শিরোনাম

সংসদ ভবন, ২৭ এপ্রিল, ২০২৬ (বাসস): স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ঢাকা উত্তর এবং দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে জলাবদ্ধতা ও ডেঙ্গুর নিয়ন্ত্রণে সরকার বিভিন্ন কর্মপরিকল্পনা নিয়েছে। এই কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা গেলে আসন্ন বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা লাঘব ও ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়াসহ অন্যান্য মশা বাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।
তিনি আজ সংসদে কুমিল্লা-৯ আসনের সরকারি দলের সদস্য মো. আবুল কালামের টেবিলে উত্থাপিত লিখিত প্রশ্নের জবাবে এ কথা জানান।
মন্ত্রী বলেন, যেসব কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে এর মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন কর্তৃক গৃহীত পদক্ষেপসমূহ : প্রাক বর্ষাকালীন (মার্চ-মে) সময়ে কিউলেক্স এবং বর্ষাকালীন সময়ে এডিস মশা নিয়ন্ত্রণ।
ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা শনাক্তকরণ এবং সমন্বিত মশক নিধন কার্যক্রম। সার্ভেইল্যান্স সিস্টেম জোরদারকরণ। জনসচেতনতা ও জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধি। সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহের সাথে প্রয়োজনীয় সমন্বয়। সকালে লার্ভিসাইডিং এবং প্রজনন স্থল অপসারণ/ধ্বংস। সন্ধ্যাকালীন ফগিং কার্যক্রম কিউলেক্স মশা নিধনে ডিএনসিসি এর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সাথে যৌথভাবে বন্ধ খাল-বিল, ড্রেন, নালা-নর্দমা ইত্যাদি হটস্পট গুলোতে মশক নিধন কার্যক্রম পরিচালনা ও ডিএনসিসি-এর অন্তর্গত ৬ হাজার বিঘা কচুরিপানা পূর্ণ জলাশয় পরিষ্কার করার কার্যক্রম।
এ ছাড়া 'শনিবারের অঙ্গীকার, নিজ নিজ বাসা-বাড়ি করি পরিষ্কার' স্লোগানের আলোকে প্রতি শনিবার সকাল ৮ টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও ইনস্টিটিউট অব এপিডেমিওলজি ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড রিসার্চ (আইইডিসিআর) কর্তৃক প্রাপ্ত ২৫টি ঝুঁকিপূর্ণ ওয়ার্ডে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা (প্রতি শনিবারে কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী কার্যক্রম চলমান)।
মন্ত্রী জানান, ডেঙ্গু বিষয়ে মানুষের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টি করা এবং ডেঙ্গু ঝুঁকিপূর্ণ ওয়ার্ডসমূহে মশার উৎপত্তিস্থল দূরীকরণে ৮ এপ্রিল থেকে ১২ এপ্রিল ২০২৬ 'অপারেশন ক্লিন হোম : হেলদি লাইভস' কর্মসূচির আওতায় ডেঙ্গু ঝুঁকিপূর্ণ ২৫টি ওয়ার্ডে অভিযান পরিচালনা করা (৮ এপ্রিল ২০২৬ থেকে কার্যক্রম চলমান)।
তিনি বলেন, হসপিটাল সার্ভেইল্যান্স এর মাধ্যমে ডেঙ্গু রোগী আক্রান্ত ব্যক্তির বাড়ির ঠিকানা সংগ্রহ এবং এ সকল ঠিকানায় কুইক রেসপন্স টিম (কিউআরটি) এর মাধ্যমে বিশেষ মশক নিধন কার্যক্রম পরিচালনা করা (২১ এপ্রিল ২০২৬ থেকে কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
হাসপাতাল থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে ডেঙ্গু রোগী আক্রান্ত ব্যক্তির বাড়ির ঠিকানা সংগ্রহ এবং এ সকল ঠিকানায় মশক নিধন কার্যক্রম (২১ এপ্রিল ২০২৬ থেকে শুরু হয়েছে।)
স্থানীয় সরকার মন্ত্রী জানান, বর্তমানে ব্যবহৃত রাসায়নিক কীটনাশক পাশাপাশি অধিকতর কার্যকর জৈব কীটনাশক ব্যাসিলাস থুরিঞ্জিয়েনসিস ইসরায়েলেনসিস (বিটিআই) পরীক্ষামূলক প্রয়োগ শেষে ক্রয় প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
