বাসস
  ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ১৬:৩০

২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ৪৮১ অমুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি বাতিল : আহমেদ আজম খান

ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

সংসদ ভবন, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬ (বাসস) : মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আজম খান আজ জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন, জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের (জামুকা) সুপারিশের ভিত্তিতে ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে এ পর্যন্ত ৪৮১ জন অমুক্তিযোদ্ধার সরকারি স্বীকৃতি বাতিল করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘অভিযোগের ভিত্তিতে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল যাচাই-বাছাই ও তদন্ত পরিচালনা করে এবং তাদের সুপারিশ অনুযায়ী ৪৮১ জনের গেজেট প্রজ্ঞাপন, লাল মুক্তিবার্তা ও ভারতীয় তালিকা থেকে নাম বাতিল করেছে মন্ত্রণালয়।’

আজ সংসদে রংপুর-৪ আসনের এনসিপি’র সংসদ সদস্য আখতার হোসেন-এর প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

আখতার হোসেন তার প্রশ্নে জানতে চান, ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না। 

তিনি উল্লেখ করেন, বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদন ও সরকারি পর্যালোচনায় দেখা যায়, প্রায় আড়াই লাখ গেজেটভুক্ত মুক্তিযোদ্ধার মধ্যে এক লাখেরও বেশি ব্যক্তি ভুয়া।

জবাবে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী বলেন, ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে এখন পর্যন্ত অমুক্তিযোদ্ধা সংক্রান্ত মোট ৮৪২টি অভিযোগ যাচাইয়ের জন্য জামুকা’র কাছে পাঠানো হয়েছে।

তিনি জানান, অভিযোগ পাওয়া গেলে, কাউন্সিলের সদস্যদের নিয়ে গঠিত একটি উপকমিটি তদন্ত ও শুনানি পরিচালনা করে। ‘যদি কোনো ব্যক্তি প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা না হন বলে প্রমাণিত হয়, তাহলে তার গেজেট বাতিলের সুপারিশ করা হয়।’

আহমেদ আজম বলেন, এ ধরনের অভিযোগ পর্যালোচনা একটি চলমান প্রক্রিয়া ও জামুকার নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ। 

তিনি আরও বলেন, ‘কোনো তালিকাভুক্ত মুক্তিযোদ্ধার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে, তা তদন্ত ও শুনানির মাধ্যমে যাচাই করা হবে এবং অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার সুপারিশ করা হবে।’

মন্ত্রী আরও জানান, প্রতিষ্ঠার পর থেকে এখন পর্যন্ত জামুকা মোট ১০৩টি সভা করেছে এবং ৬ হাজার ৪৬৫ জনের গেজেট বাতিলের সুপারিশ করেছে।

অন্য এক তারকাচিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে নোয়াখালী-১ আসনের সংসদ সদস্য এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকনের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, মন্ত্রণালয়ের ব্যবস্থাপনা তথ্য পদ্ধতি (এমআইএস)-এ সংরক্ষিত সমন্বিত ডাটাবেজ অনুযায়ী বর্তমানে দেশে স্বীকৃত মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা ১ লাখ ৯৮ হাজার ৩৭ জন।

তিনি আরও বলেন, প্রত্যেক মুক্তিযোদ্ধা মাসিক ২০ হাজার টাকা ভাতা, বছরে দুটি উৎসব ভাতা হিসেবে প্রতিটি ১০ হাজার টাকা, পহেলা বৈশাখ ভাতা ২ হাজার টাকা ও বিজয় দিবস ভাতা ৫ হাজার টাকা পান।

তবে মন্ত্রী জানান, মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা বাড়ানোর বিষয়ে বর্তমানে সরকারের কোনো পরিকল্পনা নেই।