শিরোনাম

ঢাকা, ৭ জুন, ২০২৬ (বাসস) : শিশু রামিসা হত্যা মামলার বিচার শেষ করে দ্রুত রায় ঘোষণাকে ইতিবাচক উল্লেখ করে এরকম দৃষ্টান্তমূলক রায়ের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে বলছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীরা।
রামিসা হত্যা মামলার রায় পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, খুবই কম সময়ের মধ্যেই এই মামলার বিচার হয়েছে এবং আসামিদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এখন রায় হাইকোর্টে পাঠাতে হবে ডেথ রেফারেন্স কনফার্মেশনের জন্য। সব ফর্মালিটি কমপ্লিট করে রায় কার্যকর করতে হবে। দৃষ্টান্তমূলক কিছু শাস্তি কার্যকর না হলে সমাজে কিন্তু অপরাধ ছড়িয়ে পড়বে। আর শুধু এটা না, অন্য যে নির্মম ঘটনাগুলো ঘটছে বা ভবিষ্যতে ঘটলে সেগুলোর যেন অতি তাড়াতাড়ি চার্জশিট দেওয়া হয়, বিচার সমাপ্ত করা হয়Ñ একজন আইনজীবী ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি হিসেবে সে প্রত্যাশা থাকবে।
রামিসা হত্যা মামলায় দেওয়া দ্রুত বিচার প্রসঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার সালাউদ্দিন দোলন বাসসকে বলেন, আমি অবশ্যই আজকের এই রায়কে ইতিবাচকভাবে দেখি। আর এই হত্যার বিচারে কেউ বলতে পারবে না যে, বিচারিক প্রক্রিয়ায় তাড়াহুড়া করা হয়েছে অথবা দ্রুত বিচার করার কারণে কেউ তার আইনি অধিকার বঞ্চিত হয়েছে। আর ধর্ষণের মতো অপরাধ শিশুদের সঙ্গে যেটা হচ্ছে, তার জন্য এই সময়ে এভাবে দ্রুত বিচার করাটা আমি সমর্থন করি। কারণ, দীর্ঘ সময় ধরে যদি আপনি বিচার করেন তাহলে সেই বিচারের কার্যকারিতা (ইমপ্যাক্ট) আর থাকে না।
শিশু রামিসা হত্যার রায়কে দৃষ্টান্তমূলক উল্লেখ করে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার সাবরিনা জেরিন বাসস-কে বলেন, আমরা দেখলাম কত দ্রুতভাবে এবং আইনগত সব ধাপ মেনেই রামিসা হত্যাকান্ডের বিচার সম্পূর্ণ হলো। এই রায়ের মাধ্যমে এটা দেখা গেল যে, চাইলেই আইন মেনেই দ্রুত বিচার করা সম্ভব। সেদিক থেকে এটা একটা দৃষ্টান্তমূলক বিষয়। এরকম দ্রুত বিচারের ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে সমাজে অপরাধপ্রবণতা কমে আসবে।
রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় আসামি সোহেল রানা ও তাঁর স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে আজ মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন। মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি সোহেল রানাকে ৫ লাখ টাকা ও স্বপ্নাকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করেছেন আদালত।
গত ১৯ মে পল্লবীর একটি ভবনের ফ্ল্যাট থেকে শিশুটির খণ্ডিত লাশ উদ্ধার করা হয়। তার আগেই ফ্ল্যাটটির বাসিন্দা আসামি সোহেল শৌচাগারের গ্রিল ভেঙে পালিয়ে যান। তবে, বাসা থেকে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে ওই দিন সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে সোহেল রানাকে গ্রেফতার করা হয়। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা পল্লবী থানায় মামলা করেন।
গত ২০ মে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার। গত ১ জুন সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। এরপর চার্জগঠন, সাক্ষ্য গ্রহণ, আত্মপক্ষ সমর্থন ও যুক্তিতর্ক শেষে গত ৪ জুন রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেন আদালত।