বাসস
  ১১ জুন ২০২৬, ১৬:৪০

ফ্যামিলি কার্ডসহ সামাজিক নিরাপত্তা খাতে ১ লাখ ৪৪ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন করেন। ছবি : পিএমও

সংসদ ভবন, ১১ জুন, ২০২৬ (বাসস) : আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা খাতে ১ লাখ ৪৪ হাজার ৩৩৮ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বলেন, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির মাধ্যমে সরকার একটি বৈষম্যহীন, মানবিক ও কল্যাণভিত্তিক রাষ্ট্র গড়ে তুলতে চায়। এ লক্ষ্যে নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন, প্রবীণ নাগরিক, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, মুক্তিযোদ্ধা, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার এবং বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য সহায়তা বৃদ্ধি করা হয়েছে।

তিনি বলেন, দারিদ্র্য হ্রাস, বৈষম্য কমানো এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে জীবনচক্রভিত্তিক সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি আরও সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

অর্থমন্ত্রী জানান, সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকারমূলক কর্মসূচি ‘ফ্যামিলি কার্ড’ প্রকল্পের আওতায় পরিবারের প্রধান নারী সদস্যকে মাসিক ২ হাজার ৫০০ টাকা ভাতা দেওয়া হবে। ২০৩০ সালের মধ্যে পর্যায়ক্রমে দেশব্যাপী এ কর্মসূচি সম্প্রসারণ করা হবে। ইতোমধ্যে পাইলট কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আগামী অর্থবছরে ৪১ লাখ নারীকে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ প্রদান এবং এ খাতে ১৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।

বাজেট প্রস্তাবে বয়স্ক ভাতা, বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা ভাতা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি ৬৫ বছর বা তদূর্ধ্ব সিনিয়র সিটিজেনদের জন্য ট্রেনে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ভ্রমণ এবং মেট্রোরেল ভাড়ায় ২৫ শতাংশ ছাড়ের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য ভাতাভোগীর সংখ্যা ৩৮ লাখে উন্নীত করা হবে এবং মাসিক ভাতা ১ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হবে। একই সঙ্গে প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী ভাতাভোগীর সংখ্যা ১ লাখে উন্নীত করে স্তরভেদে মাসিক ভাতা ১ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার ৪০০ টাকা করা হবে।

প্রস্তাবিত বাজেটে, মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচির আওতায় ১৮ লাখ ৯৫ হাজার মা ও শিশুকে মাসিক ৮৫০ টাকা করে সহায়তা দেওয়া হবে। এছাড়া ক্যানসারসহ ছয়টি দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের এককালীন অনুদান ৫০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

বেসরকারি খাতের কর্মীদের জন্য সর্বজনীন পেনশন তহবিলের আওতায় অবসরের সময় মোট সঞ্চিত অর্থের ৩০ শতাংশ গ্র্যাচুইটি হিসেবে প্রদানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বাজেটে সাধারণ মুক্তিযোদ্ধাদের মাসিক সম্মানী ২০ হাজার টাকা অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। তবে খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবারের ভাতা ৫ হাজার টাকা করে বৃদ্ধি করে বীরশ্রেষ্ঠ পরিবারের জন্য ৪০ হাজার টাকা, বীর উত্তম পরিবারের জন্য ৩০ হাজার টাকা এবং বীর বিক্রম ও বীর প্রতীক পরিবারের জন্য ২৫ হাজার টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে।

এছাড়া জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারগুলোর জন্য মাসিক ২০ হাজার টাকা এবং ‘এ’, ‘বি’ ও ‘সি’ ক্যাটাগরিতে আহতদের জন্য যথাক্রমে ২০ হাজার, ১৫ হাজার ও ১০ হাজার টাকা করে মাসিক ভাতা অব্যাহত থাকবে বলে বাজেট বক্তৃতায় উল্লেখ করেন অর্থমন্ত্রী।

অর্থমন্ত্রী জানান, সামাজিক নিরাপত্তা খাতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ১ লাখ ৪৪ হাজার ৩৩৮ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে এ খাতে বরাদ্দ ছিল ১ লাখ ২৬ হাজার ৭৩১ কোটি টাকা। 

এবারের বাজেটের আকার ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা, যা দেশের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ। ‘অর্থনৈতিক গণতান্ত্রিকীকরণ ও বিকেন্দ্রীকরণ: ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির পথে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে এ বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে।