শিরোনাম

।। ওমর ফারুক ।।
রাজশাহী, ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : রাজশাহী বিভাগে সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে ১ লাখ ৪ হাজার জন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। এ নিয়ে যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।
আজ বুধবার দুপুর ১২টায় রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনারের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান বিভাগীয় কমিশনার ড. আ. ন. ম. বজলুর রশীদ।
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, রাজশাহী বিভাগে মোট ৩৯টি সংসদীয় আসন। এর মধ্যে ৮টি জেলা, ৬৭টি উপজেলা, ১টি সিটি কর্পোরেশন, ৬২টি পৌরসভা, ৫৬৫টি ইউনিয়ন। ১৮ হাজার ১৫৪ বর্গকিলোমিটার এলাকায় প্রায় ২ কোটি ৩ লাখ মানুষের বসবাস। এ অঞ্চলে চূড়ান্ত ভোটার সংখ্যা ১ কোটি ৬৩ লাখ ৭৭ হাজার ৯৬ জন, যার মধ্যে পুরুষ, নারী ও হিজড়া ভোটার অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। মোট ভোটকেন্দ্র ৫ হাজার ৫০৪টি। এর মধ্যে ১ হাজার ৭৬৭টি গুরুত্বপূর্ণ। নির্বাচন ও গণভোট সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং যে কোনো ধরনের সহিংসতা প্রতিরোধে সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার কার্যক্রম জোরদার করার মাধ্যমে ১ জানুয়ারি থেকে ১০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বাংলাদেশ সেনাবাহিনী কর্তৃক ৫৬ টি আগ্নেয়াস্ত্র এবং রাজশাহী রেঞ্জ পুলিশ কর্তৃক বিভিন্ন ধরনের ৭৪ টি আগ্নেয়াস্ত্র ও ৪৩৩ টি দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় বৈধ অস্ত্র জমা পড়েছে ৪ হাজার ৫৯৪। নির্বাচনকালীন সময়ে গোয়েন্দা নজরদারি, টহল ও চেকপোস্ট কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে।
নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে রাজশাহী বিভাগে ২১৮ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, ৩৯জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করবেন। মোট ১ লাখ ৪ হাজার ৬৬ জন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হবে। এরমধ্যে সেনাবাহিনী ১০ হাজার জন, বিজিবি ৪ হাজার ১২৩, রেঞ্জ পুলিশ ১৩ হাজার ৭৯৬, আরএমপি ২ হাজার ৪০৫ জন, র্যাব ১০০৬, আনসার ৭২ হাজার ৭৩৬ জন।
প্রতি আসনে গড়ে ২ হাজার ৬৬৮ জন এবং প্রতি ভোটকেন্দ্রে প্রয়োজনীয় সংখ্যক নিরাপত্তা সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। ভোটার ও ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্তরভিত্তিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ভোটারদের নিরাপত্তা ও ভোট কেন্দ্রের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং অপ্রীতিকর ঘটনা রোধে ৫ হাজার ২৬৬টি কেন্দ্রে সিসিটিভি এবং ২ হাজার ৩১৮টি বডি ওর্ন ক্যামেরা স্থাপন করা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা কার্যক্রমের সমন্বয়ের জন্য বিভাগীয় পর্যায়ে কোর কমিটির মাধ্যমে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে নিয়মিত আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিদ্যুৎ সরবরাহ নির্বিঘ্ন রাখতে সংশ্লিষ্ট সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
এছাড়া, বিভাগের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মনিটরিংসহ সার্বিক বিষয় সমন্বয়ের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধি সমন্বয়ে বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে ১০ ফেব্রুয়ারি থেকে জয়েন্ট অপারেশন সেল কাজ করছে যা ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলমান থাকবে। এছাড়া, মিডিয়া সেলও চলমান থাকবে এবং প্রতিদিনই ৩/৪ বার নির্বাচনের হালনাগাদ তথ্য পিআইডি’র মাধ্যমে প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় পাঠানো হবে।
গণভোট ও নির্বাচন বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভাগজুড়ে ব্যাপক প্রচার ও উদ্বুদ্ধকরণ কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে। ইতোমধ্যে লিফলেট বিতরণ, উঠান বৈঠক, কমিউনিটি সভা, র্যালি, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণাসহ বহুমুখী কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হয়েছে, যাতে ভোটাররা নির্বিঘ্নে ও উৎসবমুখর পরিবেশে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন।
বিভাগীয় কমিশনার ড. আ. ন. ম. বজলুর রশীদ বলেন, আমি রাজশাহী বিভাগের সর্বস্তরের জনগণ, রাজনৈতিক দল, প্রার্থী, ভোটার এবং গণমাধ্যমকর্মীদের সহযোগিতা কামনা করছি। আপনাদের সম্মিলিত সহযোগিতায় আমরা একটি শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন এবং গণভোট উপহার দিতে পারব-এই প্রত্যাশা করছি।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন, রাজশাহী রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি , রাজশাহী মেট্রোপলিটান পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনারসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ।