বাসস
  ১০ জুন ২০২৬, ২২:৪৬

প্রবাসীদের জন্য আসছে ‘প্রবাসী কার্ড’, গড়ে তোলা হবে ‘প্রবাসী সিটি’: প্রতিমন্ত্রী

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক। ফাইল ছবি

সংসদ ভবন, ১০ জুন, ২০২৬ (বাসস) : প্রবাসীদের জন্য ব্যাংকিং সুবিধাসংবলিত ‘প্রবাসী কার্ড’ চালু, ‘প্রবাসী সিটি’ নির্মাণ, বিশেষায়িত হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা এবং বিদেশে শ্রমিক সুরক্ষায় আইনি সহায়তা জোরদারের উদ্যোগ  নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক।

বুধবার জাতীয় সংসদে কার্যপ্রণালী বিধির ৭১ বিধিতে নরসিংদী-১ আসনের সরকারি দলের সদস্য খায়রুল কবির খোকনের উত্থাপিত জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণ নোটিশের জবাবে তিনি এ কথা জানান। 

নুরুল হক বলেন, প্রবাসীরা দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখলেও প্রত্যাশিত সেবা সবসময় পান না। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর তাদের কল্যাণে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

তিনি জানান, নির্বাচনী ইশতেহারের আলোকে একটি ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা ব্যাংকের পেমেন্ট গেটওয়ের সঙ্গে যুক্ত থাকবে। এই কার্ডের মাধ্যমে প্রবাসীরা সহজে দেশে অর্থ পাঠাতে পারবেন এবং নির্ধারিত সীমার মধ্যে তাদের পরিবারের সদস্যরাও অর্থ ব্যবহার করতে পারবেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রবাসীদের আবাসন সুবিধা নিশ্চিত ও বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে ‘প্রবাসী সিটি’ গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রাথমিকভাবে পূর্বাচলে একটি প্রকল্প শুরু করে পরবর্তীতে তা জেলা পর্যায়ে সম্প্রসারণের চিন্তা-ভাবনা চলছে।

প্রবাসীদের জন্য গুলশানে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের জমিতে আন্তর্জাতিক মানের একটি বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

নুরুল হক বলেন, ২০২৫ সালের মে থেকে ২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত প্রবাসী কর্মীদের মেধাবী সন্তানদের শিক্ষা ভাতা হিসেবে ৫ হাজার ২২৫ জনকে ১৬ কোটি ২৫ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে। একই সময়ে প্রতিবন্ধী সন্তানদের ভাতা, বীমা দাবি, বিদেশফেরত কর্মীদের ক্ষতিপূরণ, মৃত কর্মীদের লাশ পরিবহন ও দাফন ব্যয়সহ বিভিন্ন খাতে শত শত কোটি টাকার সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।

তিনি জানান, বিদেশফেরত প্রায় আড়াই লাখ কর্মীকে পুনর্বাসন ও কর্মসংস্থানের জন্য প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেওয়া হয়েছে। তাদের দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে পুনরায় বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতেও কাজ করছে সরকার।

প্রবাসীদের দীর্ঘদিনের অভিযোগের প্রসঙ্গ তুলে নুরুল হক বলেন, বিমানবন্দরে ভালো ব্যবহার নিশ্চিত করতে ইতোমধ্যে প্রবাসী কল্যাণ কেন্দ্রের কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। ঢাকার পাশাপাশি সিলেট ও চট্টগ্রামেও এ সেবার পরিধি বাড়ানো হয়েছে।

তিনি বলেন, বিদেশে কর্মীরা নির্যাতন বা অন্যায়ভাবে চাকরিচ্যুত হলে আইনি সহায়তা নিশ্চিত করতে ১০টি দেশের ল’ ফার্মের সঙ্গে চুক্তি করা হয়েছে। এছাড়া সৌদি আরবের জেদ্দা ও রিয়াদ এবং ওমানের মাস্কাটে নারী কর্মীদের জন্য তিনটি সেফ হোম পরিচালিত হচ্ছে।

প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রবাসীদের তাৎক্ষণিক সেবার জন্য দেশে টোল-ফ্রি কল সেন্টার ১৬১৩৫ এবং বিদেশ থেকে +৮৮০৯৬১০১০২০৩০ নম্বরে যোগাযোগের ব্যবস্থা রয়েছে।

তিনি বলেন, সরকার মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে নতুন শ্রমবাজার অনুসন্ধানে গুরুত্ব দিচ্ছে। জাপানের শ্রমবাজারে কর্মসংস্থান বাড়াতে মন্ত্রণালয়ে ‘জাপান সেল’ গঠন করা হয়েছে। একই সঙ্গে ইউরোপ ও এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে নতুন সুযোগ তৈরির জন্য বিদেশস্থ মিশনগুলোকে সক্রিয় ভূমিকা পালনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় চালুর বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন যাতে কোনো ধরনের সিন্ডিকেট সৃষ্টি না হয় এবং পুরো প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও উন্মুক্ত থাকে। মালয়েশিয়ার সঙ্গে বিদ্যমান সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী বাংলাদেশি রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর চূড়ান্ত নির্বাচন মালয়েশিয়া সরকারই করে থাকে।

রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর কার্যক্রম মূল্যায়নের উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমানে প্রায় তিন হাজার লাইসেন্স থাকলেও কঠোর যাচাই-বাছাই করলে ৪০০ থেকে ৫০০টির বেশি টিকে থাকার সম্ভাবনা নেই। এজন্য গ্রেডিং ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সমন্বয়ে অভিবাসন খাতে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা, প্রতারণা রোধ এবং প্রবাসীদের মর্যাদা, অধিকার ও নিরাপদ কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর।