বাসস
  ২১ জুন ২০২৬, ২১:২৭

পঞ্চগড়ে শিশু হত্যা মামলায় যুবকের ১৭ বছরের জেল

ছবি: বাসস

পঞ্চগড়, ২১ জুন, ২০২৬, (বাসস): পঞ্চগড়ে পাঁচ বছর বয়সী শিশু মোবাশ্বের হোসেন অপহরণ ও হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত সিয়াম আহম্মেদ মিঠুকে (২২) মোট ১৭ বছরের কারাদ- দিয়েছেন আদালত।
একই সঙ্গে তাকে ৭০ হাজার টাকা অর্থদ- করা হয়েছে, যা ক্ষতিপূরণ হিসেবে নিহত শিশুর পরিবারকে প্রদান করা হবে। আজ রোববার পঞ্চগড়ের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক হুসাইন মুহম্মদ ফজলুল বারী এ রায় ঘোষণা করেন।

অভিযুক্ত সিয়াম আহম্মেদ মিঠুর বাড়ি বোদা উপজেলার বড়শশী ইউনিয়নের মৌলভীপাড়ায়। তার বাবার নাম আশিকুর রহমান স্বপন। ২০২০ সালের ১০ মে মিঠুর বিরুদ্ধে দেবীগঞ্জ উপজেলার চিলাহাটি ইউনিয়নের নায়েকপাড়া এলাকার আলম হোসেন বাদী হয়ে দেবীগঞ্জ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। তখন মিঠুর বয়স ছিল ১৬ বছর।

মামলায় উল্লেখ করা হয়, ২০২০ সালের ৮ মে দেবীগঞ্জ উপজেলার নায়েকপাড়া গ্রামের বাসিন্দা আলম হোসেনের পাঁচ বছর বয়সী ছেলে মোবাশ্বের হোসেন নিখোঁজ হয়। পরিবারের সদস্যরা অনেক খোঁজাখুঁজির পরও তার সন্ধান পাননি। পরে স্থানীয়দের মাধ্যমে জানা যায়, সিয়াম আহম্মেদ মিঠুর সঙ্গে নিখোঁজ শিশুটিকে সর্বশেষ দেখা গিয়েছিল।

জানা যায়, অভিযুক্ত ও নিহত শিশু একই এলাকার প্রতিবেশী ছিল। শিশুটি নিখোঁজ হওয়ার পর তার পরিবারের সদস্য ও এলাকাবাসীর সঙ্গে অভিযুক্তও খোঁজাখুঁজিতে অংশ নেয়। এমনকি শিশুটির সন্ধান চেয়ে এলাকায় মাইকিং করার কাজেও সে যুক্ত ছিল। ফলে শুরুতে কেউ তার ওপর সন্দেহ করেনি। পরে তদন্তে ঘটনার সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার তথ্য সামনে আসে।

এরপর নিকটবর্তী একটি বেতবাগান থেকে মোবাশ্বের হোসেনের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মামলার তদন্ত চলাকালে সিয়াম আহম্মেদ মিঠু বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে দেয়া জবানবন্দিতে ঘটনায় নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন। তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে।

মামলাটির বিচার চলাকালে রাষ্ট্রপক্ষের ২০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। সাক্ষ্য-প্রমাণ, সামাজিক অনুসন্ধান প্রতিবেদন এবং ভিকটিম ইমপ্যাক্ট বিবরণী পর্যালোচনা শেষে আদালত অভিযুক্তকে শিশু অপহরণ ও হত্যার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করেন।

রায়ে আদালত নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৭ ধারায় শিশু অপহরণের দায়ে ৭ বছরের আটকাদেশ ও ২০ হাজার টাকা অর্থদ-, অনাদায়ে আরও ৩ মাসের আটকাদেশ দেন। এছাড়া দ-বিধির ৩০২ ধারায় হত্যার দায়ে ১০ বছরের আটকাদেশ ও ৫০ হাজার টাকা অর্থদ-, অনাদায়ে আরও ৬ মাসের আটকাদেশ প্রদান করেন। আদালত নির্দেশ দেন, দুটি আটকাদেশ ধারাবাহিকভাবে কার্যকর হবে।

রায়ে আরও বলা হয়, অর্থদ- হিসেবে আদায়কৃত মোট ৭০ হাজার টাকা নিহত শিশু মোবাশ্বের হোসেনের মা সেলিনা বেগমকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে প্রদান করতে হবে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পঞ্চগড়ের জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

রায়ের প্রতিক্রিয়ায় নিহত শিশুর বাবা আলম হোসেন বলেন, আমার ছেলেকে যে হত্যা করেছে, সে আমাদের প্রতিবেশী ছিল। ছেলেকে খুঁজে না পেয়ে আমরা যখন দিশেহারা, তখন সেও আমাদের সঙ্গে খোঁজাখুঁজি করেছে, মাইকিং করেছে। কখনো ভাবিনি সেই-ই আমার সন্তানের ঘাতক। দীর্ঘ ছয় বছর পর আদালতের রায়ে আমরা কিছুটা হলেও ন্যায়বিচার পেয়েছি।

পঞ্চগড়ের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের অ্যাড. মো. খলিলুর রহমান বলেন, মামলায় উপস্থাপিত সাক্ষ্য-প্রমাণ, জবানবন্দি এবং পারিপার্শ্বিক আলামত পর্যালোচনা করে আদালত অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করেছেন। এটি একটি তাৎপর্যপূর্ণ রায়। আমরা এই রায়ে সন্তুষ্ট।