শিরোনাম

সংসদ ভবন, ৭ জুন, ২০২৬ (বাসস) : শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় মাত্র ১৯ দিনের মধ্যে বিচারকাজ সম্পন্ন করে দুই আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী।
আজ জাতীয় সংসদে বিধি-৩০০ এর আওতায় দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, সরকারের আন্তরিকতা, পুলিশের দ্রুত তদন্ত এবং বিচার বিভাগের সহযোগিতার ফলে এ রায় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে।
আইনমন্ত্রী জানান, গত ১৯ মে রাজধানীর পল্লবী এলাকায় ৮ বছর বয়সী রামিসা ধর্ষণ ও হত্যার শিকার হয়। ঘটনার মাত্র ৭ ঘণ্টার মধ্যে পুলিশ দুই মূল আসামিকে গ্রেফতার করে। একই সঙ্গে সরকার তাৎক্ষণিকভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে এবং প্রধানমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা ভুক্তভোগী পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
তিনি বলেন, ঘটনার পর রামিসার বাবা বিচার নিয়ে আস্থা হারিয়ে ফেলেছিলেন। তখন সরকার তাকে আশ্বস্ত করেছিল যে, এই ঘটনার বিচার নিশ্চিত করা হবে। সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন হয়েছে।
আইনমন্ত্রী জানান, পুলিশ মাত্র ৫ দিনের মধ্যে তদন্ত শেষ করে ২৪ মে অভিযোগপত্র দাখিল করে। একই দিন অভিযোগপত্র সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়। আসামিপক্ষ কোনো আইনজীবী নিয়োগ না করায় বিচার প্রক্রিয়া যাতে প্রশ্নবিদ্ধ না হয়, সেজন্য রাষ্ট্রপক্ষ থেকে স্টেট ডিফেন্স আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া হয়।
তিনি আরো বলেন, আদালতের গ্রীষ্মকালীন অবকাশকাল সামনে থাকলেও প্রধান বিচারপতির সহযোগিতায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালগুলোকে ছুটির আওতার বাইরে রাখা হয়। ফলে বিচার কার্যক্রমে কোনো বিলম্ব হয়নি।
মামলার ধারাবাহিক কার্যক্রম তুলে ধরে আইনমন্ত্রী বলেন, ১ জুন অভিযোগ গঠন, ২ জুন ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ, ৩ জুন আসামিপক্ষের সাক্ষ্য উপস্থাপনের সুযোগ, ৪ জুন যুক্তিতর্ক এবং আজ ৭ জুন রায় ঘোষণার মাধ্যমে বিচার সম্পন্ন হয়।
তিনি জানান, আদালত সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে প্রধান আসামি সোহেল ও তার সহযোগী স্ত্রীকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, এই রায় দেশের বিচারব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি উল্লেখ করেন, রায় ঘোষণার পর রামিসার বাবা বিচার প্রক্রিয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন, যা সরকারের জন্য একটি বড় অর্জন।
তিনি বলেন, জাতির কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনায় একই ধরনের কঠোর অবস্থান অব্যাহত থাকবে।