শিরোনাম

সংসদ ভবন, ৯ জুন, ২০২৬ (বাসস) : বিভিন্ন অর্থনৈতিক ও কাঠামোগত চ্যালেঞ্জের কারণে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) রাজস্ব আদায় ২০২৪-২৫ অর্থবছরে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারেনি। একই প্রবণতা ২০২৫-২৬ অর্থবছরেও অব্যাহত রয়েছে বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
তিনি আজ সংসদে সরকারি দলের সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য নিলুফার চৌধুরী মনির লিখিত প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সংশোধিত রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪ লাখ ৬৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। এর বিপরীতে প্রকৃত আদায় হয়েছে ৩ লাখ ৭০ হাজার ৮৭৫ কোটি ৪ লাখ টাকা। ফলে রাজস্ব আদায়ে উল্লেখযোগ্য ঘাটতি তৈরি হয়েছে।
তিনি জানান, চলমান ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ লাখ ৩ হাজার কোটি টাকা। তবে ২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত সঞ্চিত লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪ লাখ ৩১ হাজার ৪৬১ কোটি ২৭ লাখ টাকা, যেখানে প্রকৃত আদায় হয়েছে ৩ লাখ ২৬ হাজার ৯২৮ কোটি ১৬ লাখ টাকা। এতে রাজস্ব আদায়ের ওপর চাপ অব্যাহত রয়েছে।
রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যর্থতার পেছনে দেশের অর্থনৈতিক ও কাঠামোগত বিভিন্ন কারণ দায়ী বলে উল্লেখ করেন অর্থমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে রাজনৈতিক অস্থিরতা, স্থিতিশীল রাজনৈতিক সরকারের অনুপস্থিতি, বিনিয়োগ হ্রাস, আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে ধীরগতি, উৎপাদন কমে যাওয়া, সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন এবং ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক প্রদানকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো কারণগুলো রাজস্ব আদায়ে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
২০২৫-২৬ অর্থবছরেও একই ধরনের চ্যালেঞ্জ অব্যাহত রয়েছে বলে তিনি জানান। এর মধ্যে রয়েছে বিনিয়োগে স্থবিরতা, আমদানি ও উৎপাদন কমে যাওয়া এবং ভ্যাট নিবন্ধিত অনেক প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়া।
অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, আগের বছরের তুলনায় ২৫ শতাংশ ও ১০ শতাংশ শুল্কহারভুক্ত পণ্যের আমদানি যথাক্রমে ১৮ শতাংশ ও ৩৭ শতাংশ কমে যাওয়ায় রাজস্ব আহরণে উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়েছে।
তিনি জানান, জ্বালানির মূল্য স্থিতিশীল রাখতে সরকার পেট্রোলিয়াম পণ্যের ওপর শুল্ক কমিয়েছে এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির ওপর ভ্যাট প্রত্যাহার করেছে। এসব নীতিগত সিদ্ধান্তও রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ কমিয়ে দিয়েছে।
এছাড়া মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানির শুল্ক কাঠামোয় পরিবর্তন, বিলাসবহুল যানবাহনের আমদানি হ্রাস এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক চাপও রাজস্ব সংগ্রহে প্রভাব ফেলেছে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, জুলাই-আগস্ট ২০২৪-এর রাজনৈতিক পরিবর্তনের সময়কাল, সরবরাহ ব্যবস্থার বিঘ্ন এবং দীর্ঘস্থায়ী ব্যবসায়িক মন্দা করপোরেট মুনাফা ও আয়কর আদায়ে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
তিনি আরও বলেন, প্রায় দ্বি-অঙ্কের উচ্চ মূল্যস্ফীতি মানুষের প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা ও সঞ্চয় কমিয়ে দিয়েছে। একই সঙ্গে উচ্চ সুদের হার এবং স্থানীয় মুদ্রার অবমূল্যায়নের ফলে ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় বেড়েছে। গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটসহ জ্বালানি ঘাটতির কারণে শিল্প উৎপাদনও সীমিত হয়েছে।
তবে রাজস্ব ঘাটতি থাকা সত্ত্বেও এনবিআরের স্বয়ংক্রিয়করণ কার্যক্রম জোরদার এবং কর ফাঁকি প্রতিরোধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের ফলে অর্থবছরের শেষভাগে রাজস্ব আদায়ে কিছুটা ইতিবাচক অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী।
তিনি বলেন, আগামী মাসগুলোতে রাজস্ব ঘাটতি কমিয়ে আনতে সংস্কার কার্যক্রম এবং আইন প্রয়োগ আরও জোরদার করা হবে।