শিরোনাম

সংসদ ভবন, ২ এপ্রিল, ২০২৬ (বাসস) : রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার খালাশপীর কয়লাক্ষেত্র থেকে কয়লা উত্তোলনের বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ সম্ভাব্যতা সমীক্ষা সম্পন্ন হওয়ার পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ।
তিনি আজ সংসদে রংপুর-৬ আসনের বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দলীয় সংসদ সদস্য মো. নুরুল আমিনের লিখিত প্রশ্নের জবাবে এ কথা জানান।
মন্ত্রী বলেন, পীরগঞ্জ উপজেলার খালাশপীর এলাকায় কয়লার সম্ভাবনা প্রথম চিহ্নিত হয় ১৯৫৯-৬২ সময়ে গন্ডোয়ানা অববাহিকায় পরিচালিত ভূতাত্ত্বিক জরিপে।
পরবর্তীতে ১৯৮৯-৯০ সালে বাংলাদেশ ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তর (জিএসবি) ২৫ বর্গকিলোমিটার এলাকায় চারটি কূপ খনন করে। এর মধ্যে তিনটি কূপে ২৫৭ থেকে ৪৫১ মিটার গভীরতায় উচ্চমানের বিটুমিনাস কয়লা পাওয়া যায়। এ সময় ২.৫২ বর্গকিলোমিটার এলাকায় প্রায় ১৪৩ মিলিয়ন মেট্রিক টন কয়লার মজুদ নিরূপণ করা হয়।
তিনি জানান, ২০০৬ সালে সিজেএমডিসি পরিচালিত আরও একটি অনুসন্ধানে ৭.৬২ বর্গকিলোমিটার এলাকায় প্রায় ৭০৫.৬৯ মিলিয়ন মেট্রিক টন কয়লার মজুদ শনাক্ত করা হয়।
মন্ত্রী আরও বলেন, ২০০৫-০৬ সালে বিএমডি থেকে অনুসন্ধান লাইসেন্স নিয়ে হোসাফ ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড এবং শানডং-লুদি ও সিনওয়েন মাইনিং গ্রুপ কনসোর্টিয়াম যৌথভাবে একটি টেকনো-ইকোনমিক সম্ভাব্যতা সমীক্ষা পরিচালনা করে। এ সময় আরও ১১টি কোর বোরহোল খনন করা হয়।
তিনি বলেন, প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী খালাশপীর কয়লাক্ষেত্রে ১২.২৫ বর্গকিলোমিটার এলাকায় প্রায় ৬৮৫ মিলিয়ন মেট্রিক টন কয়লার মজুদ রয়েছে।
মন্ত্রী জানান, ২০০৯ সালে হাইড্রোকার্বন ইউনিট যুক্তরাজ্যের ইন্টারন্যাশনাল মাইনিং কনসালট্যান্টস গ্রুপ কনসালটিং লিমিটেড (আইএমসিজিসিএল)-কে পূর্বের টেকনো-ইকোনমিক সমীক্ষা পর্যালোচনার দায়িত্ব দেয়।
পর্যালোচনা প্রতিবেদনে বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা চিহ্নিত করা হয় এবং কয়লা উত্তোলনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে একটি পূর্ণাঙ্গ সম্ভাব্যতা সমীক্ষা করার সুপারিশ করা হয়।
ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, সম্পূর্ণ সম্ভাব্যতা সমীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতেই খালাশপীর কয়লাক্ষেত্র থেকে কয়লা উত্তোলনের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
পীরগঞ্জে লৌহ আকরিকের বিষয়ে তিনি বলেন, শানেরহাট ও আশপাশের এলাকায় প্রাথমিকভাবে লৌহসমৃদ্ধ খনিজের উপস্থিতির প্রমাণ পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে অর্থনৈতিকভাবে উত্তোলনযোগ্যতা যাচাই করতে আরও ড্রিলিং ও ল্যাবরেটরি বিশ্লেষণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।