বাসস
  ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২৩:২২

জামায়াতের পলিসি ডায়ালগে ঢাকাকে মানবিক ও বসবাসযোগ্য নগরীতে রূপান্তরের রূপরেখা 

ঢাকা, ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (বাসস): রাজধানী ঢাকা ও সারাদেশের নগরগুলোকে নিরাপদ, মানবিক ও বসবাসযোগ্য করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে ‘বসবাসযোগ্য ও মানবিক শহর’ শীর্ষক একটি পলিসি ডায়ালগ আয়োজন করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রকৌশল বিভাগ। 

শনিবার বিকেলে রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলের পদ্মা হলে আয়োজিত এই ডায়ালগে নগর ব্যবস্থাপনা, অবকাঠামো উন্নয়ন, পরিবেশ, যানবাহন ও সামাজিক নিরাপত্তা নিয়ে বিস্তারিত নীতিগত প্রস্তাবনা উপস্থাপন করা হয়।

অনুষ্ঠানের শুরুতে ১৯৪৭, ১৯৭১ ও ২০২৪ সালের শহীদদের স্মরণ করা হয়। পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন ক্বারি হাফেজ বেলাল হোসাইন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম বলেন, ‘আল্লাহ তাআলা যদি সুযোগ দেন, জামায়াতে ইসলামী ঢাকাকে একটি মানবিক ও বসবাসযোগ্য শহরে পরিণত করবে এবং জাতিকে একটি নিরাপদ ও কল্যাণরাষ্ট্র উপহার দেবে।’

তিনি আরও বলেন, এই পলিসি ডায়ালগ কেবল আলোচনা নয়, বরং ভবিষ্যৎ নগর পরিকল্পনার একটি বাস্তবভিত্তিক রূপরেখা।

প্রথম পর্বে ‘লেট আস বিল্ড টুগেদার লিভেবল, কেয়ারিং, গভর্নেবল, ফাংশনাল সিটিজ অ্যান্ড টাউনস’ শীর্ষক প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এ টি এম জিয়াউল হাসান। তিনি তথ্য-উপাত্তের মাধ্যমে ব্যাখ্যা করেন কীভাবে ঢাকাকে বসবাসযোগ্য ও মানবিক শহরে রূপান্তর করা সম্ভব।

তিনি বলেন, শুধু ঢাকা নয়-সিলেট, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বরিশাল, রাজশাহী, খুলনা ও রংপুর বিভাগকে পরিকল্পিত আধুনিক নগরীতে রূপান্তর করতে হবে। পাশাপাশি ৬৪টি জেলা ও উপজেলা শহরকে সহজ ও কার্যকর পরিকল্পনার মাধ্যমে সমৃদ্ধ করা সম্ভব।

এ সময় মানবিক ও বসবাসযোগ্য শহর গঠনের জন্য সাতটি মূল পিলার তুলে ধরা হয়-

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি নিরাপত্তা, সহজলভ্য আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা, মেধাভিত্তিক কর্মসংস্থান, পরিকল্পিত নগর উন্নয়ন, গৃহায়ন ও আবাসন ব্যবস্থা, পরিবেশ ও প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষা এবং অর্থনীতির পুনর্গঠন ও সচলতা।

দ্বিতীয় পর্বে ‘এ ন্যাশনাল ভিশন ফর লিভেবল অ্যান্ড হিউম্যান সিটি’ শীর্ষক আলোচনা পরিচালনা করেন এক্সিস ট্রায়াংগেল গ্রুপের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার শাহজাহান আলম।

তিনি বলেন, বিশ্বের ১৭৩টি সবচেয়ে খারাপ শহরের তালিকায় ঢাকার অবস্থান ১৭১তম। প্রতিবছর হকারদের কাছ থেকে প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা এবং বাস ও বেসরকারি যানবাহন থেকে প্রায় ১ হাজার ৫৯ কোটি টাকা চাঁদাবাজি করা হয়। এছাড়া ঢাকায় ৮২ শতাংশ নারী হয়রানির শিকার হন।

তিনি দাবি করেন, জামায়াত ক্ষমতায় এলে এসব অনিয়ম ও দৌরাত্ম্যের অবসান ঘটিয়ে ঢাকাকে একটি মানবিক ও নিরাপদ নগরীতে রূপান্তর করা হবে। সেখানে আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা, বিশুদ্ধ পানির সরবরাহ, ফায়ার সেফটি, গ্রিন পার্ক, হাঁটার উপযোগী পরিবেশ এবং ঢাকার চারপাশে নিরাপদ জলাধার ও যাতায়াত ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে। ট্রাফিক ব্যবস্থাও হবে যানজটমুক্ত ও সুশৃঙ্খল।

তৃতীয় পর্বে ‘বিল্ডিং টুগেদার’ শীর্ষক আলোচনায় বক্তব্য দেন পরিকল্পনাবিদ খন্দকার মো. আনসার হোসাইন, সাবেক সচিব ও বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্স (বিআইপি)।

তিনি বলেন, গবেষণা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ছাড়া নির্মিত এক্সপ্রেসওয়ে ও সড়ক অবকাঠামো পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করছে। এতে কৃষিজমির ক্ষয়, দুর্ঘটনা বৃদ্ধি এবং মানুষের জীবন ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে।

তিনি জানান, দেশের বাস্তবতা ও পরিবেশ বিবেচনায় প্রাণ ও প্রকৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সড়ক, জলাশয়, খাল-বিল, নদ-নদী ও ড্রেনেজ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে আধুনিক ও বিজ্ঞানসম্মত নগর গড়ে তোলা হবে। যেখানে নারী ও শিশুদের জীবন হবে নিরাপদ ও সম্মানজনক।

অনুষ্ঠানের তিনটি পর্বেই প্যানেল আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খ্যাতনামা পরিকল্পনাবিদ, প্রকৌশলী, শিক্ষাবিদ ও নীতিবিশেষজ্ঞরা। এতে দেশি-বিদেশি কূটনীতিক, গবেষক ও অভিজ্ঞ প্রকৌশলীবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন।