শিরোনাম

সংসদ ভবন, ৮ জুন, ২০২৬ (বাসস): বাংলাদেশের চামড়া শিল্পে বিপুল রপ্তানি সম্ভাবনা রয়েছে এবং যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করা গেলে এ খাতের রপ্তানি আয় ১০ বিলিয়ন ডলারের বেশি হতে পারে বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির।
আজ জাতীয় সংসদে সরকারি দলের সংসদ সদস্য আলহাজ জসীম উদ্দিন আহমেদ (চট্টগ্রাম-১৪)-এর সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, দেশের বিদ্যমান প্রধান রপ্তানি খাতগুলোর পাশাপাশি চামড়া শিল্প একটি শক্তিশালী বিকল্প রপ্তানি খাত হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে।
তিনি জানান, গত তিন বছর ধরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের রপ্তানি আয় প্রায় ১ দশমিক ১০ থেকে ১ দশমিক ১৫ বিলিয়ন ডলারের মধ্যে স্থির রয়েছে। তবে সাভারে ট্যানারি স্থানান্তরের পর উদ্ভূত বিভিন্ন কাঠামোগত সমস্যার কারণে এ খাতের প্রত্যাশিত প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়নি।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, হাজারীবাগ থেকে সাভারে ট্যানারি স্থানান্তরের মূল লক্ষ্য ছিল আধুনিকায়ন এবং পরিবেশগত মান নিশ্চিত করা। কিন্তু বাস্তবায়নের বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার কারণে চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণের সক্ষমতা আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।
তিনি বলেন, 'চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণের সক্ষমতা আগের তুলনায় অনেক কমে গেছে। এর প্রভাব বিশেষ করে ঈদুল আজহার সময় স্পষ্টভাবে দেখা যায়, যখন কাঁচা চামড়া সংগ্রহ ও সংরক্ষণের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পায়।'
চামড়া শিল্পকে পুনরুজ্জীবিত করতে সরকার বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বলে জানান মন্ত্রী।
তিনি বলেন, প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় কসাইখানার কার্যক্রম উন্নত করে যান্ত্রিক পদ্ধতিতে পশুর চামড়া ছাড়ানো এবং সঠিকভাবে চামড়া সংগ্রহ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
এছাড়া সাভার ট্যানারি শিল্পনগরীর কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার (সিইটিপি)-এর বর্তমান ১৪ থেকে ১৬ হাজার ঘনমিটার দৈনিক কার্যক্ষমতা বাড়িয়ে পরিকল্পিত ২৫ হাজার ঘনমিটার সক্ষমতায় উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী জানান, পৃথক ট্যানারিগুলোকে নিজস্ব বর্জ্য শোধনাগার (ইটিপি) স্থাপনে প্রযুক্তিগত ও আর্থিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি সাভার শিল্পনগরীর সব কারখানাকে পরিবেশগত মানদণ্ডের আওতায় আনা এবং প্রয়োজনীয় কারিগরি ও আর্থিক সহায়তা জোরদার করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, 'এসব পদক্ষেপ যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হলে চামড়া শিল্প বাংলাদেশের জন্য একটি শক্তিশালী বিকল্প রপ্তানি খাত হিসেবে গড়ে উঠবে।'
এনসিপির সদস্য আতিকুর রহমান মুজাহিদ (কুড়িগ্রাম-২)-এর সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, সোনাহাট স্থলবন্দর সম্প্রসারণ করা হলে স্বাভাবিকভাবেই বাণিজ্যিক কার্যক্রম বৃদ্ধি পাবে। তবে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সম্ভাব্যতা যাচাই করা হবে।
স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার (ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২) অর্থপাচার সংক্রান্ত সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, এটি একটি জটিল এবং গবেষণানির্ভর বিষয়।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের বাণিজ্য ব্যবস্থার সঙ্গে বিপুল সংখ্যক পণ্য, মূল্য নির্ধারণ কাঠামো, প্রি-শিপমেন্ট ইন্সপেকশন ব্যবস্থা এবং বিভিন্ন ধরনের আমদানি প্রক্রিয়া জড়িত রয়েছে।
খন্দকার আবদুল মুক্তাদির জানান, বর্তমানে আমদানি ও রপ্তানি মিলিয়ে বাংলাদেশের বাণিজ্যের আকার প্রায় ১৩০ বিলিয়ন ডলার। নির্দিষ্ট কোনো পণ্যের মাধ্যমে অর্থপাচার হয়েছে কি না, তা শনাক্ত করতে বিস্তারিত তদন্ত ও বিশ্লেষণ প্রয়োজন।
তিনি সংসদকে আশ্বস্ত করে বলেন, 'সরকার বিষয়টি সম্পর্কে অবগত রয়েছে এবং এ বিষয়ে গবেষণা ও পর্যালোচনা চলছে। কোনো ধরনের অনিয়ম শনাক্ত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'