বাসস
  ০৫ এপ্রিল ২০২৬, ১৭:২১

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে সরকারের বহুমুখী পদক্ষেপ: বাণিজ্যমন্ত্রী

সংসদ ভবন, ৫ এপ্রিল, ২০২৬ (বাসস) : বাণিজ্য মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির জানিয়েছেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণ এবং সাশ্রয়ী মূল্যে সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

আজ সংসদে সরকারি দলের সদস্য সরওয়ার জামাল নিজামের (চট্টগ্রাম-১৩) টেবিলে উপস্থাপিত তারকাচিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বাজার স্থিতিশীল রাখা ও নিত্যপণ্যের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।

তিনি বলেন, বাজার নিয়ন্ত্রণ আরও যুগোপযোগী ও কার্যকর করতে ‘এসেনশিয়াল কমোডিটিজ অ্যাক্ট, ১৯৫৬’ সংশোধন ও হালনাগাদের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, বিদ্যমান আইনের আওতায় মন্ত্রণালয় ভোজ্য তেলের দাম নির্ধারণ করে এবং আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তা সমন্বয় করা হয়। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত তিনবার দাম সমন্বয় করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, গত বছরে অন্যান্য নিত্যপণ্যের দাম মোটামুটি স্থিতিশীল ছিল। তবে বছরের মাঝামাঝি ও ডিসেম্বর-জানুয়ারিতে পেঁয়াজের দাম সাময়িকভাবে বেড়েছিল। পরে কৃষি ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের যৌথ সিদ্ধান্তে দুই দফা আমদানি চালুর ফলে দাম স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরে আসে।

এ সময় বাণিজ্য মন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ (বিআইডিএস)-কে দিয়ে ভারত, ইন্দোনেশিয়া ও অন্যান্য দেশের বাজার নিয়ন্ত্রণ মডেল পর্যালোচনা করে বাংলাদেশের উপযোগী একটি কার্যকর মডেল প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বাণিজ্য মন্ত্রী জানান, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এ বছর চিনি, ভোজ্যতেল ও খেজুরের ওপর আমদানি শুল্ক কমিয়েছে, যা বাজার স্থিতিশীল রাখতে সহায়তা করেছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর নিয়মিত বাজার তদারকি কার্যক্রম চালাচ্ছে। ঢাকায় প্রতিদিন বাজার পরিদর্শন করা হচ্ছে এবং জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও নিয়মিত অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। বিশেষ করে রমজান ও অন্যান্য উৎসবে এ সব কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়।

তিনি বলেন, উৎপাদক, আমদানিকারক, পাইকার ও খুচরা বিক্রেতাদের সঙ্গে নিয়মিত বৈঠক করা হচ্ছে। পাশাপাশি মন্ত্রী ও সচিব আকস্মিক বাজার পরিদর্শন করেছেন, যার মধ্যে চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জ পাইকারি বাজারও রয়েছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, এলপিজি আমদানিকারক ও পরিবেশকদের সঙ্গে বৈঠক করে সরবরাহ ও মূল্য স্থিতিশীল রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আমদানিকারক ও উৎপাদকদের ব্যাংক-সংক্রান্ত সমস্যাও সমাধান করা হয়েছে, যাতে পণ্যের সরবরাহ বাধাগ্রস্ত না হয়।

তিনি আরও বলেন, জেলা পর্যায়ে গঠিত বিশেষ টাস্কফোর্স গুদাম, কোল্ড স্টোরেজ, সরবরাহ ব্যবস্থা ও পাইকারি বাজার নিয়মিত পরিদর্শন করছে, যাতে উৎপাদক, পাইকার ও ভোক্তার মধ্যে মূল্য ব্যবধান কম থাকে।

বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, ব্যবসায়ী নেতা ও চেম্বার প্রতিনিধিদের সঙ্গে নিয়মিত বৈঠক করে নিত্যপণ্যের দাম পর্যালোচনা ও নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চলছে।

তিনি আরও জানান, টিসিবি কার্ডের মাধ্যমে প্রায় এক কোটি নিম্নআয়ের মানুষকে ভর্তুকি মূল্যে চাল, সয়াবিন তেল, চিনি ও ডাল সরবরাহ করা হচ্ছে, যা বাজার স্থিতিশীল রাখতে এবং দরিদ্র মানুষের জন্য খাদ্য সহজলভ্য করতে সহায়ক হচ্ছে।

মন্ত্রী বলেন, সিলেটে কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি পণ্য সংগ্রহ করে একটি পাইলট কৃষি বাজার চালু করা হয়েছে। এটি সফল হলে সারা দেশে সম্প্রসারণ করা হবে।