বাসস
  ১১ জুন ২০২৬, ১৮:৫১
আপডেট : ১১ জুন ২০২৬, ১৯:১০

কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষায় ১৮ হাজার ৪৫৭ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব

গ্রাফিক্স : বাসস

সংসদ ভবন, ১১ জুন, ২০২৬ (বাসস) : দেশের তরুণ সমাজ ও নারীদের দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর করে কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে আগামী অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে সরকার।

বাজেট বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, এই খাতের জন্য প্রস্তাবিত বাজেটে ১৮ হাজার ৪৫৭ কোটি টাকার বরাদ্দ প্রস্তাব করা হয়েছে, যা বিদায়ী অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের চেয়ে ৬ হাজার ৬১ কোটি টাকা বেশি।

আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে বাজেট বক্তৃতায় অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে শিক্ষা খাতে রেকর্ড ১ লাখ ৩৬ হাজার ৬০৬ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করেন।

বাজেট প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদ্যোগে শিক্ষা কারিকুলামের যে রূপান্তর চলছে, এর অংশ হিসেবে ১ লাখ ৭৫ হাজার কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষককে ট্যাব প্রদান, ১০ হাজার নতুন মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপন, ৩২৯টি উপজেলায় একটি করে নতুন কারিগরি স্কুল ও কলেজ স্থাপন এবং দেশের মাদ্রাসাসমূহে ১০০টি ল্যাঙ্গুয়েজ ল্যাব স্থাপন, ১০০টিন আইসিটি ল্যাব, ৫০০টি ভোকেশনাল কোর্স চালু করা হবে। একই সাথে এই বাজেটের আওতায় ৪টি বিভাগে মহিলা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট স্থাপনসহ ‘প্রোগ্রেস’ ও ‘অ্যাসেট’ প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের বিপুল সংখ্যক তরুণ ও নারীদের দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর করতে ১ লাখেরও বেশি মানুষকে আন্তর্জাতিক মানের কারিগরি ও উদ্যোক্তা বিষয়ক প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

বাজেট নথি অনুযায়ী, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের জন্য সর্বমোট ১৮ হাজার ৪৫৭ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে এ খাতে বরাদ্দ ছিল ১২ হাজার ৩৯৫ কোটি ৭৯ লাখ ৪৭ হাজার টাকা। সেই তুলনায় এবার এ খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি পেয়েছে ৬ হাজার ৬১ কোটি ২৮ লাখ ৫৩ হাজার টাকা। এর মধ্যে পরিচালন ব্যয় হিসেবে ১১ হাজার ৭৩৪ কোটি টাকা এবং উন্নয়ন ব্যয় হিসেবে ৬ হাজার ৭২৩ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।

বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদ্যোগে শিক্ষা কারিকুলামকে সম্পূর্ণ রূপান্তরের বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে, যাতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে নৈতিক মূল্যবোধ, সামাজিক দায়িত্ববোধ, নেতৃত্বের গুণাবলি এবং মানবিক চরিত্রের বিকাশ ঘটে। বাংলাদেশকে একটি দক্ষতাভিত্তিক অর্থনীতিতে রূপান্তর করতে ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে পর্যায়ক্রমে সবার জন্য কারিগরি শিক্ষা চালু করা হবে। নতুন এই রূপান্তরে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা, তৃতীয় ভাষা শিক্ষা, ক্রীড়া ও সংস্কৃতির বিকাশ, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা এবং ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ বা আনন্দময় শিক্ষাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।