় উন্নয়ন নিশ্চিত করতে শিক্ষা খাতে ইতিহাসের অন্যতম সর্বোচ্চ বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা দেশের মানবসম্পদ উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তিনি আজ সংসদে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে এ কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার বিশ্বাস করে শিক্ষা খাতেই সবচেয়ে বড় এবং সবচেয়ে কার্যকর বিনিয়োগ করা সম্ভব। সে কারণেই জাতীয় বাজেটে শিক্ষা খাতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, অতীতে শিক্ষা খাতে জিডিপির ১ দশমিক ৩ থেকে ১ দশমিক ৪ শতাংশ ব্যয় করা হলেও বর্তমান বাজেটে তা বাড়িয়ে ২ শতাংশে উন্নীত করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এটি ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে।

ববি হাজ্জাজ বলেন, প্রাথমিক শিক্ষা একটি জাতির ভিত্তি নির্মাণ করে। শিক্ষার প্রাথমিক স্তর শক্তিশালী না হলে উচ্চশিক্ষা ও কর্মক্ষেত্রে তার নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। তাই প্রাথমিক শিক্ষার পাঠ্যক্রম, শিক্ষকতার মানোন্নয়ন এবং প্রশাসনিক কাঠামো সংস্কারে সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।

তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় প্রাথমিক শিক্ষাকে যুগোপযোগী ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন করতে ব্যাপক সংস্কার কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে। শুধু পাঠ্যবই ভিত্তিক শিক্ষা নয়, শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা ও ব্যক্তিত্ব বিকাশে খেলাধুলা, সংস্কৃতি এবং শিল্পচর্চাকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ইতোমধ্যে প্রাথমিক স্তরের চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণিতে খেলাধুলার কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ফুটবল ও ক্রিকেটের পাশাপাশি বাস্কেটবলসহ বিভিন্ন খেলাকে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। একই সঙ্গে পারফর্মিং আর্টস, এক্সপ্রেসিভ আর্টস এবং ফাইন আর্টসের মতো সাংস্কৃতিক কার্যক্রমও প্রাথমিক শিক্ষার অংশ হিসেবে গুরুত্ব পাচ্ছে।

তিনি বলেন, একটি আধুনিক, মানবিক ও সৃজনশীল প্রজন্ম গড়ে তুলতে খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক শিক্ষার বিকল্প নেই। এ বিষয়ে নেতিবাচক সমালোচনার পরিবর্তে গঠনমূলক আলোচনা প্রয়োজন।

ববি হাজ্জাজ আরও বলেন, বর্তমান বাজেটে জনগণের সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি অর্থনীতির সরবরাহ ব্যবস্থা সম্প্রসারণ, সৃজনশীল অর্থনীতি বিকাশ এবং শিল্প-কারখানার আধুনিকায়নেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সরকারের বিশ্বাস, মানুষের ওপর বিনিয়োগই দেশের সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ এবং শিক্ষিত, দক্ষ ও সৃজনশীল জনগোষ্ঠীই দেশের উন্নয়নের প্রধান চালিকাশক্তি।

তিনি বলেন, গত দুই দশকে শিক্ষা খাতে প্রয়োজনীয় গুরুত্ব দেওয়া হলে দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন আরও দ্রুত ও টেকসই হতো। বর্তমান সরকার সেই ঘাটতি পূরণে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ এবং শিক্ষা ব্যবস্থাকে বিশ্বমানের পর্যায়ে নিয়ে যেতে কাজ করছে।

প্রতিমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, শিক্ষা, ক্রীড়া ও সংস্কৃতিতে বিনিয়োগের মাধ্যমে আগামী দুই দশকে বাংলাদেশ একটি জ্ঞানভিত্তিক, দক্ষ ও আধুনিক রাষ্ট্রে পরিণত হবে। সমালোচনা থাকতেই পারে, তবে জাতির বৃহত্তর স্বার্থে সবাইকে উন্নয়নের মূল লক্ষ্য অর্জনে একযোগে কাজ করতে হবে।