ডিএনসিসি কর্তৃক ব্যবহৃত কীটনাশকের মান যাচাই এর জন্য ৫টি স্বনামধন্য সরকারি/বেসরকারি প্রতিষ্ঠান কর্তৃক দৈবচয়ন ভিত্তিতে কীটনাশকের পরীক্ষা কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
জনসচেতনতা ও জন সম্পৃক্ততার লক্ষ্যে নতুন স্টিকার/লিফলেট, বুকলেট প্রস্তুত করা হয় যা চলমান রয়েছে।
বর্ষা মৌসুমে সতর্কতামূলক বাল্ক এসএমএস প্রদান ওটিভি স্কুল প্রচার কার্যক্রম চলমান আছে। স্থানীয় সরকার বিভাগ এর টেকনিক্যাল কমিটির গাইডলাইন অনুযায়ী কীটনাশকের যথাযথ ব্যবহার এবং কার্যকারিতা নিয়মিতভাবে পরীক্ষা কার্যক্রম চলমান রয়ে বলে তিনি জানান।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন কর্তৃক গৃহীত পদক্ষেপসমূহ হলো : আসন্ন বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা ও ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন কর্তৃক প্রতি সপ্তাহে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের আওতধীন প্রতিটি অঞ্চলে স্থানীয় জনসাধারণকে সম্পৃক্ত করে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন অভিযান পরিচালিত হচ্ছে; বর্জ্য ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে প্রতিনিয়ত সকাল সন্ধ্যা মশার ওষুধ ছিটানোর কার্যক্রম অব্যাহত আছে। তাছাড়া ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এলাকায় মশক নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে মনিটরিংটিম গঠন করা হয়েছে। উক্ত মনিটরিংটিমের তত্ত্বাবধানে ঝুঁকিপূর্ণ স্থান চিহ্নিত করে বিশেষ ক্রাশ প্রোগ্রাম পরিচালনা করা হচ্ছে বলে মন্ত্রী জানান।
ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে ঝুঁকিপূর্ণ স্থানসমূহে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে সচেতনতা বৃদ্ধি ও প্রয়োজনে জরিমানা আরোপ করা হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি জানান, জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠাসমূহ, হাট-বাজার প্রভৃতি জনবহুল এলাকায় লিফলেট/ মাইকিং কার্যক্রম চলমান রাখা হয়েছে। এছাড়া প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় এ সংক্রান্ত প্রচার অব্যাহত রয়েছে।
তিনি বলেন, আসন্ন বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা নিরসণকল্পে স্বল্প মেয়াদি কার্যক্রমের আওতায় হটস্পটসমূহ চিহ্নিত করে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ইতোমধ্যে সেগুনবাগীচা বক্স কালভার্ট, জিয়া সরণি ও কাজলা খাল পরিষ্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য খাল, বক্স-কালভার্ট ও নদর্মা পরিষ্কার কাজ বাস্তবায়ন করা হবে; জলাবদ্ধতার স্থান হতে দ্রুত সময়ে বৃষ্টির পানি অপসারণের জন্য ইতোমধ্যে ৬টি পোর্টেবল পাম্প ক্রয় করা হয়েছে।
তিনি আরো জানান, বর্তমানে ঢাকা দক্ষিণের পানিসমূহ ৩টি আউটলেটের মাধ্যমে নিষ্কাশিত হচ্ছে। বর্তমানে আরও ১টি আউটলেট নির্মাণের কার্যক্রম চলমান আছে এবং বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে গুলিস্থান হতে সদরঘাট অংশে নতুন ১টি আউটলেট (বৃহৎ নর্দমা) নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
দীর্ঘ মেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োজিত করে সমীক্ষা ও সম্ভাব্যতা যাচাইপূর্বক প্রয়োজনীয় সংখ্যক আউটলেট নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে বলে মন্ত্রী জানান।