শিরোনাম

সংসদ ভবন, ২৯ এপ্রিল, ২০২৬ (বাসস): জুলাই বিপ্লব আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের মতো উল্লেখ করে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, 'ভূগোল পড়লে জানা যায়, আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত একদিনে ঘটে না। লাভা অনেক আগে থেকেই সৃষ্টি হয়। জুলাই বিপ্লবের সৃষ্টি শুরু হয়েছে সেই ১৩-১৪ বছর আগে থেকে। আমাদের নেতা তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল তিলে তিলে যে আগুনের সৃষ্টি করেছে, তা জুলাই মাসে জ্বলে উঠে ফ্যাসিবাদকে বিদায় করেছে।’
তিনি আজ সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের উপর আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে বলেন, ‘আজকে যারা গণতন্ত্রের সবক দিতে চায়, তারা ৭১-কে ২৪-এর সাথে সম্পৃক্ত করে খাটো করতে চায়। আমরা বীরত্বের সাথে লড়াই করে দেশ স্বাধীন করেছি। আমাদের নেতা তারেক রহমান ঐক্যের ডাক দিয়েছেন বলে আমরা ধৈর্য ধরছি। কিন্তু আদর্শের বিরুদ্ধে গিয়ে কোনো সমঝোতা হবে না। আমাদের সমঝোতা কেবল দেশের উন্নয়নের স্বার্থে।’
অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
২০০৪ সালে পাকিস্তান সফরের একটি তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে মন্ত্রী বলেন, ‘সাফমা কনফারেন্সে পাকিস্তানে গিয়েছিলাম। সেখানে এক পাকিস্তানি এমপি আমার মুক্তিযোদ্ধা পরিচয় জেনে জামায়াতে ইসলামীর এমপির সামনেই আমাকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করেছিল। সেই অপমান আমি ভুলিনি। যখন বেশি বাড়াবাড়ি করা হয়, তখন মনে পড়ে যায় এদের পরিচয়—এরাই রাজাকার, আলবদর ও আলশামস।’
স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ের স্মৃতিচারণ করে তিনি আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, ‘ধানমন্ডি ২ নম্বরের সারা ভবন বা হোয়াইট হাউসে আমরা নির্যাতিতা বোনদের দেখেছি। যাদের হাত ছিল দুর্গন্ধে ভর্তি, চামড়া ছিল খসখসে। কারো কোলে ছিল সন্তান, কেউ ছিল অন্তঃসত্তা। সেইসব জীর্ণ-শীর্ণ চেহারার কথা আমরা ভুলিনি। মুক্তিযোদ্ধাদের বেশি খোঁচাবেন না।’
বিরোধীদলীয় নেতার সাম্প্রতিক শিশু হাসপাতাল সফরের প্রসঙ্গ টেনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বিরোধীদলীয় নেতা শিশু হাসপাতালে গিয়েছিলেন। সেখানে তিনি নিজেই স্বীকার করেছেন যে, রোগীরা ভালো আছে এবং চিকিৎসা চলছে। অথচ সংসদে এসে তারা অন্য কথা বলেন। দীর্ঘ সময় ধরে তারা কেবল সরকারের সমালোচনা করেন, কিন্তু অতীতের ব্যর্থতা নিয়ে কথা বলেন না।’