বাসস
  ২১ এপ্রিল ২০২৬, ২০:০৯
আপডেট : ২১ এপ্রিল ২০২৬, ২০:৩৭

সরকার মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে : অর্থমন্ত্রী

ছবি : সংগৃহীত

সংসদ ভবন, ২১ এপ্রিল, ২০২৬ (বাসস): অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, বিগত কয়েক বছর ধরে দেশে উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপ বিদ্যমান ছিল এবং এর ফলে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

তিনি বলেন, বিগত ২০২২-২৩ অর্থবছর থেকে দেশে উচ্চ মূল্যস্ফীতি বিরাজ করছে। বিগত ২০২৪ সালের জুলাই মাসে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ছিল ১৪.১০ শতাংশ, যা চলতি বছরের মার্চ মাসে উল্লেখযোগ্যভাবে কমে ৮.২৪ শতাংশে নেমে এসেছে। বর্তমান সরকার মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

আজ মঙ্গলবার কুমিল্লা-৯ আসনের সরকারি দলের সদস্য মো. আবুল কালামের লিখিত প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এ তথ্য জানান।

অর্থমন্ত্রী বলেন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ ব্যাংক নীতি সুদহার ১০.০ শতাংশে বহাল রেখেছে, যাতে অর্থের অতিরিক্ত চাহিদাজনিত চাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং সামষ্টিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকে।

তিনি জানান, খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সরকারি ও বেসরকারি উভয় পর্যায়ে খাদ্যশস্য আমদানি, মজুদ ও বাজার ব্যবস্থাপনা জোরদার করা হয়েছে। ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত সরকারি পর্যায়ে ৪.০০ লাখ মেট্রিক টন চাল ও ৬.০৮ লাখ মেট্রিক টন গম আমদানি করা হয়েছে; একই সময়ে বেসরকারি পর্যায়ে চাল ও গম আমদানির পরিমাণ যথাক্রমে ৭.৩৪ লাখ ও ৬১.৬০ লাখ মেট্রিক টন। ১৩ এপ্রিল তারিখে সরকারি খাদ্যশস্য মজুদের পরিমাণ ছিল ১৮.৬৩ লাখ মেট্রিক টন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত মানুষের ব্যয়চাপ লাঘবে ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম, বিভিন্ন ভাতা, খাদ্য সহায়তা এবং অন্যান্য লক্ষ্যভিত্তিক সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি অব্যাহত আছে এবং তা সম্প্রসারিত হচ্ছে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির সংখ্যা ৯৫টি এবং এ খাতে মোট বরাদ্দ ১,১৬,৭৩১ কোটি টাকা।

মন্ত্রী জানান, খাদ্য উৎপাদন ও সরবরাহ সহনীয় রাখতে সেচসহ কৃষক-সহায়তা কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে এবং খাদ্যশস্য আমদানি করা হচ্ছে। নতুন ফ্যামিলি কার্ড ব্যবস্থা ক্রমান্বয়ে সম্প্রসারণ এবং কৃষক কার্ড প্রি-পাইলটিং আকারে ১লা বৈশাখে প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধন করেছেন।

তিনি আরও জানান, বহিঃখাতে চাপ মোকাবিলায় বাজার ভিত্তিক বিনিময় হার ব্যবস্থার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা হয়েছে এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ব্যবস্থাপনা জোরদার করা হয়েছে। চলতি বছরের মার্চ মাসে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৪.১২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, এসব সমন্বিত পদক্ষেপের ফলে সাধারণ মূল্যস্ফীতি ধীরে ধীরে নিম্নমুখী হচ্ছে। ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ ৯.১৩ শতাংশ থেকে কমে মার্চ ২০২৬-এ ৮.৭১ শতাংশে নেমে এসেছে। তবে চলমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রভাবে নতুন চাপ সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বিধায় সরকার মূল্যস্ফীতি সহনীয় পর্যায়ে রাখতে বিভিন্ন কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে।